শিরোনাম

সকল বাধাকে ‘বালির বাঁধ’ বানিয়ে ঢাকায় ঢুকছেন পোশাক শ্রমিকরা

জেলা প্রসাশন ও জেলা পুলিশের কঠোর সতর্কতা, বৈরী আবহাওয়া, করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে রবিবারও পাটুরিয়া ঘাট দিয়ে ঢাকায় ফিরছেন হাজারও কর্মজীবী পোশাক শ্রমিক। গণপরিবহন বন্ধ থাকা সত্ত্বেও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কয়েকগুন বেশি টাকা খরচ করে সকাল থেকে তারা কর্মস্থলে ছুটে চলেছেন। সকালে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাটে ঢাকামুখী মানুষের এ স্রোত লক্ষ্য করা গেছে।
জেলা প্রসাশনের জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেও তাদের ফেরাতে সক্ষম হচ্ছেনা এসব মানুষদের। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকেও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দেওয়া হয়েছে যানবাহন প্রতিরোধক ব্যারিকেট। কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছেনা তাদের। গার্মেন্টস কর্মী ছাড়াও সঙ্গে যোগ দিচ্ছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক শ্রমিকর বলেন, কাজে যোগ দিতে তাদের মোবাইল ফোনে ক্ষুদেবার্তা এসেছে। না এলে কর্তৃপক্ষ ছাটাই করে নতুন লোক নেবে। তাই গত কয়েকদিন ধরেই রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের পোশাক কারখানায় যোগ দিতে ছুটছেন দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার হাজারও শ্রমিক।
রবিবার সকাল থেকেই পোশাক শ্রমিকদের ভিড় ছিল পাটুরিয়া ফেরিঘাট এবং ঢাকা আরিচা মহাসড়কে। ঘাট এলাকায় প্রশাসনের নজরদারি উপেক্ষা করে ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে গাদাগাদি করে কর্মস্থলে তারা ফিরেছেন। রিকশা, ভ্যান, মোটরসাইকেল, সিএনজি, অটোরিকশা, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস, পিকআপে চড়ে প্রায় চার থেকে পাঁচ গুণ বেশি ভাড়া দিয়ে আসতে হচ্ছে বলে তারা জানিয়েছেন।
শ্রমিকদের অভিযোগ, পাটুরিয়া থেকে নবীনগর ও গাবতলী পর্যন্ত গণপরিবহনে ৬০ থেকে ৯০ টাকা ভাড়ার বিপরীতে ওইসব গাড়ির চালকরা নিচ্ছেন ৫০০ টাকা। আর মোটরসাইকেলে দুইজনের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে এগারশ থেকে তেরশ টাকা।
ঝুঁকি নিয়ে কেন কর্মস্থলে ফিরছেন এ প্রশ্নের জবাবে পোশাক শ্রমিক সালেহার বলেন, ফ্যাকটরিতে না গেলে বেতন তো দেবেই না শুনেছি ছাটাই করবে। ঈদ আসতাছে পোলাপান নিয়ে কি খামু কি করুম! আমাগো কি বাড়ি বইসা থাকলে চলব! এবার যে কয়ডা টেকা বেতন পামু তার অর্ধেকই ঈদে যাওয়া আসা করবার যাইয়া ফুরাই যাইব।
ঢাকামুখি অরেক গার্মেন্টস কর্মী সালাম বলেন, পেটের দায়ে বাইর হইছি। ঘরে থাকলে কেউ আইসা খোঁজ খবর নিব না। পয় পুলাপান নিয়া বাইচা তো থাকতে হইব। গাড়ি চলে না নবীনগর পর্যন্ত সিএনজিতে যাইতে তিনশ টাকা ভাড়া চাইতাছে। আমার কাছে এত টেকা নাই, আমি পিকাপে দুইশ টেকা দিয়া খারায়া যামু।
বিআইডব্লিউটিসির ডিজিএম (ভারপ্রাপ্ত) জিল্লুর রহমান জানান, পাটুরিয়া দুটি রো-রো (বড় সাইজের ফেরি)-সহ চারটি ফেরি পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া রুটে চলাচল করছে। জরুরি পণ্যবাহী ট্রাক আর অ্যাম্বুলেন্স পারাপারের জন্য সীমিত আকারে ফেরি সার্ভিস চালু রাখা হয়েছে। গার্মেন্টসকর্মী সহ সাধারন মানুষের চলাচল বন্ধে তিনি পুলিশ প্রসাশনের হস্থক্ষেপ কামনা করেন।
পুলিশ সুপার রিফাত রহমান শামীম জানান, আমরা করোনা প্রতিরোধে জরুরি যাবাহন ছাড়া অন্য যান চলাচলে বাধা প্রদানের জন্য ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক সহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কের ১১টি স্পটে ব্যারিকেট বসিয়েছি। এখন সবাইকে সচেতন হতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ছাড়া কোনো দুর্যোগই মোকাবেলা করা সম্ভব নয়।
জেলা প্রসাশক এসএম ফোরদৌস জানান, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে অনেক আগেই আমরা জেলাকে লকডাউন ঘোষণা করেছি। পাটুরিয়া ঘাট ব্যাবহার করে এই জেলার ওপর দিয়ে ২২টি জেলার মানুষ যাতায়াত করে। করোনা প্র্রতিরোধে প্রসাশন সার্বক্ষনিক চেষ্টা করছে। কিন্তু পাটুরিয়া ঘাট দিয়ে পারাপাররত জনগণ কোনো বাধা কিংবা সচেতনতা বোঝার চেষ্টা করছে না।
ইত্তেফাক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button