slider

যেখানে সুঁই চলে না, সেখানে কুড়াল চালালেন ঘিওর এসিল্যান্ড

সোহেল রানা, মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বড়টিয়া ইউনিয়নের হিজুলিয়া ২নং ওয়ার্ডের মধ্যপাড়া গ্রামের নবীনের মুদি দোকান হতে মোমিন মোল্লার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা উন্নয়ন কাজ চলছিল। গত ৪ঠা এপ্রিল হঠাৎ করে ঘিওর এসিল্যান্ড গিয়ে মাটি ভরাটের যন্ত্রাংশ ভাংচুর করে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেন। এতে চরম বিপাকে পড়ে গেছে ঐ এলাকার জনসাধারণ। লাশ বা জরুরি মুহূর্তে ডেলিভারি রোগী হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না ঐ রাস্তার অভাবে। মানুষের বাড়ি বাড়ির উপর দিয়ে যাতায়াত করতে হয়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, গত প্রায় ৮০ বছরের গ্লানি নিয়ে অনেকটা অভিশপ্ত জীবন যাপন করছেন ঐ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা। ইতোপূর্বে স্থানীয়দের নিজস্ব অর্থায়নে রাস্তার কাজ করতে গিয়ে স্থানীয় রেশারেশির কারনে ঐ রাস্তার কাজে বাধা সৃষ্টি হয়। পরে এমপি নাঈমুর রহমানের স্মরণাপন্ন হন স্থানীয় লোকজন। এমপি মহোদয় রাস্তা নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে দিবেন বলে স্থানীয়দের আশ্বাস দেন। ইতোপূর্বে এমপি মহোদয়ের উপস্থিতির আগেই স্থানীয় লোকজন কয়েক দফা গ্রাম্য বৈঠকের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেন তারা নিজেদের কিছু কিছু টাকা দিয়ে রাস্তার কাজ সম্পন্ন করবেন। কিন্ত রাস্তার কাজের জন্য মাটির সংকুলান না থাকায় স্থানীয় হিজুলিয়া মধ্যপাড়া এলাকার মোঃ মোনায়েম খানের পুত্র মোঃ আইয়ুব আলী খান মুকুলের একটি মজা পুকুর থেকে মাটি দাবী করেন স্থানীয়রা। একদিকে মজা পুকুর থেকে মাটি উত্তোলন করা হলে পুকুরের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে এবং সবচাইতে বড় কথা ঐ এলাকার দীর্ঘ প্রায় ৮০ বছরের গ্লানি থেকে মানুষ রেহাই পাবে সেই বিবেচনায় লোকজনের দাবীর মুখে মাটি দিতে রাজি হন পুকুর মালিক মুকুল। পরে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট পুকুর সংস্করণের কথা বলে একটি আবেদন করেন। এরপর আবার রাস্তার কাজ শুরু করা হয়। এদিকে রাস্তার কাজ বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে ঘিওর এসিল্যান্ড জানান, কোন অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি ভাংচুর অভিযান পরিচালনা করেননি। ডিসি স্যারের আদেশক্রমে তিনি অভিযান পরিচালনা করেছেন। কিন্তু কে বা কারা মিথ্যা বানোয়াট বা ভুল তথ্য দিয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ করেছেন। সেই প্রেক্ষিতে তিনি অভিযান পরিচালনা করেছেন। এ বিষয়ে একই গ্রামের প্রভাবশালী মোঃ রেজাউল করিম উজ্জল দরজির বিরুদ্ধে রাস্তার কাজ বন্ধ করার পায়তারার অভিযোগ উঠে স্থানীয় লোকজনের মাঝে। পুকুর থেকে মাটি উত্তোলন করা হলে সুবিধার থেকে নিজের বেশি অসুবিধা বা ক্ষতির সম্মুখী হবেন বলে জানিয়েছেন পুকুর মালিক মোঃ আইয়ুব আলী খান মুকুল। এতে আশপাশের কারো কোন ক্ষতি হবে না বলেও তিনি জানান। গত ২০২১ সনের পর থেকে এ বিষয়ে বেশ কয়েকবার গ্রাম্য বৈঠক বসেছে। কিন্ত এ পর্যন্ত গত প্রায় বিশ বছর ধরে মাটি দেওয়ার কথা স্বীকার করেননি তিনি। কিন্তু এলাকার লোকজনের করুন দূরাবস্থা বিবেচনা করে তিনি মাটি দিতে স্বীকার করেন এবং নিজেই ঘিওর ইউএনও বরাবর একটি আবেদন জমা দেন। ঘিওর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল আলিম মিন্টু জানিয়েছেন, মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এ.এম নাঈমুর রহমান দূর্জয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে বড়টিয়া ইউনিয়নের অন্তর্গত হিজুলিয়া গ্রামের ছয়টি রাস্তার কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। মধ্যপাড়ার এই রাস্তাটি মেরামত করা হলে হিজুলিয়া গ্রামের পরিবেশ উন্নত হয়ে যাবে। তাই দেশের উন্নয়নের জন্য কাজটি করা জরুরী। এই রাস্তার উন্নয়ন কাজে বাধা দেওয়া ঠিক হয়নি। কৃষকলীগ নেতা মোঃ রেজাউল করিম উজ্জল দরজি জানিয়েছেন, হেনস্থা করার জন্য স্থানীয় কিছু লোকজন তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলেছে। তিনি এলাকার রাস্তার উন্নয়ন কাজে একমত। ঘিওর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ হামিদুর রহমান জানিয়েছেন, হিজুলিয়া মধ্যপাড়ার রাস্তার উন্নয়ন কাজের বিষয়টি এমপি মহোদয় অবগত রয়েছেন। তাই দেশের উন্নয়নের স্বার্থে সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে হিজুলিয়া মধ্যপাড়ার রাস্তার কাজ সম্পন্ন করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button