মানিকগঞ্জে খাদ্য সার্বভৌমত্ব ও কৃষি প্রতিবেশ সুরক্ষা বিষয়ক সংলাপ অনুষ্ঠিত

নাসির উদ্দিন, হরিরামপুর প্রতিনিধি : বেসরকারী গবেষনা প্রতিষ্ঠান বারসিক আয়োজনে মানিকগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে দিনব্যাপী খাদ্য সার্বভৌমত্ব ও কৃষি প্রতিবেশ সুরক্ষা বিষয়ক সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে রাখেন, মানিকগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত প্রশাসক সানোয়ারুল হক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্যে রাখেন, মানিকগঞ্জ জেলার নদী ও প্রাণ-প্রকৃতি সুরক্ষা কমিটির সভাপতি, অ্যাডভোকেট দীপক কুমার ঘোষ। জেলা জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল। নিরাপদ খাদ্য অফিসার, মোঃ নই-ই- আলম সোহাগ। সরকারি – বেসরকারি বিভিন্ন অফিসে কর্মকর্তাবৃন্দ বক্তব্যে রাখেন।
অনুষ্ঠানে কৃষি,পরিবেশ,মৎস্য, প্রাণি সম্পদ বিভাগ, সাংবাদিক,নাগরিক, শিক্ষক ,কৃষক,যুবপ্রতিনিধিদের প্রায় ৩৫০ জন অংশগ্রহন করেছেন ।
উক্ত আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, তালেবপুর কৃষি প্রতিবেশ সুরক্ষা কমিটি, মো নুরুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানটিতে উপস্থাপনা করেন,বারসিক আঞ্চলিক সমন্বয়কারী বিমল রায়।
বারসিক সহযোগিতায় বিভিন্ন উপজেলার কৃষক জৈব উপায়ে চাষাবাদে সাফল্যের কথা তুলে ধরেন। বারসিকের সহ যোগিতায় কৃষিভিক্তিক প্রশিক্ষণ ও পরিবেশ সম্নত উদ্যোগ তথ্য আদান প্রদান করেন। বিভিন্ন গ্রামের কৃষকগণ বীজ সংরক্ণ ও বিনিময়ের মাধ্যমে চাষ উদ্যোগ গ্রহন করেন।
খাদ্য সার্বভৌমত্ব স্থানীয় বাজার ও দেশের জাতীয় অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রান্তিক কৃষক ও তাদের পাারিবারিক কৃষিকাজ, ঐতিহ্যগত মৎস্যচাষ, পশুপালন, স্থানীয় জাতের শস্য-ফসল উৎপাদন, পরষ্পরের মধ্যে বিনিময়, বিতরণ ও গ্রহণে গুরুত্ব দেয় যা পরিবেশ, সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভাবে টেকসই একটি প্রক্রিয়া। খাদ্য সার্বভৌম একটি অধিকার যেখানে উৎপাদক ও ভোক্তা সকলে সমানভাবে উপকৃত হয় ও খাদ্যের পুষ্টিমান বজায় থাকে। এতে খাদ্যের উপর ভোক্তার নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে উভয়ের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। শুধু তাই নয়, খাদ্য সার্বভৌমত্বের মাধ্যমে ভূমির উপযুক্ত ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা, পানি, বীজ, প্রাণিসম্পদ ও প্রাণবৈচিত্র্য রক্ষা হয় যা খাদ্য উৎপাদনের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত। খাদ্য সার্বভৌমত্ব নারী-পুরুষ, বর্ণ ও সামাজিক শ্রেণিবৈষম্য নিপীড়ন ও অসাম্যতা দূর করে পরষ্পরের মধ্যে নতুন এক সামাজিক সম্পর্ক তৈরি করে।
অন্যদিকে খাদ্য নিরাপত্তা হলো খাদ্যের সহজলভ্যতার এমন একটি অবস্থা যা যখন সকল মানুষকে তার প্রয়োজনীয় চাহিদার সময়ে পর্যাপ্ত, নিরাপদ, পুষ্টিমান সম্পন্ন খাবারের নিশ্চয়তা দেয়। কিন্তু খাদ্য উৎপাদনের নৈতিক বিষয়াদি যেমন কে, কোথায়, কোন উপায়ে খাদ্যশস্য্য উৎপাদন করছে এবং তা পরিবেশসম্মত কিনা সেইসব বিষয়গুলো যেমন বিবেচনায় আনে না তেমননি কিভাবে সেটি বিতরণ হচ্ছে সেটিও আমলে নেয় না। কিন্তু খাদ্য সার্বভৌমত্ব খাদ্য উৎপাদনের নৈতিকতা ধারণ করে তাই খাদ্য সার্বভৌমত্ব শুধু খাদ্য উৎপাদনই নয় এর সঙ্গে সম্পর্কিত প্রকৃতি-প্রতিবেশ পরিবেশ এবং অন্যান্য প্রাণি জগতের সম্পর্ককেও যুক্ত করে। আর এই সকল উপাদানের সাথে সম্পর্ক রেখেই খাদ্য উৎপাদন করে মানুষের সভ্যতা চলমান রয়েছে। খাদ্যে সার্বভৌমত্ব কৃষকের নিজ এলাকার পরিবেশ, সংস্কৃতি ও কৃষি পদ্ধতির সাথে সঙ্গতি রেখে উৎপাদন ও জনগণের খাদ্য পাবার অধিকারকে গুরুত্ব দেয়। এই অধিকারের মধ্যে নিরাপদ পুষ্টিসম্মত খাদ্য এবং নিজ সংস্কৃতির সাথে সম্পর্কিত খাদ্যের কথাও আছে। খাদ্য সার্বভৌমত্বের অধিকার একই সাথে জমি, পানি, বীজ এবং সকল প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকারকেও বুঝায়। কৃষিতে নারীর অবদান এবং সক্রিয় অংশগ্রহণের সম্পূর্ণ স্বীকৃতিও দেয়। অর্থাৎ নিজেদের খাদ্য, কৃষি, পশুপালন ব্যবস্থা, মৎস চাষ বা খাদ্য উৎপাদন ব্যবস্থার সাথে সংশ্লিষ্ট সব বিষয়ে কৃষকের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ ও অধিকারই হচ্ছে খাদ্য সার্বভৌমত্ব।




