Uncategorized

মানিকগঞ্জে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ: দলের জন্য বিপজ্জনক আখ্যা দিয়ে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সদ্য ঘোষিত বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মইনুল ইসলাম খান শান্তকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের যৌথসভা থেকে এই ঘোষণা দেয়া হয়। সেই সঙ্গে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সদ্য ঘোষিত বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পদ থেকে অপসারণের জোর দাবি জানানো হয়। অবাঞ্ছিত ঘোষণার পর প্রেস রিলিজের একটি কপি গতকাল দুপুরে মানিকগঞ্জ প্রেস ক্লাবে পাঠানো হয়েছে।
জরুরি সভায় বলা হয়েছে, মইনুল ইসলাম খান শান্তকে ২০১৩ সালে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক করা হলেও এই তিন বছরে দলীয় কর্মকান্ডে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। জেলার বৃহত্তম সুদৃঢ় ঐক্যকে বাধাগ্রস্ত করতে দলবিরোধীরা হাইকমান্ডকে বিভ্রান্ত করে নিজেদের সুবিধাবাদের লক্ষ্যে পৌঁছার অপরাজনীতিতে লিপ্ত। জরুরি সভায় নেতৃবৃন্দ বহুল বিতর্কিত মইনুল ইসলাম খান শান্তর ষড়যন্ত্র থেকে জেলা বিএনপিকে রক্ষা করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তাকে চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে অপসারণের জোর দাবি জানায়।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএ কবীর জিন্নাহ বলেন, মইনুল ইসলাম খান শান্তর মতো লোক দিয়ে রাজনীতি চলে না। ২০১৩ সালে তাকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক করা হলেও তাকে আমরা মাত্র দুই দিন পেয়েছি। কখনোই রাজনৈতিক ময়দানে পাইনি। বিএনপির রাজনীতিতে সে পুরো নিষ্ক্রিয়।
জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোজাম্মেল হক তোজা বলেন, মানিকগঞ্জের বিএনপির কান্ডারি হচ্ছেন জেলা বিএনপির সভাপতি আফরোজা খান রিতা। যিনি দলের দুঃসময় থেকে শুরু করে সব সময় নেতাকর্মীদের বিপদে আপদে আগলে রেখেছেন। জেলা বিএনপির অস্তিত্বকে টিকিয়ে রেখেছেন আফরোজা খান রিতা। আর মইনুল ইসলাম খান শান্ত জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদকে পদ দখল করে রাখলেও তাকে মাঠেঘাটে এবং আন্দোলন সংগ্রামে পাওয়া যায় না। এরকম একজনকে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা করা মানেই দেশ নেত্রীকে অসম্মান করা। তাই অনতিবিলম্বে মইনুল ইসলাম খান শান্তকে উপদেষ্টা পদ থেকে বাদ দেয়া হোক। আমরা তার অপসারণ দাবি করছি।
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এসএ কবীর জিন্নার সভাপতিত্বে বুধবার সন্ধ্যায় জেলা বিএনপি কার্যালয়ে জরুরি সভায় বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুল বাতেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তোজাম্মেল হক তোজা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস খান মজলিশ মাখন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক সত্যেন কান্ত পণ্ডিত ভজন, বিএনপি নেতা কাজী রায়হান উদ্দিন টুকু, সিংগাইর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবিদুর রহমান রোমান, ঘিওর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খোন্দকার লিয়াকত হোসেন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শরিফ ফেরদৌস, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মাসুদ পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান প্রিন্স, শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুল কাদের প্রমুখ।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button