
জ্বালানী তেলের মূল্য বৃদ্ধিতে মোটা দাগে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে সকলে। চলছে নানা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ-প্রতিরোধ। প্রতিবাদ ঠেকাতে শিলাবর্ষন মোটেই কাম্য নয় বরং বিশ্ব বাজার পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্রীয় ভাবে পাড়া-মহল্লায় গ্রহনযোগ্য জনমত তৈরীতে সরকারের বিভাগ গুলোকে কাজ করা উচিৎ। চলমান “মন ইচ্ছে যাহা খুশি” হাট-বাজার নিয়ন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানও জরুরী। যেহেতু কেউ কেউ ভীন দেশের উদাহরন টেনে দেশকে শ্রীলঙ্কার পথে হাটাতেও কার্পন্য করছেনা। সর্বপরি, শ্রীলঙ্কার ঐ চিত্র যেন বাংলাদেশে কখনো সৃষ্টি হতে না পারে সেজন্য সরকারকে হাট-বাজার নিয়ন্ত্রণের মত ছোট্ট একটি চ্যালেঞ্জ নেয়াটাই উত্তম। যেখানে হাট-বাজারে গিয়ে আগের মজুতদারী প্রথা ভেঙ্গে প্রয়োজনে ১শ গ্রাম গরুর গোশত, ১শ গ্রাম ইলিশ মাছ, ৫০ গ্রাম তেল কিনতে পারেন। যেন প্রয়োজন ছাড়া বস্তায় বস্তায় চাল, আলু, ডাল, তেল কেউ গুদামজাত করতে না পারেন এজন্য তীক্ষ্ণ নজরদারী দরকার।
নয়তো, জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনের নাম (গত ক’দিনের চিত্র) করে দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে একটি গোষ্ঠী রাষ্ট্রের অভাবনীয় ক্ষতির সম্মুখিন করতে পারে। দলগুলোকে মনে রাখা উচিৎ জ্বালাও-পোঁড়াও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি , জীবনহানি, রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতিসাধন কোন রাজনৈতিক এজেন্ডা হতে পারেনা।
এই মূহুর্তে শুধু বাজার মনিটরিং করাটাই যথেষ্ট নয়, পাশাপাশি দরকার যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা। তেলের মূল্য বৃদ্ধির ফলে যাত্রীদের সাথে প্রায়শই গাড়ির স্টাফদের সাথে ঝগড়াঝাঁটি, হাতাহাতি, লাঞ্ছিতের ঘটনা নিত্যদিনের সাথী। অধিকাংশ গাড়ি ব্যবসায়ীরা তেলের মূল্য বৃদ্ধির অজুহাতে গাড়ি বন্ধ করে যাত্রীদের উস্কে দিচ্ছে। ফলে রুটের যাত্রীরা বাড়তি ভাড়া পরিশোধ করে গাদাগাদি, ঠাসাঠাসিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে শহর বন্দরসহ বাড়িও ফিরছেন। যেখানে গাড়িওয়ালারা ২০ টাকার ভাড়া ৪০ টাকা, ৪০ টাকার ভাড়া ৬০ টাকা নিচ্ছেন, আর দোষ চাপাচ্ছেন সরকারের ঘাড়ে।
এদিকে রাজধানীসহ বিভাগ ও জেলা শহর গুলোতে যানজট নিরসনে ট্টাফিক বিভাগকে আরও আন্তরিকতা নিয়ে কার্যক্রম বেগবান জরুরী।
সম্ভব হলে ঢাকাসহ সারাদেশের রোডের সিগন্যাল বাতিগুলো পুনরায় চালুর ব্যবস্থা করা উচিৎ। ট্টাফিক পুলিশকে এক জায়গায় দাঁড় না করিয়ে সিগন্যাল অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ দিন, দেখবেন যানজট থাকছেনা। পাশাপাশি রাজধানীসহ দেশজুড়ে বাস ষ্টপিজগুলো থেকে অবৈধ ভাসমান দোকানপাট ও হকারদের উচ্ছেদ করে যাত্রীদের জন্য দ্রুত উম্মুক্ত করে দিন।
দূরবর্তী দুটি দেশের যুদ্ধের ফলে সম্ভাবনাময় বীর বাঙালির বাংলাদেশকে গ্লানি টানতে হবে তাও কিন্তুু কাম্য নয়। রাষ্ট্রকে এখনি উচিৎ কৃষি, মৎস্য, পোল্টি, গো-খামারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাতে ভর্তূকি দিয়ে এগিয়ে থাকা। বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে ব্যক্তি পর্যায়ে সোলার (সৌর বিদ্যুৎ) ব্যবহারে উৎসাহিত করা যেতে পারে।
দেশে চলমান পরিস্থিতিতে রেমিটেন্স যোদ্ধাদের মর্যাদা দেয়া উচিৎ। ঠিক এমনি এক মূহুর্তে জনৈক এক প্রবাসীকে কাস্টমস কর্মকর্তা সোহেল রানার গালে চড় মেরে নিঃসন্দেহে ফৌজদারী অপরাধ করেছেন। তার জন্য ঐ ঘটনার সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্তে সত্যতা নিশ্চিত হয়েই কাস্টমস অফিসারকে আইনের আওতায় এনে প্রবাসীদেরকে সম্মান দেখানো উচিৎ। ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ শুরু হয়ে গেছে।
