সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে হত্যা মামলা দায়ের

নাটোর প্রতিনিধি : ঘটনার তিন বছর তিন মাস আগে এক ব্যাক্তির মৃত্যুর ঘটনায় আজ বৃহষ্পতিবার আদালতে নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বকুলসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে আরজি দাখিল করেছেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে আগামি ১৬ জুন আদেশের জন্য দিন ধার্য্য করেছেন।
বাগাতিপাড়া উপজেলার মাড়িয়া সরকার পাড়ার মৃত আইয়ুব আলীর স্ত্রী শাহানাজ পারভীন (৫০) বৃহষ্পতিবার দুপুরে বাগাতিপাড়া আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: আবু সাঈদ এঁর আদালতে অভিযোগটি দাখিল করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, মামলার প্রধানআসামি নাটোর-১(লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলামের নির্দেশে বাগাতিপাড়া উপজেলার অপর চার বাসিন্দা মহিদুল ইসলাম (৩৬), মিজানুর রহমান (৩৬), মাইনুল ইসলাম (৩২) ও আব্দুল মজিদ (৫৫) বাদির স্বামীকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যান। ওই দিন সকাল অনুমান ১০টার দিকে অন্যান্য আসামিরা তাঁর স্বামীকে প্রধান আসামি শহিদুল ইসলামের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে দেনাদার সাব্যস্ত করে শহিদুল ইসলাম তাঁর কাছ থেকে লিখিত কাগজ পত্র করে নেওয়ার হুকুম দেন। বাদির স্বামী তাতে আপত্তি করলে সংসদ সদস্য তাঁকে মারপিট করে বস্তায় ভরে নদীতে ফেলে দেওয়ার হুকুম দেন। এ সময় অন্যান্য আসামিরা তাঁকে মারপিট করেন। এতে বাদির স্বামী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে তাঁকে ভ্যানে করে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে সোহাগ আলী বাদি হয়ে বাগাতিপাড়া থানায় লিখিত এজাহার জমা দিলেও অদ্যাবধি তা মামলা হিসাবে নেওয়া হয়নি। পুলিশ নিহতের সুরতহাল তৈরি করেন এবং নাটোর আধুনিক সদরহাসপাতালে ময়না তদন্ত করে মৃতদেহ দাফনের অনুমতি দেয়। তবে অদ্যাবধি এ ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়নি বা বিচার শুরু করা হয়নি।
বাদি লিখিত এজাহারে জানান, প্রধান আসামি একজন সংসদ সদস্য হওয়ায় তাঁর চাপে এ ব্যাপারে এতদিন আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেননি। হেতু বিলম্বে মামলা করছেন।
আদালত লিখিত অভিযোগটি মামলা হিসাবে গ্রহণ করেন এবং আদেশের জন্য ১৬ জুন তারিখ নির্ধারণ করেন। বাদির আইনজীবী সুফি মোঃ মমতাজ রায়হান মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিজ্ঞ আদালত বাদির জবান বন্দি গ্রহণ করেছেন এবং আইনানুগ আদেশ প্রদানের জন্য দিন ধার্য্য করেছেন। আমরা আদেশের জন্য অপেক্ষা করবো।
এ ব্যাপারে সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলামের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি জানান, মামলার কথিত ঘটনার সাথে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নাই। তাছাড়া বিষয়টি বহু পুরাতন ও নিষ্পত্তিকৃত। তিনি রাজনীতি করেন। তাঁর প্রতিপক্ষ রয়েছে। সামনে নির্বাচন। নির্বাচনে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের জন্য তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করে অন্যায় ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।


