তিনি যৌনকর্মীর সন্তান। জন্ম আর বেড়ে ওঠাও তার যৌনপল্লীতে। ছোটবেলা থেকেই মানুষের কটু কথা আর বাঁকা চাহনির শিকার হয়েছে। কিন্তু অদম্য সিন্টু বাগুই কখনও নিরাশ হননি।
২৭ বছর বয়সী এই মানুষটি এখন আদালতের বিচারক। ৯ মার্চ তিনি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শ্রীরামপুরে লোক-আদালতে বিচারকের আসনে বসলেন।
সিন্টু বলেন, ‘যৌনকর্মীর সন্তান এবং রূপান্তরকামী হিসেবে সম্ভবত আমিই প্রথম এই দায়িত্ব পালন করলাম। আত্মবিশ্বাস বাড়ল।’
জমে থাকা কিছু মামলা, লঘু অপরাধ এবং মামলার পূর্বাবস্থায় থাকা বিষয়ের নিষ্পত্তি হয় লোক আদালতে। সাবেক বা বর্তমান বিচারক, আইনজীবী ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সাধারনত এর বিচারক হন।
সম্প্রতি হুগলি জেলা আইনি পরিসেবা কর্তৃপক্ষ সমাজকর্মী হিসেবে সিন্টুকে বিচারকের আসনে বসার প্রস্তাব দেয়। শ্রীরামপুরে লোক আদালতের পাঁচটি বেঞ্চ বসেছিল। তার একটির বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সিন্টু।
দেড় বছর আগে এখানেই লোক আদালতের বিচারক ছিলেন রূপান্তরকামী শ্যাম ঘোষ। শনিবার সিন্টুর সঙ্গে ছিলেন ‘ডালসা’র সচিব অনির্বাণ রায় ও আইনজীবী অংশুমান চক্রবর্তী।
অনির্বাণ বলেন, ওই বেঞ্চে বিএসএনএল সংক্রান্ত প্রায় আড়াই শ’ বিষয়ের বেশির ভাগই নিষ্পত্তি হয়েছে। সিন্টু অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন।
সিন্টু বলেন, ‘স্যার (অনির্বাণ) নিয়ম-কানুন শিখিয়ে দিয়েছিলেন। ভরসা রেখেছেন। কোনও অসুবিধা হয়নি।’
দশ বছর বয়স থেকে সিন্টুর মধ্যে ‘মেয়েলি’ ভাব বাড়তে থাকে। এ নিয়ে বাড়িতে অনেকের বাঁকা কথা শুনতে হয়েছে, মারধরেরও শিকার হয়েছেন। অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার পর জড়িয়ে পড়েন রূপান্তরকামীদের আন্দোলনে।
সূত্র : আনন্দবাজার



