খেলা

শিরোপার অপেক্ষায় থাকল আবাহনী

তামিম ইকবালের অসাধারণ ১৪২ আর সাকলাইন সজিবের ৭ উইকেটে প্রাইম ব্যাংককে ১১৫ রানে উড়িয়ে দিয়েছে আবাহনী। ট্রফিতে এক হাতও দিয়ে ফেলেছে তারা এই জয়ের মাধ্যমে।  বুধবার মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে জয়ের ফলে ১৫ খেলায় ২২ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপার সম্ভাবনা আরো উজ্জ্বল করলো আবাহনী। অপরদিকে এ ম্যাচে হরের ফলে ১৬ খেলায় ১৪ পয়েন্ট নিয়ে সবার নিচে রইল গত আসরের চ্যাম্পিয়ন প্রাইম ব্যাংক। প্রাইম দোলেশ্বর ও রূপগঞ্জ দুটি দলই সমান ২০ পয়েন্ট করে সংগ্রহ করেছে। তবে দোলেশ্বরের থেকে একটি ম্যাচ বেশি খেলেছে রূপগঞ্জ। আবাহনী ও দোলেশ্বরর মধ্যকার ম্যাচটি এখনো স্থগিত আছে। আর এ ম্যাচের ফলের ওপর ঝুলে আছে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা।

বুধবার প্রাইম ব্যাংককে হারিয়ে ১৫ খেলায় ২২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে থাকলেও ‘যদি’ ‘কিন্তু’র উপর দাঁড়িয়ে আবাহনীর শিরোপা জয়ের ব্যাপারটি। কারণ সুপার লিগের প্রথম রাউন্ডে আবাহনী-দোলেশ্বর স্থগিত ম্যাচটি নিয়ে সিদ্ধান্ত আসবে আজই। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন কিছুক্ষণ পর সংবাদ সম্মেলন করে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন।

যদিও ওই ম্যাচটি নতুন করে মাঠে গড়ালে শিরোপা-স্বপ্ন বেঁচে থাকবে প্রাইম দোলেশ্বর স্পোর্টিং ক্লাবের। বুধবার বিকেএসপিতে দোলেশ্বর শেষ রাউন্ডে লিজেন্ডস অব রুপগঞ্জকে হারিয়েছে ৭ উইকেটে। তাদের সংগ্রহ এখন ২০ পয়েন্ট। পুনরায় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হলে, আর তাতে জয় পেলে আবাহনীর সমান ২২ পয়েন্ট অর্জনের সুযোগ থাকবে দোলেশ্বরের। পয়েন্ট সমান হলে ‘হেড টু হেড’ তার পর ‘রান রেট’ বিবেচনায় যারা এগিয়ে থাকবে তারাই জিতবে শিরোপা। ১২ জুনের স্থগিত ম্যাচটির পয়েন্ট ১-১ ভাগ করে দেয়া হলে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে আজই শিরোপা জয়ের উৎসব করবে আবাহনী।

আজ বুধবার সকালে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন আবাহনীর অধিনায়ক তামিম ইকবাল। লিটন কুমার দাসকে নিয়ে ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নামেন আবাহনীর অধিনায়ক। তবে কোনো রান করার আগেই লিটন ফিরে গেলে চাপে পড়া আবাহনীর হাল ধরেন তামিম। পরে নাজমুল হোসেন শান্ত, দীনেশ কার্তিক ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে নিয়ে সামনে এগিয়ে যান বাঁহাতি এই হার্ডহিটার ওপেনার।

শান্তর সঙ্গে ৪৯ রান, কার্তিকের সঙ্গে ৪৭ রান করার পর মোসাদ্দেকের সঙ্গে ১৭৩ রানের জুটি গড়েন আবাহনীর অধিনায়ক। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৪২ রান করেন তামিম। ১৩২ বল মোকাবেলা ১১টি চার ও ৪টি ছক্কার সাহায্যে এ রান করেন তিনি। এ ছাড়া ৭৪ বলে ৩টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে ৭৮ রান করেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। তামিমের ১৩২ বলে ১৪২ রানের অনবদ্য ইনিংসের সঙ্গে তরুণ মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের অবদানও অনেক। লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের বিপক্ষে আগের ম্যাচেই করেছিলেন ৫৫ বলে ৭৩। সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এবার করলেন ৭৪ বলে ৭৮।

এমনকি ৯৭ রানে ৩ উইকেট পড়ার পর তামিম-মোসাদ্দেকের চতুর্থ উইকেট জুটিতে আসা ১৭৩-ই ৩০০ পার হওয়ার সিড়িতে তুলে দেয় ১৮তম লিগ শিরোপা জয়ের আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষায় থাকা আবাহনীকে। ৭ নম্বরে নেমে মাত্র ১০ বলে ২৬ রান করে ঝড়ের ঝাপটাটা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখেন আবুল হাসান রাজু।

ব্যাট হাতে তামিম বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন, নাকি মোসাদ্দেক, সেটা অবশ্য একটা প্রশ্ন। এবারের লিগে নিজের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির পথে ১১ বাউন্ডারির সঙ্গে চার ছক্কা তামিমের। মোসাদ্দেক তার চেয়ে দুটি ছয় বেশি মারলেও বাউন্ডারি মেরেছেন তিনটি। প্রাইম ব্যাংকের পক্ষে ৫৯ রানের বিনিময়ে ৩টি উইকেট পান উম্মুখ চাঁদ। এ ছাড়া রুবেল হোসেন ও নাজমুল হোসেন ২টি করে উইকেট পান।

আবাহনীর দেয়া ৩১৭ রানের বড় টার্গেটে ভালো সূচনার পরও ২০১ রানের বেশি করতে পারেনি প্রাইম ব্যাংক। সাব্বির রহমান-নুরুল হাসানদের বিপক্ষে এদিন ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন আবাহনীর বাঁহাতি স্পিনার সাকলাইন সজীব। একাই ৭ উইকেট নেন এই বাঁহাতি স্পিনার। সাকলাইনের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে প্রতিরোধের বাঁধ ভেঙ্গে পড়ে প্রাইম ব্যাংকের। পেসার তাসকিন আহমেদ নেন দুটি উইকেট।

শেষ পর্যন্ত ৩৭.২ ওভারে ২০১ রানে অলআউট হয়ে যায় প্রাইম ব্যাংক। যদিও ওপেনিং জুটির ৭২ রান পর্যন্ত সাবলীল ক্রিকেট খেলেছে প্রাইম ব্যাংক। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬৯ রান করেন ওপেনার মেহেদি মারুফ।

শেষ দিকে শুভাগত হোমের ব্যাট থেকে আসে ৫১ রান। সাকলাইস সজীব ৫৮ রানে ৭টি এবং ২টি উইকেট পান তাসকিন আহমেদ। অনবদ্য ১৪২ রানের জন্য ম্যাচসেরা হয়েছেন আবাহনীর অধিনায়ক তামিম ইকবাল। সুত্র: নয়াদিগন্ত

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button