অপরাধশিরোনাম

মোহামেডানে জুয়ায় হারলে ক্ষতিপূরণ

জুয়া খেলে কেউ হেরে গেলো তাকে ক্ষতিপূরণ দেয়া হয় মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে। কি পরিমান ক্ষতিপূরণ দেয়া হয় তার একটি নোটিশ ক্লাবের সদর দরজায় লাগানো আছে।
ওই নোটিশে লেখা আছে, “১০ থেকে ৪৯ হাজার টাকা পর্যন্ত জুয়া খেলে কেউ হেরে গেলে তাকে ১০ শতাংশ টাকা ‘লুজিং’ হিসেবে ফেরত দেয়া হবে। একইরকমভাবে ৫০ থেকে ৯৯ হাজার টাকা পর্যন্ত জুয়া খেলে কেউ হেরে গেলে তিনি ১৫ শতাংশ ‘লুজিং’ আর ৩ শতাংশ কনভেন্স হিসেবে ফেরত পাবেন।
১ লাথ বা এর অধিক টাকার জুয়া খেলে কেউ হেরে গেলে ২০ শতাংশ ‘লুজিং’ আর ১ শতাংশ কনভেন্স হিসেবে ফেরত পাবেন।
আর ১০ হাজার টাকার কম জুয়া খেলে হারলে তাকে কোনো টাকা ফেরত দেয়া হবে না।”
ওই ক্লাবে অভিযানকালে পুলিশের সাথে সাংবাদিকরা প্রবেশ করলে নোটিশটি চোখে পড়ে। ওই নোটিশ আর ক্লাবে পাওয়া ক্যাসিনোর সরঞ্জাম দেখে বুঝাই যায় এখানে জুয়া খেলাটা কেমন রমরমা চলে।
২২ সেপ্টেম্বর, রবিবার মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবসহ ঢাকার মতিঝিল-আরামবাগ এলাকার চার ক্লাবে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে উদ্ধার কররা হয় ক্যাসিনোর সরঞ্জাম, মদ আর নগদ টাকা।
অভিযান চালানো অন্য ক্লাবগুলো হল- আরামবাগ ক্রীড়া সংঘ, দিলকুশা স্পোর্টিং ক্লাব, ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ক্লাব।
পুলিশের মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ কমিশনার শিবলী নোমান জানান, এর মধ্যে ভিক্টোরিয়া ক্লাব থেকে বিভিন্ন ধরনের জুয়া খেলার ৯টি বোর্ড, এক লাখ টাকা, বিপুল পরিমাণ তাস, জুয়ায় ব্যবহৃত চিপস ও মদ পাওয়া গেছে।
মোহামেডানে পাওয়া গেছে দুটো রুলেট টেবিল, ৯টি বোর্ড, বিপুল পরিমান কার্ড, ১১টি ওয়্যারলেস সেট ও ১০টি বিভিন্ন ধরনের চাকু।
আরামবাগ ও দিলকুশা ক্লাবেও বাকারা ও রুলেট টেবিলসহ বিভিন্ন জুয়ার সরঞ্জাম পেয়েছে পুলিশ। তবে সবগুলো ক্লাবই বন্ধ ছিল বলে পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
পুলিশের নাকের ডগায় কীভাবে এসব ক্যাসিনো এতদিন চলে আসছে সেই প্রশ্নের জবাবে পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ কমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘যখনেই আমাদের কাছে তথ্য এসেছে, তখনই আমরা অভিযান চালিয়েছি। এর আগেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবৈধ জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে।’

গত ১৮ সেপ্টেম্বর (বুধবার) অবৈধ জুয়া ও ক্যাসিনো চালানোর অভিযোগে র‍্যাবের হাতে আটক হন ঢাকা দক্ষিণ মহানগর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া। পরে অস্ত্র ও মাদকের পৃথক দুই মামলায় তাকে সাতদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
গত শুক্রবার রাজধানীর সবুজবাগ, বাসাবো, মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী ঠিকাদার হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমকে আটক করে র‍্যাব। এ সময় বেশ কয়েকটি আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক দ্রব্য ছাড়াও নগদ এক কোটি ৮০ লাখ টাকা, ১৬৫ কোটি টাকার ওপরে এফডিআর (স্থায়ী আমানত) করার নথি জব্দ করা হয়।
এছাড়া শুক্রবার রাতে রাজধানীর কলাবাগান ক্রীড়াচক্র ক্লাবে অভিযান চালায় র‌্যাব। এ সময় ক্লাবটির সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজের কাছে সাত প্যাকেট গন্ধহীন হলুদ রঙের ইয়াবাসহ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়। জব্দ করা হয় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি ক্যাসিনোতে খেলার কয়েন, স্কোরবোর্ড ও ৫৭২ প্যাকেট তাস। র‍্যাবের ধারণা, ক্লাবটি ক্যাসিনো খেলা হত।
একই রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি ক্লাবেও অভিযান চালানো হয়। তবে ক্লাবটি বন্ধ থাকায় সেখানে থাকা বারটি সিলগালা করে দেন র‍্যাব সদস্যরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button