
মৃত এক নারীর জরায়ু প্রতিস্থাপন করা হয়েছিলো জীবিত এক নারীর দেহে। সেই জরায়ুর মাধ্যমে এক স্বাভাবিক সুস্থ শিশুর জন্ম দিয়েছেন ওই নারী। ব্রাজিলের সাও পাওলোতে জরায়ু প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে শিশু জন্মের ওই গবেষণা চালান চিকিৎসকরা।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালে মৃত ওই নারীর দেহে ১০ ঘণ্টা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জরায়ু প্রতিস্থাপন করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘদিন গর্ভকালীন চিকিৎসা সেবার অধীনে ছিল ওই মরদেহে। অবশেষে সফলভাবে মৃত ওই নারীদেহ থেকে জীবিত একটি শিশু জন্ম নিয়েছে।
তবে শিশুটি জন্ম নিয়েছে আজ থেকে প্রায় এক বছর আগে। পরিকল্পনামাফিক তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটির জন্মের তথ্য প্রকাশ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকরা। এর আগেও মৃত নারীর দান করা জরায়ুতে সন্তান জন্ম দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে সে চেষ্টা ব্যর্থ হলেও এবার সফলভাবে শিশুর জন্মদানে সক্ষম হয়েছেন চিকিৎসকরা।
আগেও এ জরায়ু প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের চেষ্টা করেছিল চিকিৎসকরা। পরীক্ষামূলকভাবে মোট ৩৯টি নারীর জরায়ু প্রতিস্থাপন করা হয়। যার মাধ্যমে ১১টি শিশু জন্মদানের ঘটনাও ঘটেছে। কিন্তু সেগুলো নেওয়া হয়েছিল জীবিত মানুষের কাছ থেকে। এবারই প্রথম মৃত নারীর জরায়ু প্রতিস্থাপন করে সন্তান জন্মদানের ঘটনা ঘটলো।
ব্রাজিলের সাও পাওলোর ডাস ক্লিনিকাস হাসপাতালে ওই শিশুটির সফলভাবে জন্মদানে সক্ষম হওয়ায় উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা। হাসপাতালটির এক চিকিৎসক বলেন, ‘প্রথমবারের মতো কোনো জীবিত দাতার কাছ থেকে নেওয়া জরায়ু প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে সফলভাবে সন্তান জন্মদানের এই ঘটনা চিকিৎসাশাস্ত্রের জন্য বিশাল মাইলফলক। যথপোযুক্ত দাতা পেলে উপযোগী চিকিৎসাসেবা দেয়ার মাধ্যমে বন্ধ্যা অনেক নারীর সন্তান ধারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’



