
কিংবদন্তি রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী সাদি মহম্মদ আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৯ বছর। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার ভাই নৃত্যশিল্পী শিবলী মহম্মদ। তিনি জানান, সারাদিন ভালোই ছিলেন তিনি। তানপুরা নিয়ে সংগীত চর্চা করেছেন। কিন্তু সন্ধ্যার পর হঠাৎ দেখেন অনেকক্ষণ ঘরের দরজা বন্ধ। পরে দরজা ভেঙে তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেন। এদিকে নৃত্যশিল্পী ও শিল্পীর পারিবারিক বন্ধু শামীম আরা নীপা বলেন, ওনার মা মারা যাওয়ার পর থেকেই একটা ট্রমার মধ্যে চলে যান। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। মা হারানোর বেদনা সম্ভবত তিনি নিতে পারেননি। বুধবার রোজাও রাখেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বাদ জোহর তার নামাজে জানাযা অনুষ্ঠিত হবে। এরআগে, রাতে তার লাশ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়।
এ রিপোর্ট লেখার পর্যন্ত দাফনের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কিছুই জানানো হয়নি। পারিবারিকভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার পরে দাফনের বিষয়ে জানানো হবে বলে তাদের পারিবারিক সূত্র জানায়।
ইফতারের পরই নীরবে না ফেরার দেশে পাড়ি জমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে।
সাদি মহম্মদ রবীন্দ্রসংগীতের ওপরে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি একজন শিল্পী ও সুরকার। অসংখ্য রবীন্দ্রসংগীতের অ্যালবাম প্রকাশ হয়েছে তার কণ্ঠে। সঙ্গে আধুনিক গানও। এছাড়াও তিনি সাংস্কৃতিক সংগঠন রবিরাগের পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
২০১২ সালে তাকে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করে চ্যানেল আই। ২০১৫ সালে বাংলা একাডেমী থেকে পেয়েছেন রবীন্দ্র পুরস্কার।
১৯৭১ সালে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি তার বাবা সলিমউল্লাহকে হত্যা করে। তার বাবার নামে ঢাকার মোহাম্মদপুরের সলিমউল্লাহ রোডের নামকরণ করা হয়েছে। সাদি মহম্মদের ভাই শিবলী মহম্মদ বাংলাদেশের একজন কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পী।




