sliderশিক্ষাশিরোনাম

শিক্ষার্থী-ব্যবসায়ী-শিক্ষকের বৈঠক নিউমার্কেট এলাকার দোকান খোলার সিদ্ধান্ত

পতাকা ডেস্ক : দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা বৈঠকের পর আজ থেকে নিউ মার্কেট এলাকার সকল দোকান খুলবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে দোকান মালিক সমিতি। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান নেহাল আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।
বুধবার রাত ১২টায় বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদে (সায়েন্স ল্যাবরেটরি) সমঝোতা বৈঠকে যায় শিক্ষার্থীদের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল। এই বৈঠকে ব্যবসায়ীদের চারজন প্রতিনিধির সঙ্গে স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাসহ ঢাকা কলেজের শিক্ষকরা যুক্ত হন। বৈঠক শেষে ভোর রাত ৪টায় এক সংবাদ সম্মেলনে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের ১০ দফা দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ছাত্রদের দাবিগুলোর প্রতি আমাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে। তাদের প্রায় সব দাবিই যৌক্তিক। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে তাদের দাবিগুলো মানা হয়েছে।
তিনি বলেন, ছাত্রদের যৌক্তিক দাবি পূরণের চেষ্টা করা হয়েছে। দুষ্কৃতদের দ্রুত চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে। ছাত্র, শিক্ষক ও দোকান-মালিক সমিতি মিলে মনিটরিং সেল গঠন করা হবে। যেকোনো বিষয়ে মনিটরিং সেলের কাছে অভিযোগ জানালে তার ব্যবস্থা নেয়া হবে। আগামীকাল থেকে এই এলাকায় স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে।
উস্কানিদাতাদের তদন্তের মাধ্যমে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, নিহত নাহিদসহ আহতদের পরিবারের সাথে ব্যাবসায়িক প্রতিনিধিরা দেখা করে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করবেন। অ্যাম্বুলেন্সের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কর্মচারীদের আচরণগত বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান কবেন ব্যবসায়ী সমিতি। তারা কোনো ভুল করলে তৎক্ষণাৎ সমিতিকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি। নারী ক্রেতাদের হয়রানি বন্ধে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থা করবেন দোকান মালিক সমিতি। প্রতিটি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নিকট পরিচয়-পত্র থাকবে। শিক্ষকদের হামলার সাথে যারা জড়িত তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী শাস্তির ব্যবস্থা নেবেন।
পুলিশরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, এমন ন্যক্কারজনক ঘটনা যেন আর না ঘটে সেজন্য আমরা যৌক্তিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছি। আমরা ফর্মাল ইনকুয়ারি করবো। যেখানে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তা তদন্ত করে আমরা ব্যবস্থা নেব। সকল সাক্ষ্যপ্রমাণ আমাদের হাতে চলে এসেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বিষয়ে তৃতীয় স্বার্থান্বেষী মহল জল ঘোলা করার চেষ্টা করছে। তাদেরকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা চলছে। আমরা সময়মতো তা প্রকাশ করবো। ব্যবসায়িক, ফুটপাত ও হকারকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির যে ব্যবস্থা রয়েছে তার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
বৈঠকে আরো কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সেগুলো হলো-
১. অ্যাম্বুলেন্সে হামলার ঘটনায় পুলিশ জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
২. রমনা জোনের ডিসি, এডিসি, নিউমার্কেট থানার ওসির বিরুদ্ধে ফর্মাল তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
৩. প্রতিটি মার্কেটের কর্মচারীদের আচরণ পরিবর্তনে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে মালিক সমিতি।
৪. নারী হয়রানী বন্ধে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করবে মালিক সমিতি।
৫. দোকান মালিক কর্মচারীদের ডিজিটাল আইডি কার্ড নিশ্চিত করা হবে।
৬. অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে কলেজ প্রশাসন, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী মালিক সমিতি মিলে সমন্বিত প্রতিনিধি টিম গঠন করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button