খেলা

মুশফিকের ‘নাগিন ডান্সে’ তোলপাড় ক্রিকেটবিশ্ব

বাইশ গজে তার সেলিব্রেশন বরাবরই শিরোনামে থাকে। ২০১৬ সালের টি-২০ বিশ্বকাপে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের ঘটনা এখনো স্মৃতিতে টাটকা ক্রিকেটপ্রেমীদের। কথায় বলে, জেতার আগেই আনন্দ করতে নেই। ফলাফল যা হওয়ার তাই হয়েছিল বাংলাদেশের সঙ্গে। ধোনির ভারতের কাছে ১ রানে হেরেছিল মর্তুজারা। আর সেই ম্যাচে জয়ের আগেই মুশফিকুর রহিমের উল্লাস নিয়ে পরে বিস্তর কাটাছেঁড়া হয়েছিল।
বাইশ গজে বড্ড বেশি আবেগ দেখিয়ে ফেলেন বলে দুর্নাম আছে রহিমের। আর মাঠের মধ্যে সেলিব্রেশন তো আছেই। সব মিলিয়ে ক্রিকেটমহলে বেশ মজার চরিত্র মুশফিকুর। এখনো ভারতের সঙ্গে সেই ম্যাচে নিজের আচরণের জন্য আলোচনা হয় তাকে নিয়ে। কিন্তু এবার যেটা করলেন তা সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে।
নিদাহাস ট্রফিতে শনিবার শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক টি-২০ ম্যাচ জেতার পর অদ্ভূত আচরণ করলেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান। সাপের ভঙ্গিতে মাথায় দুহাত তুলে নাচলেন। যা বিনোদন জগতে বিখ্যাত ‘নাগিন ডান্স‘ নামে। ধারাভাষ্যকাররা মুশফিকুরের এই কোবরা ডান্সের ঝলক দেখে হেসে কুটিপাটি।
শনিবার খেলা চলছিল নিদাহাস ট্রফির। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রথমে ব্যাট করে ২১৪ রান তোলে। বিরাট এই রান করে জেতা তাও আবার শ্রীলঙ্কার মাটিতে, একপ্রকার অসম্ভবই বলছিলেন বিশেষজ্ঞরা। শ্রীলঙ্কা তাদের আগের ম্যাচেই রোহিতের ভারতকে হারিয়ে চমক দেয়। কিন্তু চান্ডিমলদের এই এই বিশাল রানের জবাবে দু’বল বাকি থাকতেই ম্যাচ ৫ উইকেটে জিতে যায় বাংলাদেশ।
এক ঐতিহাসিক জয় বাংলাদেশের কাছে। টি-২০ ক্রিকেটে এত বড় রান তাড়া করে জেতার নজির বাংলাদেশের নেই। সৌজন্যে মুশফিকুরের চওড়া ব্যাট। ৩৫ বলে ৭২ রানের ধামাকাদার ইনিংস। ৪টি ছক্কা ও ৫টি চারে সাজানো ইনিংসের দৌলতেই জয় ছিনিয়ে নেয় বাংলাদেশ। ২০তম ওভারের চতুর্থ বলে শ্রীলঙ্কার থিসারা পেরেরার বলে চার হাঁকিয়ে দলকে জয় এনে দেন মুশফিকুর।
তারপরই সেই নাগিন ডান্স। জেতার আনন্দে আবেগ চেপে রাখতে পারেননি ৩০ বছর বয়সি ক্রিকেটার। দলের অন্যরা বলছেন, টানটান ম্যাচ জেতার পর একটু-আধটু এমন সেলিব্রেশন চলতেই পারে। এই ম্যাচের পর ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে সব দলেরই একটি করে ম্যাচ জেতা হয়ে গেল। সুতরাং বলাবাহুল্য, প্রতিযোগিতা জমে উঠেছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button