জাতীয়শিরোনাম

শি জিনপিং-খালেদা জিয়া বৈঠক

ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশকে পাশে চায় চীন

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সাথে বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানে আজ শুক্রবার বিকেলে ৪০ মিনিটের বৈঠকে উন্নয়ন ও ভূ-রাজনীতির ক্ষেত্রে চীন যে ভূমিকা রাখছে, বাংলাদেশও তার পাশে থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন শি জিনপিং। বিএনপি চেয়ারপারসন বৈঠকে চীনকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে চীনের রাষ্ট্রপতির সাথে বেগম খালেদা জিয়ার আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ সব সময় আশা করে, চীন তাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সব সময় সহযোগিতা করবে ও পাশে থাকবে। একই সাথে চীনও আশা করে, চীনের যে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে চীন যে ভূমিকা পালন করছে বিশেষ করে উন্নয়ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সে বিষয়ে জোরালো সমর্থন জোগাবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে।
রাজধানীর হোটেল লা মেরিডিয়ানের ১৪ তলায় প্রেসিডেন্ট স্যুটে বিকেল ৫টা ৩৩ মিনিট থেকে ৪০ মিনিট স্থায়ী হয় বৈঠক।
খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব ছাড়াও অংশ নেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মাহবুবুর রহমান, নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান সাবিহ উদ্দিন আহমেদ ও চেয়ারপারসনের বিশেষ সহকারী অ্যাডভোকেট শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস। চীনের রাষ্ট্রপতির সাথে আসা কয়েকজন মন্ত্রী ও ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত মা মিং কিয়াং উপস্থিত ছিলেন বৈঠকে।
জানা গেছে, বৈঠকের পুরো সময়ই মূলত দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হয়। আনুষ্ঠানিক বৈঠকের শুরুতে বেগম খালেদা জিয়া চীনা প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশে আসার জন্য স্বাগত জানান। এরপর তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সূচিত চীন-বাংলাদেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক সম্পর্কের বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। বিএনপি সরকারের সময় চীনের উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
চীনের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিনির্মাণের ক্ষেত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, বৈঠকে বেগম খালেদা জিয়া উল্লেখ করেছেন চীনের সাথে বাংলাদেশের যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়, সেটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে। তার পর থেকেই বাংলাদেশের সাথে চীনের অকৃত্রিম সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। চীন বাংলাদেশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অকৃত্রিম বন্ধু।
বৈঠক শেষে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন নয়া দিগন্তকে বলেন, রাজনৈতিক কোনো বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়নি। পুরো সময়ই দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, বিএনপির সাথে চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। চীনা প্রেসিডেন্টও বিএনপির সাথে সুসম্পর্কের দিকগুলো স্মরণ করেছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button