লামায় শীতার্থ মানুষের পাশে ফাস্ট এইড ফাউন্ডেশন

সংবাদ দাতা: শীতে প্রাণ বাঁচানো যাদের কাছে দায় আর উন্নত চিকিৎসা যাদের কাছে স্বপ্ন, তাদের পাশে এসেই দাঁড়িয়েছে ফাস্ট এইড ফাউন্ডেশন। পৌষ মাসে শীত। হিমেল হাওয়ায় জবুথবু হয়ে একটু উষ্ণতার জন্য সবাই গোল হয়ে বসে আছে, মাঝে জ্বলছে অগ্নিকু- এমনই দৃশ্য চোখে পড়েই শীত ঋতুতে। প্রচন্ড হাড় কাঁপানো শীত, কুয়াশায় কবু হয়ে পড়েছে পাহাড়ে মানুষের জনজীবন। প্রাকৃতিক পরিবর্তনের জের হিসেবে এই বাড়তি ঠান্ডা যেন হানা দিচ্ছে পাহাড়ে। কঠিন এমন এক সময়ে দরিদ্র মানুষেগুলোর শীতের উষ্ণতা পরশ দিতে দূর্গম পাহাড়ে ফাস্ট এইড ফাউন্ডেশনের ছুটে চলা।
২১ জানুয়ারি রবিবার সকাল ৮টায় ট্রলি যুগে নদী পথে ছুটে যাচ্ছিলাম বান্দরবান লামায় গজালিয়া ইউনিয়নে কোলাইক্যা পাড়ায়। দীর্ঘ দেঢ় ঘন্টা ছুটে চলার পর দেখা মিলে পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীদের। যাদের কাছে এক বেলা খাবার থেকেও একখণ্ড- শীতের কাপড় এখন যেন অনেক বেশি জরুরি। মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি বাঙ্গালি সম্প্রদায়ের মানুষরাও জরো হয়ে বসে আছে।
ট্রলি থেকে নেমেই কোলাইক্যা পাড়ার মধ্যে আমরা আমাদের কার্যক্রম শুরু করি। প্রথমে সেসব মানুষের মাঝে সচেতন মূলক কিছু কথা বলার পর ৪শত শীতবস্ত্র বিতরণ করি। অন্যদিকে উন্নত চিকিৎসা যাদের কাছে স্বপ্ন তেমন ৩শত রোগীকে চিকিৎসা সেবা ও বিনামূল্যে ঔষধ প্রদান করা হয়। কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বার্বিক সহায়তা প্রদান করেন লামায় গজালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ।
শীত বস্ত্র বিতরণে প্রধান অতিথি ছিলেন গজালিয়া ইউপি চেয়ারম্যান বাথোয়াইচিং মার্মা। এই সময় উপস্থিত ছিলেন ফার্স্ট এইড ফাউন্ডেশন এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা তাপস, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ উহ্লাওয়ান রাখাইন, ইউপি সদস্য উসাচিং মার্মা, সাংবাদিক মংছিংপ্রু, ফাস্ট এইড ফাউন্ডেশের সদস্য উথোয়াই মার্মা জয়, মানবতার সৈনিক সাইথোয়াই মারমা, সাইনু মারমা, মংথোয়াইয়ই মারমা, তরিফুল ইসলাম, মো. আরিফ সহ অন্যান্য সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
ফার্স্ট এইড ফাউন্ডেশনের এ মানবিক সহায়তা উদ্যোগকে সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে ঢাকা মেডিকেলের হৃদরোগ বিভাগের প্রফেসর মহসিন ও তাঁর বন্ধুরা এবং ফার্স্ট এইড ফাউন্ডেশনের পরিবার স্বার্বিক সহায়তা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ফাউন্ডেশন চেয়ারম্যান।




