Uncategorized

মরণব্যাধি হৃদরোগে আক্রান্ত দিনমজুর হ্যাপি

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : আমি বাঁচতে চাই: হৃদরোগে আক্রান্ত দিনমজুর হ্যাপির আকুতি। হ্যাপি (৪০) বাড়ি চুয়াডাঙ্গা জেলার সদর উপজেলার পৌরসভার ২ নং ওয়ার্ডের সুমিরদিয়া রেলপাড়া। পিতাঃ মৃতঃ সাহেব আলি, মাতাঃ মোছাঃ রওশনারা। পিতা মৃত সাহেব আলির ৬ শতক জমির উপর মাটির একটি ঘর ছাড়া আর কিছুই নেই দিনমজুর হ্যাপির। পিতা সাহেব আলির মৃত্যুর পর সংসারের হাল ধরেন হ্যাপি, বিধবা মা, স্ত্রী, সন্তান নিয়ে ভালোই দিন কাটছিলো দিনমজুর হ্যাপির।
কিন্তু মরণব্যাধি হৃদরোগের কবলে পড়ে অসহায় দিনমজুর হ্যাপির আর সুখে দিন কাটানো হলো না। মরণব্যাধি হৃদরোগে আক্রান্তের কথা দুই বছর আগে জানতে পারে হ্যাপি। গত দুই বছর ধরে মরণব্যাধি হৃদরোগের জন্য চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী, ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ছোটাছুটি করেছেন। ডাঃ বলেছেন, আপনার হার্ট ৭০% নষ্ট হয়ে গেছে। বাঁচার আশায় চিকিৎসার জন্য ইন্ডিয়াতে যান দিনমজুর হ্যাপি। গত ১২-০২-২০২০ ইং তারিখে তিনি Christian Madical College, Vellore -4 Cardiology Unit-III ভর্তি ছিলেন। ডাঃ বলেন চিকিৎসা করলে আপনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে যাবেন। তবে তার জন্য ৪/৫ লাখ টাকার প্রয়োজন। এখন মৃত্যুর হাতছানি জেনেও চোখের পানি ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই তার। অকাল মৃত্যুর হাত থেকে সন্তানের জীবন বাঁচাতে করুণ আর্তি দরিদ্র মা মোছাঃ রওশনারার। তিনি ঘুরছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে। চাইছেন সমাজের বিত্তবানদের সাহায্য সহযোগিতা।
এদিকে প্রয়োজন মতো টাকার ব্যবস্থা না হওয়ায় অসুস্থ হয়ে বর্তমানে বাড়িতেই দিন কাটছে হ্যাপির। দিন যতোই যাচ্ছে ততোই শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে তার।
হ্যাপির বেঁচে থাকার আকুতি: লজ্জা সরিয়ে বলতে বাধ্য হচ্ছি, বেঁচে থাকার জন্য আমার আর্থিক সাহায্য দরকার। আমি হৃদরোগে আক্রান্ত। আমার হার্টের অবস্থা খুবই খারাপ। ডাঃ বলেছেন হার্ট ১০০% এর ভিতর ৭০% নষ্ট হয়ে গেছে আর ৩০% ভালো আছে। এ অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ইন্ডিয়াতে গেলে সেখানকার ডাঃ ভালো হওয়ার আশা দেন আর বলেন চিকিৎসা করালে ভালো হয়ে যাবে। কিন্তু অনেক টাকার প্রয়োজন। এমনিতেই বাংলাদেশ- ইন্ডিয়া চিকিৎসা করাতে গিয়ে আমার প্রায় ৩ লাখ টাকা খরচ হয়ে গেছে। আমি আবারও ইন্ডিয়াতে যেতে চাই। আমার চিকিৎসার জন্য ৪/৫ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। এখন আমি জীবন মৃত্যুর মাঝামাঝি। আমি বাঁচতে চাই। খুব ইচ্ছে হয় স্ত্রী, সন্তান, মা কে নিয়ে সুখে দিন কাটাতে। কিন্তু এ যে বড় অসময়।
করুণ আর্তির সাথে হ্যাপির মা রওশনারা জানান, টাকার অভাবে ইন্ডিয়া নিয়ে যেতে না পারায় আমার ছেলে হঠাৎ খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফলে গত ২৮-০৯-২০২০ইং তারিখে আমার ছেলেকে রাজশাহী পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়। ডাঃ মোঃ রইছ উদ্দিন মন্ডল, সহযোগী অধ্যাপক কার্ডিওলজী রাজশাহী,
বিভিন্ন পরীক্ষার মাধ্যমে জানান যে, হ্যাপির হার্টের অবস্থা এখন ১০০% এর ভিতর ৮০% নষ্ট হয়ে গেছে। এখন তার হার্ট ২০% ভালো আছে। এমতাবস্থায় আপনাদের সকলের কাছে আমার আকুতি যে, আপনাদের একটু সাহায্য পেলে আমি আমার ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আবারও ইন্ডিয়াতে নিয়ে যেতে পারবো। তাই দয়া করে আপনারা যে যেভাবে পারেন আমার অসুস্থ ছেলেটার জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন।
‘সবার উদ্দেশ্যে দিনমজুর হ্যাপিঃ আমার আজ এই দুর্দিনে আপনাদের খুব বেশি প্রয়োজন। সময় বড্ড কম। ভাই বোন, বিভিন্ন পেশাজীবী যারা আছেন, দয়া করে আমার এই বিপদে আমি আপনাদের সাহায্য প্রত্যাশি। আমি বাঁচতে চাই, খুব করে বাঁচতে চাই, ঠিক আগের মতো।’
মানুষ মানুষের জন্য, জীবন
জীবনের জন্য। সমাজের বিত্তবানদের একটু সাহায্যই পারে দিনমজুর হ্যাপির জীবনে প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতে।
বর্তমানে অসুস্থ হ্যাপি স্ত্রী, সন্তান, মা নিয়ে (জাফরপুর, শংকরচন্দ্র চুয়াডাঙ্গা) মামার বাসায় আছেন। হ্যাপির সাথে যোগাযোগের জন্য
মোবাইল নংঃ ০১৯২৯- ৪২১৪০০

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button