রামোসে রক্ষা রিয়ালের

অধিনায়ক সার্জিও রামোসের শেষ মুহূর্তের গোলে আবারো রক্ষা পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। গত সপ্তাহে মৌসুমের প্রথম এল ক্ল্যাসিকোতে রামোসের গোলেই বার্সেলোনার সাথে ড্র নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল রিয়াল। আর গতকাল পিছিয়ে পড়েও স্টপেজ টাইমে রামোসের গোলে দিপোর্তিভো লা করুনার বিপক্ষে নাটকীয় জয় পেয়েছে গ্যালাকটিকোরা। এর মাধ্যমে সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৩৫ ম্যাচে অপরাজিত থাকার নতুন ক্লাব রেকর্ড গড়েছে ইউরোপীয়ান চ্যাম্পিয়নরা।
বিরতির পরে জোসেলুর দুই মিনিটের দুই গোলে মনে হচ্ছিল এপ্রিলের পরে প্রথম হারের স্বাদ হয়ত পেতে যাচ্ছে রিয়াল। এর আগে অবশ্য আলভারো মোরাতার গোলে এগিয়ে গিয়েছিল জিনেদিন জিদানের দল। সানতিয়াগো বার্নাব্যুতে কাল ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোকে বিশ্রামে রেখেছিলেন জিদান। কিন্তু তারপরেও রিয়ালকে লা লিগায় এগিয়ে নিতে রোনাল্ডোর সতীর্থদের চেস্টার কমতি ছিল না। রামোসের জয়সূচক গোলের ছয় মিনিট আগে মারিয়ানো দিয়াজ ম্যাচে সমতা ফেরান।
ম্যাচ শেষে রামোস বলেছেন, কেউ যখন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে তখন তার ফলও পাওয়া যায়। এটা আমাদের সেরা পারফরমেন্স ছিল না। আমরা বেশ কিছু ভুল করেছি যা করা উচিত হয়নি। কিন্তু শেষ দিকে আবারো ঘুড়ে দাঁড়ানোর সাহস দেখিয়েছি।
এর আগে ১৯৮৮/৮৯ মৌসুমে ডাচ কোচ লিও বিনহাকারের অধীনে রিয়াল লীগে ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত ছিল। এখন জিদানের অধীনে সেই ল্যান্ডমার্ককে ছাড়িয়ে গেল রিয়াল। এ প্রসঙ্গে জিদান বলেছেন, ‘৩৫ ম্যাচে অপারজিত থাকাটা মানসিক ভাবেও আমাদের শক্তিশালী করে তুলেছে। সার্জিও সত্যিকার অর্থেই আমাদের একজন বিশেষ খেলোয়াড়। কারণ এই ধরনের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। সে আমাদের অধিনায়ক, অনেকের কাছে সে দলের প্রাণ।’
আগামী সপ্তাহে ক্লাব বিশ্বকাপে জাপান সফরের কথা মাথায় রেখে জিদান বেশ কয়েকটি পরিবর্তন করে মূল একাদশ সাজিয়েছিলেন। রোনাল্ডোর পাশাপাশি কাল দলের বাইরে ছিলেন করিম বেনজেমা ও লুকা মোদ্রিচ। বিরতির আগে রিয়ালের পিছিয়ে না পড়াটা অনেকটাই ভাগ্যের ওপর নির্ভর ছিল। সেলসো বোরগেসের হেড পোস্টে লাগার পরে ফিরতি বলে গুইলহারমের শট বাইরে চলে গেলে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় রিয়াল। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পরে ৫০ মিনিটে আলভারো মোরাতা ২৫ গজ দুর থেকে দূর্দান্ত শটে গোল করলে মাদ্রিদ এগিয়ে যায়। কিন্ত দুই মিনিটের মধ্যে স্টোক সিটি থেকে ধারে আসা ফরোয়ার্ড জোসেলু আকস্মিকভাবে পুরো ম্যাচের চেহারা পাল্টে দেন। দিপোর্তিভোর হয়ে এটাই ছিল জোসেলুর প্রথম গোল। পিছিয়ে পড়ে হঠাৎ করেই যেন খেই হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা। কাউন্টার এ্যাটাক থেকে জোসেলুর আরেকটি শট কেইলর নাভাস কোনরকমে রক্ষা করেন। বার্নাব্যুর ভিআউপি বক্স থেকে তখন রোনাল্ডোর হতাশামাখা চেহারাটাই চোখে পড়েছে। কোনভাবেই সতীর্থদের সহযোগিতা করতে না পারার হতাশা তার চোখে ছিল স্পষ্ট।
রোনাল্ডোর অনুপস্থিতিতে মূল একাদশে সুযোগ না পেলেও ৭২ মিনিটে ইসকোর পরিবর্তে মাঠে নেমেই জিদানের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন মারিয়ানো। ৮৪ মিনিটে লুকাস ভাসকুয়েজের ক্রসে দারুণ এক হেডে রিয়ালের পক্ষে সমতা ফেরান ডোমিনিকান রিপাবলিকের এই স্ট্রাইকার। পোলিশ গোলরক্ষক প্রিজমাস্ল টাইটন এরপর পোস্টের সাথে লেগে ইনজুরিতে পড়লেও ম্যাচ ছেড়ে দেননি। তবে সটপেজ টাইমে টনি ক্রুসের ক্রস থেকে শক্তিশালী রামোসের হেড আর আটকানোর সামর্থ্য ছিল না টাইটনের।




