আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রে ভয়ঙ্কর আগুন টর্নেডোর হানা

২০২০ সালকে বলা হচ্ছে বিপর্যয়ের বছর। কোভিড মহামারি, ভূমিকম্প, পৃথিবীর খুব কাছ দিয়ে গ্রহাণু চলে যাওয়া, পঙ্গপালের উৎপাত, বন্যা, খড়া, দাবানল – যতরকম বিপর্যয় হতে পারে, প্রায় তার সবই দেখা গিয়েছে এই বছরে।
তবে সম্প্রতি আমেরিকায় ক্যালিফোর্নিয়ায় দেখা গেল সম্পূর্ণ নতুন ধরণের এক বিপর্যয় – ‘ফায়ার টর্নেডো’ বা আগুনের ঘুর্ণিঝড়।
জানা গেছে, এই অভূতপূর্ব ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার। ক্যালিফোর্নিয়ার চিলকুটের কাছে তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যে দাবানল শুরু হয়েছিল। তারপরই হঠাৎ এই দৃশ্য দেখা যায়।
মার্কিন আবহাওয়াবিদ ডন জনসন জানিয়েছেন, এই ক্ষেত্রে দাবানলের আগুন এত তীব্রতায় জ্বলছিল যে সেখানে প্রচন্ড তাপ উত্তাপ তৈরি হয়েছিল। তাতেই বাতাসে ঘূর্ণির সৃষ্টি হয়েছিল, ঠিক যেরকম বজ্রগর্ভ ঝড়ের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
দিনকয়েক আগেই একটি তীব্র গতির সোজা বায়ুর ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়েছিল আইওয়া, এলিনয় এবং ইন্ডিয়ানা প্রদেশের অনেকানি অংশ। ওই ঝড়ে চার জন নিহত হয়েছিলেন বহু বিলিয়ন ডলার মূল্যের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
রোববার ক্যালিফোর্নিয়ার ডেথ ভ্যালির তাপমাত্রা ছিল ৫৪.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা গত ৮৯ বছরে বিশ্বের যে কোনও অঞ্চলের সবচেয়ে উষ্ণ তাপমাত্রা হিসাবে পরিগণিত হচ্চে। আর তাপমাত্রা পরিমাপ করা শুরু হওয়ার পর থেকে এটি পৃথিবীর তৃতীয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
১৯১৩ সালে এই ডেথ ভ্যালিতেই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৫৬.৬৭। যা সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড বলে ধরা হয়। এরপর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ১৯৩১ সালে তিউনিসিয়ায় (৫৫ ডিগ্রি)।
তবে এই দুই ক্ষেত্রেই এই ভয়ঙ্কর তাপমাত্রা পরিমাপ করা হয়েছিল জুলাই মাসে। জুলাই মাসকেই পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণতম মাস হিসাবে ধরা হয়।
এইবার অবশ্য তৃতীয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রাটা এল অগাস্ট মাসের মাঝামাঝি। এটা জলবায়ু পরিবর্তনের একটা সঙ্কেত বলে মনে করছেন আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা।
আর তাতেই দেখা গেল এই অভূতপূর্ব আগুনের ঘুর্ণিঝড়। এশিয়ানেটনিউজ

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button