সখীপুরে ভোটার তালিকা সংশোধন না করে তফসিল ঘোষণা

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের সখীপুরে নবগঠিত চারটি ইউনিয়নে আগামী ১৭ জুলাই ভোট গ্রহণ করা হবে।
ওই এলাকার ভোটার ও প্রার্থীরা বলেন, গত ২৩ মে প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকা ভুলে ভরা। এক ইউনিয়নের ভোটার অন্য ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ অবস্থায় সংশোধিত ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করার আগেই নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করায় তাঁরা হতাশ।
বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আতাউল হক নির্বাচনের এ তফসিল ঘোষণা করেন।
তিনি বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধন করার কাজ চলছে। শিগগিরই সংশোধিত চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।
উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও বড়চওনা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী আজহারুল ইসলাম বলেন, ভোটার তালিকা সংশোধন না করে তফসিল ঘোষণা করা ঠিক হয়নি। ভুল সংশোধন না হলে নির্বাচন বাদ দিয়ে ভোটারদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলবেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দুই বছর আগে উপজেলার কালিয়া ইউনিয়নকে ভেঙে বড়চওনা ইউনিয়ন ও হাতীবান্ধাকে ভেঙে হতেয়া-রাজাবাড়ী নামে দুটি নতুন ইউনিয়ন গঠন করা হয়।
খসড়া ভোটার তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, বড়চওনা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবপুর শাপলাপাড়া এলাকায় মোট ভোটার দুই হাজার ৩৭৫ জন। তালিকায় রয়েছে এক হাজার ৪৯৭ জন। বাকি ৮৭৮ ভোটারের মধ্যে ৭০০ জনের নাম ১০ কিলোমিটার দূরে কালিয়া ইউনিয়নের বাসারচালা উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে, ১৫০ জনের নাম ১৫ কিলোমিটার দূরে আড়াইপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এবং বাকি ২৮ জন ভোটারের নাম বড়চওনা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কুতুবপুর রওশন আলী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পদপ্রার্থী শাহাবুদ্দিন বলেন, এ ভোটার তালিকা অনুসারে নির্বাচন করতে হলে আমাকে আমার ইউনিয়ন বাদ দিয়ে ১০ কিলোমিটার দূরে বাসারচালা এলাকায় গিয়ে অচেনা গ্রামে নির্বাচন করতে হবে। কারণ, আমি ওই এলাকার ভোটার। ওই ভোটে আমার স্ত্রী আছিয়া বেগম ও আমার ছেলে আরিফ হোসেন আমাকে ভোট দিতে পারবে না। কারণ, তাঁরা বড়চওনা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার।
৭০ বছর বয়স্ক আবদুল হাই বলেন, তাঁর পরিবারের চারজন সদস্য শাপলাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের ভোটার। বাকি পাঁচজন ১০ কিলোমিটার দূরের অন্য ইউনিয়নের ভোটার।




