লামায় এক দিল মোহাম্মদের ভূমি গ্রাসে আক্রান্ত কয়েকটি পরিবার

জাহিদ হাসান,বান্দরবান প্রতিনিধি : বান্দরবানের লামায় ভূমি বিরোধ তুঙ্গে। স্বার্থের কাছে পরাজিত মানবাধিকার, স্বার্থান্ধ এক দিল মোহাম্মদের ভূমি গ্রাসে আক্রান্ত বেশ কয়টি পরিবার। লামা পৌরসভা ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে দিল মোহাম্মদ পৈত্রিক সম্পত্তি থেকে মা, ভাই-বোনদের বঞ্চিত করে একাই ভোগ করছে বলে অভিযোগ তুলেছে মা-বোনেরা। দিল মোহাম্মদের বিরুদ্ধে আরো ৬ পরিবারসহ সমাজের কবরস্থান কমিটিও ভূমি দস্যুতার অভিযোগ তুলেছেন। চল্লিশ বছর আগে কোর্ট রেজি: করে দিল মোহাম্মদের পিতা থেকে চার পরিবার আড়াই একর জমি ক্রয় করে সেখানে বসবাস করছেন। কিন্তু সন্তানেরা পিতা কর্তৃক অন্যেদের নিকট বিক্রিত- ভোগ দখলীয় আড়াই একরসহ সমস্ত সম্পত্তি ওয়ারিশ সূত্রে নিজেদের নামে নামজারী করে নেয়। এর ফলে বিগত ৪০ বছর ধরে বসবাস করেও ক্রয়কৃত জমির দলিল করতে পারছেন না চারটি প্রান্তিক পরিবারের ওয়ারিশরা। অনুসন্ধানে জানাযায়, লামা উপজেলার ২৯৩ নং ছাগল খাইয়া মৌজা পশ্চিম রাবাড়ি গ্রামে ৩০০ ও ৮৮ নং খতিয়ান/ হোল্ডিং-এ ৭ একর ৬০ শতাংশ জমির মালিক জনৈক মোহাম্মদ আলী- প্রকাশ পেটান নামের এক প্রজা। ১৯৮৩ সালে মোহাম্মদ আলী থেকে কোর্ট রেজিষ্ট্রি (জমি বিক্রি বায়নানামা) যৌথ দলিলমূলে ৮৮ নং হোল্ডিং এর অংশ থেকে চার প্রজা মিলে আড়াই একর ৩য় শ্রেণির জমি ক্রয় করে দখল বুঝে নিয়ে সেখানে বসতি স্থাপন করেন পরিারগুলো। এ সব প্রজা ও তাদের জমির অংশ হলো, শাহ আলম এক একর, আব্দুর রহিম ৫০ শতক, মোঃ ইয়াছিন ৫০ শতক ও মোঃ হানিফ ৫০ শতক। ১৯৮৪ সালের ৪ঠা জানুয়ারি তৎকালীন লামা উপজেলা ভূমি রেজিষ্ট্রেশন অফিসার দলিল স্বাক্ষর করেন। তার কয়েক বছর পর বিক্রেতা মোহাম্মদ আলী মারা যায়। এর পর ক্রেতাদের ভোগ দখলে থাকা আড়াই একরসহ ২টি হোল্ডিং-এ মৃত মোহাম্মদ আলীর সমস্ত জমি তিন স্ত্রী, তিন ছেলে ও ছয় কণ্যার নামে ১৯৯৩ সালে ওয়ারেশি নামজারী করে নেয়। এদিকে ক্রয়সূত্রে ভোগ দখলীয় মালিকরা সবাই মৃত্যু বরণ করায়, বর্তমানে তাদের ওয়ারিশদেরকে ওই জমি থেকে উচ্ছেদের পায়তারা করছে বিক্রেতা মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে দিল মোহাম্মদ গং। ফলে নিঃস্ব হতে চলেছে প্রান্তিক শ্রেণির বেশ কয়েকটি পরিবার। বর্তমানে ওই পরিবারগুলোর ভেঙ্গে যাওয়া বসত ঘর মেরামত নির্মাণ ও সৃজিত গাছ গাছালি কাটতে দিচ্ছে না। অপরদিকে মৃত মোহাম্মদ আলীর ২য় ও ৩য় স্ত্রীদ্বয়সহ তাদের ২ কণ্যা ও এক ছেলের নামের প্রায় পৌনে তিন একর সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে, দিল মোহাম্মদ গং। মৃত স্বামীর সম্পত্তির দখল না