রাজবাড়ী ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির নাম পাঠাতে ব্যাপক অনিয়ম
স্বরূপকাঠি(পিরোজপুরে) প্রতিনিধি : রাজবাড়ী ডিগ্রি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতির নাম নির্বাচানে ব্যাপক অনিয়ম, হুমকি ধামকির মধ্যে জবরদস্তি করে নাম পাঠাতে বাধ্য হয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ। এ দাবী করেছেন কলেজের একাধিক সদস্যসহ
প্রতিষ্ঠাতা ফকির নাসির উদ্দিন। রোববার কলেজ অফিসে সভাপতি নির্বাচনের জন্য জাতীয় বিশ^বিদ্যালয়ের কাছে নাম পাঠানোর উদ্দেশ্যে সভা আহ্বান করা হয়। সভায় সকল নির্বাচিত সদস্য উপস্থিত হলে সভার কার্যক্রম শুরুর সময় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব সিকদার সদলবলে কক্ষে প্রবেশ করেন। এসময় যারা সদস্য নন তাদেরকে বের হয়ে যেতে বলা হলেও চেয়ারম্যান সাহেব কিছু লোক নিয়ে সেখানে বসে থাকেন। এসময় অধ্যক্ষ মহোদয়ের কাছে আসা দুটি ডিওলেটার বের করে দেখান। একটি বর্তমান সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রানী সম্পদ মন্ত্রী শম রেজাউল করিম সাহেব অপরটি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা একেএমএ আউয়াল সাহেব। এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করা মাত্রই ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রব সিকদার তার ছেলে পলাশ সিকদারের নাম পাঠানোর জন্য বলেন। উপস্থিত সদস্য গন তাতে এতমত না হলে চেয়ারম্যান সাহেব ও তার লোকজন হুমকি দামকির মাধ্যমে জোর করে পলাশ সিকদারের নাম লিখতে বাধ্য করেন। একপর্যায়ে কলেজের একমাত্র প্রতিষ্ঠাতা ফকির নাসির উদ্দিনকে উদ্দেম্য করে নানা প্রকার অ¯্রব্যভাষায় কথাবার্ত বলতে থাকে এক পর্যায়ে প্রথমে পাটিকেলবাড়ী ফাড়ি পুলিশ পরে নেছারাবাদ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন। এবং ফকির নাসির উদ্দিন কে বাড়ী পৌছে দেন।
এবিষয়ে রাজবাড়ী ডিগ্রি কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ফকির নাসির উদ্দিনের স্বাক্ষাতকার নেওয়ার জন্য তার বাড়ীতে গেলে তিনি সাংবাকিদের জানান, স্বরূপকাঠির উপজেলার গুয়ারেখা ইউনিয়নে একক প্রচেষ্টায় তিনি ৪ টি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। স্বনামধন্য ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বর্তমানে দুর্বৃত্তের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে। লেখা পড়ার দিক থেকে প্রতিষ্ঠান গুলোর সুনাম গোটা উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছিল। সুনাম থাকলেও আজ তা ভুলুন্ঠিত হচ্ছে। কেবল আমাকেই নয় জমি, সামান্য অর্থ আর শ্রম দিয়ে যারা প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে তুলতে সহায়তা করেছেন আজ তারাও বিতাড়িত। অপর দিকে প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিষ্ঠায় যাদের কোন অবদানই বরং বিরোধিতাছিল সেইসব লোকজন এখন ঝেকে বসেছে প্রতিষ্ঠান গুলোতে। আর প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেই পরিচালনা কমিটি নিয়ে চলছে চরম বিরোধ।
ফকির নাসির উদ্দিন বলেন ১৯৯১ সালে বিএনপি মনোনয়নে এমপি হন সৈয়দ শহীদুল হক জামাল। ফকির নাসির উদ্দিন তার এপিএস হিসেবে নিয়োগ পান। শহীদুল হক জামাল এসময় রেড ক্রিসেন্রে চেয়ারম্যান হওয়ার সুবাদে এলাকার বিশেষ করে স্বরূপকাঠি অসংখ্য ছেলে মেয়ে চু-চাকুরির ব্যবস্থ্যা করেন। এক পর্যায়ে এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে তিনি বিশাল পাটিকেলবাড়ী সরকারী
