slider

রাজাপুরে ব্রিজ কেটে ফেলায় দূর্ভোগ, থানায় মামলা

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃ ঝালকাঠির রাজাপুরে খালের উপরে ব্যাক্তিগত টাকায় নির্মিত কাঠের ব্রিজ কেটে ফেলায় দুর্ভোগ সৃষ্টির অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ২৭নং দক্ষিণ নারিকেলবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় গত ২৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। ব্রিজ কেটে ফেলাকে কেন্দ্র করে ২৬ নভেম্বর হামলার ঘটনা ঘটলে এতে মঞ্জুরা বেগম নামের এক নারী আহত হয়। এই ঘটনায় মঞ্জুরা বেগম বাদী হয়ে রাজাপুর থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ রেজোয়ান মৃধা ও চান মিঞা মৃধা নামের মামলার দুই আসামীকে আটক করে। আটককৃতরা ওই এলাকার আবুল খায়ের মৃধার ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, বারবাকপুর এবং রোলার বারানি খালের উপরে স্থানীয় হানিফ শরীফের ছেলেরা পারাপারের জন্য নিজস্ব অর্থায়নে একটি কাঠের ব্রিজ নির্মান করে যার অপর প্রান্তের জমির মালিক আবুল খায়ের মৃধা। ব্রিজ নির্মানের সময়ই আবুল খায়ের মৃধা’র পরিবার হানিফ শরীফের ছেলে জাকির শরীফকে বাধা দেয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ঝামেলার সৃষ্টি হলে স্থানীয় ইউপি সদস্য সহ স্থানীয়রা ৩ মাস ব্রিজটি ব্যবহারের জন্য বলে বিষয়টি সমাধান করে দিলে চলাচল অব্যাহত থাকে। কিন্তু গত ২৪ নভেম্বর রাতের আধারে আবুল খায়ের মৃধার জমির ভিতরে থাকা ব্রিজের অংশ কেটে ফেলে। পরে হানিফ শরীফের মেয়ে মঞ্জুরা বেগম ২৫ নভেম্বর সন্ধ্যায় তার বাবার বাড়ী যাওয়ার সময় পথে ব্রিজের একাংশ কাটা দেখে গালমন্দ করলে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে মঞ্জুরা বেগম আহত হয়। পরে ২৬ নভেম্বর মঞ্জুরা বেগম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে আবুল খায়ের মৃধার দুই ছেলেকে আটক করে পুলিশ।

অভিযোগকারী জাকির শরিফ বলেন, আমার বাবা অসুস্থ থাকায় আমার বাড়ির সামনে একটা ব্রিজ নির্মান করি। যার অপর মাথা সরকারি রাস্তা। কিন্তু সরকারি জায়গা স্থানীয় আবুল খায়ের মৃধা এবং তার ছেলেরা নিজেদের দাবি করে আমাদের চলাচলে বাধা দিয়ে ব্রিজটি কেটে ফেলে। আমরা জিজ্ঞেস করলে আমার পরিবারের উপরে হামলা চালায়। হামলায় আমার বোন আহত হলে রাজাপুর থানায় মামলা দায়ের করে।

আবুল খায়ের মৃধার ছেলে ইসমাইল মৃধা বলেন, আমাদের বাড়ির সামনে আমাদের জায়গায় তাদের বাড়ির নির্মান কাজ করার জন্য মালামাল নিবে বলে একটা ব্রিজ করতে চাইলে মানবিক কারনে আমরা মেনে নেই। কিন্তু কাজ সমাধান হওয়ার পরেও ব্রিজ না ভেঙ্গে চলাচল করতে চাইলে আমরা বাধা দেই। তখন তাদের সাথে ঝামেলা হলে স্থানীয় ইউপি সদস্য এবং এলাকাবাসী আরো ৩ মাস ব্যবহার করতে বলে কাগজে সাক্ষর রাখে উভয়ের। কিন্তু ৩ মাসের জায়গায় ৭ মাস হয়ে গেলেও ব্রিজ না ভেঙ্গে তারা চলাচল করতে থাকে। এ ঘটনায় আমার বাড়িতে লোক নিয়ে এসে হুমকি দিয়ে যায়। বর্তমানে আমার পরিবারের নামে একটি মিথ্যে মামলা দিয়ে হয়রানি করছে তারা।

এ ব্যাপারে রাজাপুর থানার এস আই বিপুল চক্রবর্তী বলেন, এ ঘটনায় থানায় এজাহার ভুক্ত মামলা হয়েছে। দুজন আসামি আটক করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button