sliderস্থানিয়

রাঙ্গামাটিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম সম অধিকার যুব আন্দোলনের প্রতিনিধি সম্মেলন

রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি: পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিদের সমান নাগরিক অধিকার নিশ্চিতকরণের দাবিতে রাঙ্গামাটিতে অনুষ্ঠিত হলো পার্বত্য চট্টগ্রাম সম অধিকার যুব আন্দোলন, রাঙ্গামাটি জেলা শাখার প্রতিনিধি সম্মেলন। বুধবার বিকাল তিনটায় শহরের বায়তুশ শরফ মাদ্রাসার মিলনায়তনে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান খান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের জেলা উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর কামাল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন Dialogue for Peace of CHT (DPC)-এর নির্বাহী পরিচালক এ্যাডভোকেট কামাল হোসেন সুজন, হেফাজতে ইসলাম রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি হাজী শরীয়ত উল্লাহ এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম সম অধিকার আন্দোলনের জেলা আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন।

সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন জেলা কমিটি গঠন করা হয়। এতে আহ্বায়ক নির্বাচিত হয়েছেন আসাদুজ্জামান খান এবং সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন আব্দুল মান্নান।

সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি বাঙালিদের প্রতি বৈষম্যমূলক আইন ও কাঠামো তৈরি করেছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এ্যাডভোকেট কামাল হোসেন সুজন বলেন। শান্তিচুক্তির মাধ্যমে উপজাতিদের বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হলেও একইসঙ্গে বাঙালিদের অধিকার সংকুচিত করা হয়েছে। প্রচলিত আইনে কোনো বাঙালি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হতে পারেন না, যা স্পষ্ট বৈষম্য।”
তিনি আরও বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত বাঙালিরা নিজেদের জন্মভূমিতেই অধিকার হারা নাগরিকে পরিণত হয়েছেন।

বক্তারা অভিযোগ করেন, চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল উপজাতীয় সশস্ত্র দলগুলোর অস্ত্র জমা দেওয়া। কিন্তু দুই যুগ পার হলেও এখনো বিভিন্ন গ্রুপ অস্ত্র জমা না দিয়ে তা ব্যবহার করছে চাঁদাবাজি, অপহরণ, গুম ও হত্যার মতো অপরাধে। এর ফলে সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

সম্মেলনে বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, বাংলার ইতিহাস হাজার বছরের। পার্বত্য অঞ্চল বাংলাদেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কোনো পশ্চিমা নীল নকশা কিংবা ভিন্ন পরিচয়ে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব খর্ব করার ষড়যন্ত্র সফল হবে না।
সম্মেলনে বক্তারা বাঙালিদের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠায় ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তারা সরকারের প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামে বৈষম্যমূলক আইন সংশোধন, অস্ত্রবাজ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবি জানান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button