লক্ষ্মীপুরে প্রথম করোনা রোগী ঢাকাফেরত পোশাক শ্রমিক

লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে ঢাকা থেকে আসা এক পোশাক শ্রমিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।
শনিবার গভীর রাতে করোনায় আক্রান্ত ওই ব্যক্তিকে উপজেলার দরবেশপুর ইউনিয়নের মাঝিরগাঁও গ্রামের শ্বশুরবাড়ি থেকে উদ্ধার করে রামগঞ্জ-লক্ষ্মীপুর স্বাস্থ্য বিভাগ ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করে।
শনিবার রাত ১০টার পর বিষয়টি জানাজানি হলে উপজেলার লোকজনদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ওই ব্যক্তির গ্রামের বাড়ি রামগঞ্জ উপজেলার দাসপাড়া গ্রামে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, করোনায় আক্রান্তের সত্যতা নিশ্চিতে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা অজ্ঞাত কারণে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
এছাড়া রোগীর বাড়িসহ কোনো বাড়ি লকডাউনের সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।
তবে আজ রবিবার সকাল সাড়ে ৮টায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার গুনময় পোদ্দার সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, গত তিনদিন পূর্বে আমরা ঢাকা থেকে গ্রামে আসা জ্বর ও কাশিতে আক্রান্ত এক ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহ করে লক্ষ্মীপুরে পাঠাই।
শনিবার রাতে করোনায় আক্রান্তের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ায় আমরা চেয়েছি তাকে উদ্ধার করে ঢাকায় রেফার করতে।
তবে বিষয়টি কেন গোপন রাখা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আসলে আমরা চেয়েছি আতঙ্ক যেন ছড়িয়ে না পড়ে।
করোনায় আক্রান্ত ওই ব্যক্তি প্রকাশ্যে ঘোরাফেরার পরও সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত কোনো বাড়ি লকডাউন করা হয়নি- সে ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি সে ঢাকা থেকে আসার পর কোথায় কোথায় গেছে, কাদের সাথে মিশেছেন তা জানার। তারপর আমরা সিদ্ধান্ত নেবো।
জেলা সিভিল সার্জন ডাক্তার আবদুল গফফার জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে রামগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এসময় তিনি জানান, জেলা বা রামগঞ্জ উপজেলা লকডাউনের ব্যাপারে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্থানীয় লোকজন জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় কাজ করেন। গত কয়েকদিন পূর্বে অসুস্থ অবস্থায় করোনায় আক্রান্ত লোকটি রামগঞ্জে এসে শ্বশুরবাড়ি মাঝিরগাঁও গ্রামের মদুর বাড়িতে অবস্থান করেন।




