অপরাধশিরোনাম

মিল্কী খুনের পরই অপরাধ জগতের ডন হয়ে ওঠেন সম্রাট

যুবলীগ নেতা রিয়াজুল হক খান মিল্কী খুনের পর অপরাধ জগতের ডন হয়ে ওঠেন সদ্য বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা ইসমাইল হোসেন সম্রাট। তার অপরাধ-সাম্রাজ্যের পেছনে আছেন অনেক রাঘববোয়াল।
গ্রেফতারের পর সম্রাট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে বিভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। সেই তথ্য বিশ্লেষণ করেই আইনশৃংখলা বাহিনী একথা জানায়।
জানা গেছে, জেনারেল এরশাদের আমলে কোন রাজনীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন না ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট। কিন্তু সে সময় এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে বিরোধীদলগুলোর হরতাল অবরোধে তিনি মতিঝিল এলাকায় পিকেটিংয়ে নামতেন। মতিঝিল রমনা এলাকা থেকেই তার উত্থান শুরু।
আশির দশকের শেষ দিকে যুবলীগের কয়েকজনের সাথে পরিচয় হলে তিনি সংগঠনটির সাথে যুক্ত হন। তবে দুই যুগ আগেও ইসমাঈল হোসেন চৌধুরী সম্রাট যুবলীগে সাধারণ একজন ওয়ার্ড নেতা ছিলেন।
২০০৯ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মতিঝিল এবং আশপাশের এলাকার অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রক ছিলেন মিল্কী, যুবলীগ দক্ষিণের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওয়াহিদুল ইসলাম আরিফ এবং দক্ষিণের তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম তারেক।
আধিপত্য বিস্তার এবং অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রণ বিরোধের জেরে আরিফ-তারেক গ্রুপ মিল্কীকে গুলি করে হত্যা করে। ঘটনার পর তারেক র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। সম্রাটের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ আরিফ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। এ সুযোগে সম্রাট পুরো ফাঁকা মাঠের নিয়ন্ত্রণ নেন। এ সময় তার সহযোগী খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, এনামুল ইসলাম আরমান এবং একেএম মমিনুল হক সাঈদকে তিনি যুবলীগের পদ দেন। তারপর ধীরে ধীরে তিনি পুরো ঢাকার অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রক হয়ে ওঠেন।
২০০৩ সালে সম্রাট ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হন। যুবলীগের বর্তমান নেতা ওমর ফারুক চৌধুরী যুবলীগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ২০১২ সালে। এরপর ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট যুবলীগের ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি হন।
সম্রাট ব্যাপক ক্ষমতাবান হওয়ার পর যুবলীগ নেতা এবং টেন্ডার কিং জি কে শামীমও তার দলে নাম লেখান। শুরুতে বিদেশে পলাতক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান আহমেদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান তিনি। বিশাল ক্যাডার বাহিনী সাজানোর পর জিসানের সঙ্গেও সম্পর্ক ত্যাগ করেন। মতিঝিলের ক্লাবপাড়ার ক্যাসিনোর ব্যবসা শুরু করেন। ধীরে ধীরে চাঁদাবাজি, দখলবাজি এবং টেন্ডারবাজির নিয়ন্ত্রণও চলে যায় তার হাতে।
এভাবেই সম্রাট ধীরে ধীরে অপরাধ জগতের ডন হয়ে ওঠেন। তার প্রভাব বাড়তে থাকে। অপরাধ জগতের ক্ষমতার সঙ্গে যোগ হয় রাজনৈতিক পদ-পদবির ক্ষমতা। সব ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিভিন্ন ক্লাবে চালু করেন ক্যাসিনো।
র‌্যাব বলছে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দলের ছত্রছায়ায় এবং ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে বিভিন্ন ক্লাব পরিচালনা করতেন সম্রাট। তার নিয়ন্ত্রণে ক্লাবগুলোতে ক্যাসিনোসহ জুয়ার আসর বসত।
এই ক্যাসিনো থেকে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন। রোববার কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে সম্রাট ও তার সহযোগী এনামুল হক আরমানকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব তথ্য পেয়েছে সংস্থাটি। র‌্যাব কর্মকর্তারা জানান, মতিঝিল, ফকিরাপুল, আরামবাগ এবং পল্টনের অন্তত ১০টি ক্লাবের ক্যাসিনো ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ করতেন সম্রাট। ক্যাসিনো ব্যবসা করে তিনি বিপুল পরিমাণ অর্থবিত্তের মালিক হয়েছেন।
ক্যাসিনো ব্যবসার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করতেন। এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য তিনি বিশাল ক্যাডার বাহিনী গড়ে তোলেন।
অবৈধ উপার্জনের অর্থ দিয়েই তিনি ক্যাডার বাহিনী পালতেন। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে বা তার বিরুদ্ধে গেলেই তাকে ক্যাডার বাহিনী দিয়ে ধরে আনা হতো তার রাজনৈতিক কার্যালয়ে। সেখানের টর্চার সেলে তার ওপর চলত নির্মম নির্যাতন। অনেককে দেয়া হতো ইলেকট্রিক শকও। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা আছে।
পূর্বপশ্চিম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button