প্রথমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলেন। পরবর্তিতে এগার গ্রাম সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পাটিকেলবাড়ী মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এক পর্যায়ে তিনি গড়ে তুলেন রাজবাড়ী কলেজ এবং অল্প সময়ের মধ্যে তিনি ডিগ্রি কলেজে উন্নীত করেন। কিন্তু রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের কারনে মহল বিশেষ ওইসব প্রতিষ্টানের কর্তত্ব হাতে নেওয়ার লক্ষ্যে নানাবিদ অপচেষ্টা শুরু করে। এ চক্রের মুল হোতার ভূমিকায় রয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রনালয়ে চাকুরীরত মসিবুল হাসান (পিও)। যিনি যখন যে ভাবে প্রয়োজন সে ব্যবস্থা করে তার অপর এক ভাইমঈনুল হাসান (পিরোজপুর ভওকশনাল স্কুল এন্ড কলেজে চাকুরীরত) দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোর দখলদারীত্ব চালাচ্ছেন। প্রচুর অর্থ বৈভবের মালিক ওই কর্মকর্তা টাকা পয়সার
জোরে কিছু সংখ্যক ক্যাডার সৃষ্টি করে যাইেচ্ছে তা করে চলেছেন। গত সেপ্টেম্বর মাসে এগার গ্রাম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের লক্ষ্যে ভুলে ভরা ভোটার তালিকা তৈরি করে একব্যাক্তিতে একাধিকবার ভোটার করাসহ নানা অভিযোগে আদালতে মামলাও করা হয়েছে। ওই মামলার নির্দেশনা অমান্য করে বা উপেক্ষা করে ইচ্ছে মাফিক নির্বাচন করে একদিনের মধ্যে সভাপতি নির্বাচন করে একই দিনে বোর্ডে পাঠান। তৎসংলগ্ন সরকারী বিশাল পাটিকেলবাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক শ্রেনীর একটি সুন্দর সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচণে ঝেকে বসা মাতুব্বরদের সমর্থিত কোন ব্যাক্তি নির্বাচিত হতে পারেনি। এদের প্রতিদন্দি ৪ প্রার্থী বিজয়ী প্রার্থীদের এক তৃতীয়াংশ ভোট পান। নির্বাচিতরা সকলেই আওয়ামীলীগের সমর্থক। এরপর শুরু করেন অন্য খেলা। এখানে ওইচক্রের সাথে যুক্ত হন ইউনিয়ন চেয়ারম্যান (নৌকার বিপক্ষ) বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব সিকদার তিনি এবং তার মেয়ে রেবুর নিপুন হাতের ছোঁয়ায় শিক্ষক প্রতিনিধি নির্বাচিত করা হয় তাতেও কাজ না হওয়ায় তারা বেছে নেন বর্তমান সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রানী সম্পদমন্ত্রীকে। মন্ত্রীর এপিএস জুয়েল আহম্মেদের মাধ্যমে (শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের ওই কর্মী) মন্ত্রী মহোদেয়কে বুঝান যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা সব বিএনপির লোক সুতরাং শিক্ষানুরাগী হিসেবে ওই চক্রের নির্দেশনা মোতাবেক প্রধান শিক্ষক একই ঘরের দুজন ও অপর দুজন স্বামীস্ত্রীর নাম প্রস্তাব পাঠান। এদিকে নির্বাচিত ৪ জন সদস্য মন্ত্রী মহোদেয়ের সাথে ঢাকায় গিয়ে বিষয়টি জানানো সত্বেও আজ পর্যন্ত তিনি দু’জন শিক্ষানুরাগীর নাম দিতে পাছেন না। একটি এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসার ঘটাতে এ প্রতিষ্ঠান গুলো তৈরির
সময় আমাকে কখনো সভাপতি করবেন না বলে এলাবাসীর কাছে আবেদন জানান। সে কথাও তিনি রেখেছেন বলে জানান।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মোর্শেদ আলম বলেন,তেমন কোন ঘটনা ঘটেনি। তবে সামান্যহট্টগোল হয়েছি। আমি মন্ত্রীরডিওলেটার মোতাবেক নাম পাঠিয়ে দিয়েছি।
এসব অভিযোগ অস্বীকার করে গুয়ারেখাইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রব সিকদার বলেন মন্ত্রী ডিওলেটার দিয়েছেন সেটাই কার্যকরি করতে হবে বলে আমি দাবী করেছি। কোন প্রকার হুমকি ধামকির ঘটনা ঘটেনি।
নেছারাবাদ থানার অফিসার ইনচার্জ আবীর মো. হোসেন বলেন, সমস্যার খবর পেয়ে সাথে সাথে পাটিকেলবাড়ী ফাড়ির পুলিশ পাঠিয়েছি। এবং পরবর্তিতে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে কোন সমস্যা দেখতে পাইনি।




