
পতাকা ডেস্ক : জন্মের পর থেকে জোড়া লাগা দুই বোন লাবিবা-লামিসাকে এখনই আলাদা করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তাদের প্রজনন অঙ্গ ও মলদ্বার খুব কাছাকাছি থাকায় একটি শিশুর শরীর ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই এখনই তাদের আলাদা করছেন না চিকিৎসকেরা।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সোমবার (১৩ ডিসেম্বর) সকাল আটটা থেকে অস্ত্রোপচার শুরু হয়। সাড়ে চার ঘণ্টা পর চিকিৎসকেরা অস্ত্রোপচার শেষ করেছেন। তাঁরা জানান, শিশু দুটিকে এখনই আলাদা করা সম্ভব হবে না। লাবিবা-লামিসাকে সকাল আটটার দিকে নিউরো সার্জারি অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। এরপর সকাল ৯টায় তাদের অ্যানেসথেসিয়া দেওয়া হয়।
অস্ত্রোপচার শেষে দুপুরে ঢামেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগের কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের এ কথা জানান হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. আশরাফুল উল হক কাজল।
তিনি বলেন, আজ আমরা প্রথম ধাপের অস্ত্রোপচার করেছি। মূল অপারেশনে যেতে আরেকটু সময় দরকার। আজ মূল ধাপের অপারেশন শুরু করলে শিশু দুটিকে বিচ্ছিন্ন করার পর লামিসার কিছু জটিলতার আশংকা ছিল। সেক্ষেত্রে নারী হিসাবে তার পূর্ণতা পেতে সমস্যা হতো।
তিনি বলেন, আশা করি শিশু দুটির যোনিদ্বার কোনো ইনজুরি ছাড়াই আমরা পৃথক করতে পারব। যোনিদ্বার পৃথক করার ৬-৮ সপ্তাহ পর মূল অপারেশন করা হবে। সেই পর্যন্ত লাবিবা-লামিসা আমাদের পর্যবেক্ষণে থাকবে।
এ বিষয়ে ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক বলেন, এটি একটি ক্রিটিক্যাল অপারেশন। আমাদের অনেক চিন্তা-ভাবনার বিষয় আছে। আমাদের এমনভাবে অপারেশন করতে হবে যেন তাদের অপারেশন-পরবর্তী কোনো ঝুঁকি না থাকে এবং অপারেশনের পর তারা স্বাভাবিক জীনবযাপন করতে পারে। আমরা সময় নিচ্ছি যাতে সর্বনিম্ন ঝুঁকিতে সর্বোচ্চ সফলতার সম্ভাবনা থাকে।