পেয়ে অসহায় বিধবা লাইলা খাতুন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। একইভাবে পৈত্রিক সম্পত্তি দখল পাচ্ছে না দিলোয়া বেগম, রাসেদা বেগম ও লাইলা খাতুনের সন্তান আলমগীর। জানাগেছে, সহোদর দিল মোহাম্মদের ভয়ে প্রাণ বাঁচিয়ে আলমগীর দেশ ছেড়ে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থান করছেন। এছাড়া দিল মোহাম্মদ গং প্রতিবেশি আপন চাচাতো ভাই এজাহার নামের আরেকজনের এক একর পাহাড়ের অংশের জায়গা জোরপূর্বক দখল করার চেষ্টায়, সে জমির একাংশে একটি ঘর তুলে এজাহরের মালিকানায় সৃজিত সেগুন বৃক্ষ কেটে নেয়। এজাহারকে বর্তমানে তার নিজের পাহাড়ের অংশে কোনো কাজ করতে দিচ্ছে না তারা। অন্যদিকে প্রতিবেশি পাহাড়ের মালিক মৌলানা আনোয়ার হোসেন জানান, তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি সেগুন বাগানসহ পাহাড়ের একাংশ জবর দখল করছে দিল মোহাম্মদ গং। একইভাবে সমাজের কবরস্থানের ২১ শতাংশ জমি দখল করে, কবরের পবিত্রতা নষ্টের অভিযোগ উঠেছে দিল মোহাম্মদ গংদের বিরুদ্ধে।
গ্রামের মানুষ জানান, কথায় কথায় দিল মোহাম্মদ ও তার ২/৩ বোন স্ত্রীসহ এক সাথ হয়ে দা লাঠির মহড়া দেয়। কারো সাথে ঝগড়া হলে তারা নিজেদের শরীরকে ব্লেডদ্বারা রক্তাক্ত করে থানা পুলিশ ও আইন আদালতের আশ্রয় নেয়। স্থানীয় গ্রামবাসীরা আরো জানায়, বিগত দিনে এই ধরণের ভূমি বিরোধ সৃষ্টি করে একটি ঘটনায় লামা উপজেলার এক রাজনৈতিক নেতাকে ফাঁসিয়ে দেয়, দিল মোহাম্মদ গং। নাটক সাজিয়ে ওই ঘটনায় অন্যায় করেও রাজনৈতিক কারণে দিল মোহাম্মদ গং সেই মামলার ফলাফল নিজের অনুকুলে রাখতে সক্ষম হয়েছিল। গ্রামবাসীরা জানান, তার পর থেকে দিল মোহাম্মদ গং বেপরোয়া হয়ে মানুষের জমি জবর দখল করার নেশায় লিপ্ত হয়ে পড়ে। অনুসন্ধানকালে এ ব্যপারে দিল মোহাম্মদ সাংবাদিকদের নিকট কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
পরে অবশ্য নিজ থেকে জানান যে, চার পরিবারকে তাদের বাবার বিক্রিত জমি কিছু হলেও দিয়ে মৃত বাবাকে দায়মুক্ত করবেন। অন্যান্য মা, বোন ভাইয়ের জমিও দিয়ে দিবে, কিন্তু নামজারী রেজি: খরচ পরিশোধ করার শর্তে। এখানেও তার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলেন মা বোনেরা। তারা দাবি করেন যৌথ সম্পত্তি বিক্রির টাকা দিয়ে নামজারী রেজষ্ট্রি হয়েছে। কিন্তু এখন আবার কিসের খরচ চাইছে দিল মোহাম্মদ। তা ছাড়া তার আরেক ভাই মনির প্রবাস থেকে মুঠো ফোনে জানিয়েছে যে, ” আমি তিন চার মাসের মধ্যে দেশে ফিরেই সব ঝামেলা মিটিয়ে দেব”। এ ব্যপারে লামা পৌরসভার মেয়র জানান, পৌর বিরোধ নিস্পত্তি বোর্ড বিষয়টি দু’একবার তদন্ত করেছে। কিন্তু দিল মোহাম্মদ সমাজ মানে না।




