
পতাকা ডেস্ক : ৫ বছর পর পর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিবন্ধনের বিধান বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান বঙ্গদীপ এম এ ভাসানী। নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও সহজ করারও দাবি জানিয়েছেন তিনি সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে মওলানা ভাসানীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সমাবেশে তিনি এ দাবি তোলেন। ‘মওলানা ভাসানীর মন্ত্র, দারিদ্র বেকারত্ব দূরীকরণের গণতন্ত্র’ শিরোনামে সমাবেশটির আয়োজন করে ন্যাপ ভাসানী ও ভোটার মঞ্চ।
বঙ্গদীপ এম এ ভাসানী বলেন, আমাদের স্বাধীনতা এসেছে নিবন্ধন ছাড়াই। এ পর্যন্ত ৮টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে নিবন্ধন বাদ রেখে। একারণে ১০টি জেলা ও ২৫টি উপজেলা কমিটির বিধান রেখে রাজনৈতিক দলসমূহের নিবন্ধনের সুযোগ দিতে হবে। নিবন্ধন হলো চলমান প্রক্রিয়া ও হালনাগাদ। যেকোন সময় যেকোন দল তার শর্ত পূরণ করলে সে দল নিবন্ধন পাওয়ার দাবি রাখে।
সমাবেশ থেকে ১৭ নভেম্বর মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী ও ১২ ডিসেম্বর জন্মবার্ষিকী রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের দাবি জানানো হয়।
ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান আরও বলেন, এখানে ৫ বছর অন্তর অন্তর নিবন্ধনের বিধান বাতিল করতে হবে। ৩০০ আসনের প্রার্থী দেওয়ার মত যোগ্যতা সম্পন্ন দল পাশাপাশি ৩০টি আসনের নিচে প্রার্থী দেওয়ার দলসমূহের শর্ত কখনোই এক হতে পারে না। এখানে ভিন্নতা আনতে হবে। কাজেই নিবন্ধন প্রথা সহজ করার শর্তে সব দলের অংশগ্রহণ অনিবার্য হয়ে পড়েছে।
সমাবেশ থেকে আগামী নির্বাচন উপলক্ষে ন্যাপ ভাসানী ও ভোটার মঞ্চ পক্ষ থেকে ৭টি দাবি জানানো হয়।
দাবি গুলো হচ্ছে- নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত ও অর্থবহ করে তুলতে হলে এখনই অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে জনগণ ও সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্ত করে যৌথ অভিযান চালাতে হবে। ডি.সি ও ইউ.এন.ও এর পরিবর্তে জেলা ও উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তাকে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটানিং অফিসারের দায়িত্ব দিতে হবে।
কেন্দ্র দখল ও ভোট ডাকাতি রোধে আইন- শৃংখলা বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন দলের সমন্বয়ে ১০০ জন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দিতে হবে।
জাল ভোট রোধে রেশন কার্ডের মত ভোটার কার্ডের বিধান রাখতে হবে পাশাপাশি অনেক সময় পার্থী মনোনয়ন সঠিক হয় না। তাই “না” ভোটেরও বিধান পুনরায় চালু রাখতে হবে।
যারা দ্বাদশ সংসদের প্রার্থী হবে এখন থেকে তাদের প্রার্থী রেজিস্ট্রেশন করতে হবে ফলে যারা রেজিস্ট্রেশন করবে শুধু তারাই নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে।
স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেলায়ও ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর বাতিল করতে হবে।
জোটভুক্ত যেসকল দলসমূহ নির্বাচনে অংশ নিবে তাদের অবশ্যই নিজ নিজ দলের প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করতে হবে এবং দলীর বিকাশ, আদর্শ বজায় ও নেতাকর্মীদের উজ্জীবিত রাখতে মন্ত্রীত্বের লোভ পরিহার করতে হবে।
ন্যাপ ভাসানীর চেয়ারম্যান বঙ্গদীপ এম এ ভাসানী সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন। সঞ্চালনা করেন সংগঠনের মহাসচিব আবু সালেহ মোহাম্মদ সেলিম।




