
রতন রায়হান, রংপুর: রংপুর মহানগরীর হারাগাছ থানাধীন ময়না কুঠি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড এলাকায় একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘর থেকে পুরনো ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন একটি রেক্সটন মডেলের গাড়ি উদ্ধারকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
বুধবার (৯ জুলাই) দুপুর আনুমানিক ২টা’র দিকে স্থানীয়রা টিনশেড ঘরের ভেতর একটি কালো রঙের গাড়ি খোলা অবস্থায় দেখতে পেয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে। প্রাথমিকভাবে গাড়িটি অবৈধ মনে হওয়ায় তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে অবহিত করে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেন এবং হারাগাছ থানা পুলিশ ও রংপুর মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা (ডিবি) কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে ডেকে আনেন।
পরে পুলিশ ও ডিবি’র যৌথ তদন্তে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া গাড়িটি সিলেট সদর উপজেলার শেখঘাট রোড এলাকার বাসিন্দা আলহাজ্ব মুদাসসির হোসেনের পুত্র সরোয়ার হোসেনের মালিকানাধীন। তিনি ময়না কুঠি এগ্রো ইন্ডাস্ট্রি লিমিটেড-এর চেয়ারম্যান। ২০১১ সালে কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের দূতাবাস থেকে তিনি গাড়িটি ক্রয় করেন। গাড়ির বিস্তারিত তথ্য হলো:-
মডেল: ২০০৬,
ব্র্যান্ড: Rexton Wagon Car
ইঞ্জিন নম্বর:- R1620163001,
চ্যাসিস নম্বর:- KPTHOB1956P-216041
সিসি: ৩২০০, রেজিস্ট্রেশন নম্বর:- DA21-025, ক্রয়মূল্য: ৫,৫০০ মার্কিন ডলার, তবে রেজিস্ট্রেশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর থেকে সরোয়ার হোসেন গাড়িটির রেজিস্ট্রেশন নবায়ন করেননি। ফলে গাড়িটি দীর্ঘদিন ধরে গ্যারেজে পড়ে ছিল। সম্প্রতি তিনি গাড়িটি তার ম্যানেজারের মাধ্যমে পার্টস আকারে বিক্রির সিদ্ধান্ত নেন। বিক্রির উদ্দেশ্যে গাড়িটি খুলে রাখা হয় এবং বুধবার দুপুরে রংপুর-ন-১১০৯৩১ নম্বর পিকআপ ভ্যানে করে স্থানান্তরের সময় স্থানীয়দের সন্দেহে পুরো পরিস্থিতি তৈরি হয়। বর্তমানে গাড়িটির মালিক সরোয়ার হোসেন কানাডা প্রবাসী। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ তৎপরতার ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার জন্য।




