মোঃ আব্দুর রব মনসুর, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: ভিডিও বানানো কোনো দোষের কিছু নয়, আমি তো আর চুরি, ডাকাতি বা দুর্নীতি করছি না—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের পারিবারিক রান্নার ভিডিও নিয়ে ট্রোল ও সমালোচনার জবাবে অত্যন্ত সাধারণ ও সাবলীল ভঙ্গিতে এভাবেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন বাংলা গানের কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনক চাঁপা। নব্বইয়ের দশক থেকে আজ অবধি সুমধুর কণ্ঠ দিয়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে স্থায়ী আসন তৈরি করে নেওয়া এই প্রখ্যাত শিল্পী সংগীত ও সাহিত্যের পাশাপাশি পারিবারিক ও রন্ধনশিল্প ভিত্তিক কনটেন্টের মাধ্যমেও প্রায়শই ভক্তদের সঙ্গে যুক্ত থাকেন। সম্প্রতি এক ভিডিওতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক মন্তব্যের বিপরীতে তাঁর এই সাহসী ও স্পষ্ট মন্তব্য ভক্তদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
কনকচাঁপা ১১ সেপ্টেম্বর, ১৯৬৯, সালে ঢাকায় জন্ম গ্রহণ করেন। কিন্তু তার দাদা বাড়ী সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে মাইজ বাড়ি ইউনিয়নের মুন্সিবাড়ি । তবে কনক চাঁপা বেড়ে উঠেছেন ঢাকায়। তার বাবা আজিজুল হক মোর্শেদ। পাঁচ ভাই বোনের মধ্যে কনক চাঁপা তৃতীয়। এক সংগীতানুরাগী পরিবারে জন্ম নেওয়া কনক চাঁপার সংগীত যাত্রা শুরু হয়েছিল পারিবারিক আবহ ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মধ্য দিয়ে। আশির দশকের শেষভাগ ও নব্বইয়ের দশকে চলচ্চিত্রে প্লেব্যাক গায়কীর মাধ্যমে তিনি দেশজুড়ে ব্যাপক পরিচিতি ও বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। বিশেষ করে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সংগীতে তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। তাঁর কণ্ঠে গাওয়া ‘তোমাকে চাই শুধু তোমাকে চাই’, ‘অনেক সাধনার পরে আমি পেলাম এমন একজন’, ‘নীল কাঁটাবন’, ‘যে প্রেম স্বর্গ থেকে এসে’ এবং ‘ভালো আছি ভালো থেকো’—এর মতো অসংখ্য কালজয়ী গান আজও কোটি মানুষের মুখে মুখে ফেরে।
সংগীত জগতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ কনক চাঁপা একাধিকবার মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ দেশি-বিদেশি অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। তবে কেবল কণ্ঠশিল্পী পরিচয়ের মধ্যেই তিনি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। কণ্ঠের জাদুর পাশাপাশি তিনি একাধারে একজন সফল লেখক, কলামিস্ট ও রন্ধনশিল্পী হিসেবেও নিজের বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। তাঁর প্রকাশিত গদ্য ও রান্নার বই পাঠকমহলে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। এর বাইরেও তিনি সক্রিয়ভাবে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই নিজের মেধা ও মননের পরিচয় দেওয়া এই গুণী শিল্পী সামাজিক মাধ্যমের নেতিবাচকতাকে পাশ কাটিয়ে সুস্থ বিনোদন ও সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে ভক্তদের হৃদয়ে তাঁর ভালোবাসার স্থানটি ধরে রেখেছেন।