
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-অর-রশিদ দেশের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কলেজ অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের প্রতি ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়মিত হাজিরা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি গরহাজির শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রস্তুত করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তাদের অভিভাবকদের কাছে পাঠানোরও নির্দেশ দেন।
আজ বুধবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কলেজসমূহের প্রতি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি এ নির্দেশনা দেন।
ভিসি বলেন, যেসব কলেজে আবাসিক হোস্টেল রয়েছে, সেসব হোস্টেলে শিক্ষার্থীদের দৈনিক হাজিরা নিশ্চিত করার প্রতিও কঠোরতা আরোপের নির্দেশ দেন। প্রাইভেট শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে তিনি অভিভাবকদের নজরদারি বৃদ্ধি করার পরামর্শ দেন।
সহপাঠ কার্যক্রম (ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড) নিয়মিত আয়োজনের তাগিদ দিয়ে উপাচার্য উল্লেখিত সব নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করে তা স্ব স্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দ্বারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রসমূহকে অবহিত করারও নির্দেশ দেন।
তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কেন্দ্রসমূহকে এসব পদক্ষেপের বাস্তবায়ন মনিটরিং করার নির্দেশ দিয়ে অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি এ বিষয়টির বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টীম পাঠানোর আদেশ দেন।
বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের তরুণ শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ যেভাবে বিভ্রান্ত ও বিপথগামী হয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে, নিরাপরাধ মানুষের প্রাণহানি ঘটাচ্ছে, দেশের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করছে, নিজেদের পরিবারের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনছে এবং সর্বোপরি, নিজেদের জীবন বিপন্ন করছে, তা থেকে তরুণদের ফিরে আসার আহবান জানিয়ে ভিসি বলেন, হত্যা, খুন, সন্ত্রাস দ্বারা বাংলাদেশের সমাজ-রাষ্ট্রের মূলভিত্তিকে ধ্বংস করা কারো পক্ষে যে সম্ভব নয়, আমাদের ইতিহাস বারবার তা প্রমাণ দিয়েছে।
নৈরাজ্য, নৈরাশ্য, অন্ধত্ব ও বিপথগামীতার পথ থেকে সুস্থ চিন্তা ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। একইসাথে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ, শিক্ষক, পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অভিভাবকদের প্রতি শান্তি, সম্প্রীতি ও সুস্থ জীবন ধারার পক্ষে এবং সর্বপ্রকার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণেরও পরামর্শ দেন।
সূত্র : বাসস



