যাত্রী হয়রানি ও ঘুষ বাণিজ্যে মেতে উঠেছে ইন্ডিয়ান কাস্টমস কর্মকর্তারা

জাহিদ হাসান,বেনাপোল প্রতিনিধি : ভারতে ভ্রমণরত বাংলাদেশি পাসপোর্ট যাত্রীদের ভ্রমণ উদ্দেশ্যে গমণ এবং আগমনকালে নানা টালবাহানা করে ইন্ডিয়ান কাস্টমস হাউজের কর্মকর্তারা যাত্রীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অংকের ঘুষ আদায় করছে। তাদের চাহিদা মাফিক টাকা না দিলে পরতে হয় নানা হয়রানিতে।
এবিষয়ে বাংলাদেশী পাসপোর্ট যাত্রী ইব্রাহীম হোসেন বলেন, আমি বৃহস্পতিবার ভারতে ভ্রমন উদ্দেশ্যে কোন ভীর ছাড়ায় অল্প সময়ে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন পার হয় কিন্তু ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশনে প্রবেশের আগেই প্রায় তিন ঘন্টা নোম্যান্স ল্যান্ডে দাড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়। এ এক চরম ভোগান্তি। তার উপরে ইন্ডিয়ান ইমিগ্রেশনে প্রবেশের পর যাদের ব্যাগ বড় তাদেরকে ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা পিছনে ডেকে নানা কৌশলে টাকা আদায় করে। এরপর আমি নিজেও শনিবার ফেরার পথে ইমিগ্রেশনের বাহিরে ফিট করা সিন্টিগেটের চামচারা বলে ২০০ টাকা করে দিন কোন ঝামেলা ছাড়া কাস্টমস পার করে দেবো। আমি টাকা না দিয়ে ইন্ডিয়ান কাস্টমে প্রবেশ করি। পরে বুঝতে পারি ঐ চামচারা কৌশলে আমার ছবি তুলে ইন্ডিয়ান কাস্টমসের ভিতরে থাকা বহিরাগত আর এক চামচার কাছে ছবি তুলে পাঠিয়েছে। সে ঐ ছবি দেখে দেখে লোক গুলোর ব্যাগ আটকিয়ে ইমিগ্রেশনের পিছনের ছোট ঘরে আটকিয়ে ব্যাগ তল্লাশি সহ নানা হয়রানির ভয়ের মাধ্যমে টাকা দাবি করছে আমি সহ অনেকের কাছেই। আমার ব্যাগে আমার এক আত্মীয়োর পেসক্রিপশন সহ শুধুমাত্র অল্প কিছু ডায়াবেটিস ঔষধ ছিলো তাতেই নাকি অনেক সমস্যা। আমার সামনেই আর এক যাত্রীর কাছ থেকে কৌশলে এক ইমিগ্রেশন পুলিশ টাকা নেয়। আমি কোন উপায় না পেয়ে ৫০০ শত টাকা দিয়ে তাদের হাতে দিয়ে কোন মতে বের হয়ে আসি। যার ভিডিও আমার কাছে আছে।
এবিষয়ে বেনাপোলের আর এক পাসপোর্ট যাত্রী মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, আমি বিজনেস ভিসায় ইন্ডিয়া গিয়েছিলাম ফেরাত পথে আমার সাথে মেমো সহ একটা ইন্ডিয়ান নতুন মোবাইল থাকা সত্তেও তারা এটা জোড় গলায় চুরির মোবাইল দাবী করে নানা হয়রানির ভয় দেখিয়ে আমার কাছ থেকে ১ হাজার টাকা ঘুষ নিয়ে তারপর ছাড়ে।
প্রতিদিনই ভারত ভ্রমণ শেষে দেশে ফেরা শতশত যাত্রী ইন্ডিয়ান কাস্টমসের এই হয়রানির শিকার হচ্ছেন। প্রায় প্রত্যকেরই দাবী ভারতে ঢুকতে এবং দেশে ফেরার পথে ব্যাগ একটু বড় হলেই ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত তারা ঘুষ আদায় করে থাকে। আমরা কাস্টমসের এই হয়রানি এবং ঘুষ বাণিজ্যে থেকে রেহায় পেতে সাংবাদিক ভাইদের মাধ্যমে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করছি ।




