উপমহাদেশশিরোনাম

মমতা-মোদি বৈঠক আসলে রাজনৈতিক ম্যাচ ফিক্সিং!

দিল্লিতে বুধবারের মমতা-মোদি বৈঠককে ‘রাজনৈতিক ম্যাচ ফিক্সিং’ বলে কটাক্ষ করেছে পশ্চিমবঙ্গের প্রধান দুই বিরোধী দল সিপিআইএম এবং কংগ্রেস। দুই দলের নেতারা বলেন, মোদি আর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাবিত বৈঠকটি আসলে রাজনৈতিক ম্যাচ ফিক্সিং, যা বাংলার মাটিতে খেলে চলেছে তৃণমূল ও বিজেপি।
পশ্চিমবঙ্গ কংগ্রেসের সভাপতি সোমেন মিত্র বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছি যে তৃণমূল এবং বিজেপি বাংলায় একটি গড়াপেটার ম্যাচ খেলছে। চিটফান্ড কেলেঙ্কারির তদন্তে সিবিআই যাতে ধীরগতিতে এগোয় তা নিশ্চিত করতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছেন।’
এদিকে ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতারা বলছেন, হাজতবাস থেকে বাঁচতেই আসলে প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার জন্য মমতার এই উদ্যোগ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজেপির এক প্রবীণ নেতার মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে এবং তাঁর দলের নেতাদের সিবিআইয়ের খপ্পর থেকে বাঁচাতে দিল্লিতে যাচ্ছেন, কেননা বাংলার বহু কোটি টাকার চিটফান্ড কেলেঙ্কারির তদন্ত করছে সিবিআই।
ওই নেতা আরও বলেন, ‘এটি সবার কাছেই স্পষ্ট যে তিনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) এবং তাঁর দল তৃণমূলের নেতারা সিবিআইয়ের হাতে যাতে না আসেন, সেই জন্য একটি ব্যক্তিগত আবেদন করতেই দিল্লি যাচ্ছেন তিনি । তবে তাঁর উদ্দেশ্য সফল হবে না। আমাদের দলের হাইকমান্ড দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিষয়ে কখনও আপস করবে না। যারা জনসাধারণের অর্থ লুট করেছেন তাদের সকলকেই জেলে যেতে হবে।’
বিজেপির এই দাবিকে অবশ্য ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের বক্তব্য, রাজ্যের উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার বিষয়টি একজন মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অধিকারের মধ্যেই পড়ে। তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রবীণ নেতা বলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতাদের ভিত্তিহীন এই দাবি বন্ধ করা উচিত। ফেডারেল কাঠামোয় একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার অধিকার আছে। প্রস্তাবিত বৈঠকটি রাজ্যের উন্নয়নমূলক বিষয়গুলির সঙ্গে সম্পর্কিত।’
গত সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গ মুখ্যমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এই বৈঠকের জন্য অ্যাপয়েন্টমেন্ট চাওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে। এরপরেই রাজ্য সচিবালয়ের সূত্র মারফত জানানো হয়, বুধবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দিল্লিতে গিয়ে সাক্ষাৎ করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে তৃণমূল নেত্রীর এই আগ্রহকে ঘিরে কটাক্ষ করে বিজেপির জাতীয় সম্পাদক রাহুল সিনহা বলেন, ‘আমরা সবাই জানি যে লোকসভা নির্বাচনের সময় এবং তারপরেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে তিনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) কী ধরনের ভাষা ব্যবহার করেছিলেন। তিনি কখনও ফেডারাল কাঠামোর প্রতি শ্রদ্ধা রাখেননি। এমনকি তিনি একথাও বলেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মোদিজীকে সম্মান করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন না।’
মমতাকে সুবিধাবাদী তকমা দিয়ে এই নেতা আরও বলেন, ‘এখন হঠাৎ কেন এবং কী কারণে তিনি দিল্লি যাচ্ছেন, তা একেবারেই ওপেন সিক্রেট।এর মাধ্যমে তিনি যে আসলে একজন সুবিধাবাদী রাজনীতিবিদ তাও বোঝা যাচ্ছে। এটা প্রমাণিত যে, তিনি তাঁর উদ্দেশ্য পূরণ করতে যে কোনও দূরত্ব পর্যন্ত যেতে পারেন এবং কাজ উদ্ধার হয়ে গেলেই তা ভুলে যেতে পারেন।’
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে প্রস্তাবিত বৈঠকটি তাৎপর্যপূর্ণভাবে রাজনৈতিক রং পেয়েছে। কারণ, এটি এমন এক সময় হতে চলেছে যখন সারদা কেলেঙ্কারি মামলায় বেশ কয়েকজন তৃণমূল নেতা এবং কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের পেছনে উঠেপড়ে লেগেছে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই।
এনডিটিভি/ইত্তেফাক

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button