মিয়ানমারে ভূমিকম্প:১৭০টি মন্দির ক্ষতিগ্রস্ত

বুধবার মিয়ানমারে আঘাত হেনেছে রিখটার স্কেলে ৬.৮ মাত্রার ভূমিকম্প। এতে মারা গেছেন অন্তত তিনজন। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্তত ১৭০টি মন্দির। এগুলোর মধ্যে একদম ধ্বংস হয়ে গেছে বেশ কিছু মন্দির। আন্তর্জাতিক একটি সংবাদ মাধ্যমে উঠে এসেছে এমন তথ্য।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিলো চাউক। কেঁপে উঠেছে ইরাবতি নদীও। চাউক মিয়ানমারের রাজধানী ইয়াঙ্গন থেকে ৪০০ মাইল দূরে অবস্থিত একটি শহর।
এই ভূমিকম্পে মিয়ানমারের বাগান নামের শহরটির চেহারাই বদলে গেছে। সেখানে অনেক জায়গায় ঘটেছে ভূমিধস। নদীর গতিপথও কিছুটা বদলে গেছে। ২০১১ সালে মিয়ানমারে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর বাগানকে পর্যটন শহর হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছিলো।
মিয়ানমারের ফায়ার সার্ভিস জানাচ্ছে, ভূমিকম্পে ১৮ বছরের একজন মেয়ে, ছয় বছরের একটি শিশু এবং আরো একজন মারা গেছে। একটি তামাকজাত দ্রব্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানও ধসে পড়েছে। ওই প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, দুপুরের পর দুই মিনিট স্থায়ী ভূমিকম্পে পুরো শহর কেঁপে উঠে। মন্দিরগুলোতে বেজে উঠে বিপদ সংকেত। কিছু মন্দির ধসে পড়ে। এর মধ্যে ১১ শতকের পুরোনো এবং ঐতিহাসিক কিছু মন্দিরও আছে।
মিন মিন মিয়ান নামের ৩৫ বছর বয়সী একজন ট্যুরিস্ট গাইড সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘ভূমিকম্পের সময় আমি কয়েকজন পর্যটককে নিয়ে একটি ভ্যানে ছিলাম। টের পাওয়ার পরই আমি দৌড়ে ভ্যান থেকে নেমে খোলা জায়গায় চলে যাই। তখন সব কিছু কাঁপছিলো।’ মিয়ান বলেন যে, তিনি এ রকম ভূমিকম্প কোনো দিন দেখেননি।
মিয়ানমারে উৎপত্তি হওয়া এই ভূমিকম্পের প্রভাব পড়েছিলো বাংলাদেশেও। একই সময়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ কেঁপে উঠে। ভারতের পশ্চিমবঙ্গসহ আরো কয়েকটি শহরেও এই কম্পন অনুভূত হয় বলে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে খবর আসে।