বর্তমান দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের মাত্রা অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে চলছে। কথায় কথায় সাংবাদিক নির্যাতন, লাঞ্ছিত, হামলা-মামলায় পেশাটি বিপর্যন্ত। এদিকে পুলিশের ঔদ্ধত্যতাও ছাড়িয়ে গেছে। লালমনিরহাট রিপোর্টার্স ইউনিটির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও বিএমএসএস’র কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব এবং দৈনিক মুক্তি পত্রিকার সম্পাদক নূর আলমগীর অনুকে ফোন করে কালীগঞ্জ থানায় ওসি কর্তৃক চায়ের দাওয়াত দিয়ে ডেকে নিয়ে মিথ্যা বানোয়াট মামলা দিয়ে গ্রেফতার করার ঘটনা ঘটেছে।
সাংবাদিক নূর আলমগীর অনু গত ৪ আগষ্ট বৃহস্পতিবার দুপুরে কালীগঞ্জ থানার ওসির মোবাইল থেকে সাংবাদিক নূর আলমগীর অনুকে ফোন করে থানায় যেতে বলেন চা খাওয়ার জন্য। সেখানে গেলেই সঙ্গে সঙ্গে রেকর্ড করে মিথ্যা সাজানো মামলা দেখিয়ে তাকে গ্রেফতার করেন।
এখবর পেয়ে স্হানীয় সংবাদকর্মীরা দেখতে গেলেও ওসি কোনো সদুত্তর দেননি। দেশের বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা থেকে ফোন দিলেও কথা না বলে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন রেখে দেন। এছাড়া লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান বারবার ফোন দিলেও ধরেননি।
জানা গেছে, সাংবাদিক নূর আলমগীর অনুর সাথে তার আপন ফুফুদের সাথে পারিবারিক জমজমা সংক্রান্ত বিবাদ চলে আসছিলো। মামলার রায়ও যায় সাংবাদিক অনুদের পক্ষে।
অথচ, তার ফুপাতো বোন তামান্না শিরিন বাদী হয়ে একটি মামলা ৪ আগষ্ট রেকর্ড দেখিয়ে সাংবাদিক নূর আলমগীর অনুকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে তড়িঘড়ি করে।
উক্ত দেখানো মামলার কোনো তদন্ত বা নোটিশ বিহীন আটক সহ এমনটা হয়েছে এটিএম গোলাম রসুল (ওসি)’র মোবাইলে ফোন দিলেও রিসিভ করেননি তাই তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নূর আলমগীর অনু মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশে সরব ভূমিকায় ছিলেন বলে জানা গেছে।
তিনি মিথ্যা মামলা ও সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে রাজপথে দাঁড়িয়েছেন বহুবার। আজ তিনি নিজেই মিথ্যা সাজানো মামলায় জেলহাজতে।
এব্যাপার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ একাধিক স্হানীয় জাতীয় প্রিন্ট অনলাইন পোর্টাল ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া প্রকাশিত তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন ও ক্ষোভে ফেটে পড়েছে লালমনিরহাট সহ সারাদেশের সাংবাদিকরা।
সাংবাদিক অনুর মুক্তির দাবীতে এবং ওই ওসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনে সারাদেশে মানববন্ধন করেছেন ও সারাদেশে ধারাবাহিকতায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে এবং আরও কঠিন থেকে কঠিনতম প্রতিবাদ কর্মসূচীর হুশিয়ারি দিয়েছে সাংবাদিক সংগঠনগুলো।👉👇
অপরদিকে ৮ আগষ্ট সুনামগঞ্জ আদালত পাড়ায় সংবাদ সংগ্রহের সময় চ্যানেল24 ও যমুনার টিভির সাংবাদিক আমিনুল ইসলামের সাথে পুলিশের অসদাচরণের ঘটনা ঘটেছে। যমুনা টিভির প্রতিনিধির মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে যায় পুলিশ। সাথে থাকা সহকর্মী ফোনটি ফেরত চাইলে পুলিশ সদস্য তার ওপরও চড়াও হয়ে লাঠি নিয়ে এগিয়ে আসেন। ঘটনাটি উপস্থিত আইনজীবীরা দেখে এগিয়ে আসলে তাদের সাথেও পুলিশ সদস্যরা অসদাচরণ করেন। এ ঘটনায় আইনজীবীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে দ্রুত ঐ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানান। পরে এ ঘটনায় আইনজীবী সমিতি ও পুলিশের উর্ধতন কর্মকর্তা বৈঠক করেন। পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন পুলিশ কর্মকর্তারা। তবে এখনও শাস্তিমূলক কোন ব্যবস্থা গ্রহনের খবর মেলেনি।
অন্যদিকে টেকনাফের ইউএনও কান্ডে দৃষ্টান্তমূলক কোন বিচার কিন্তু এখন অবধি সাংবাদিক সমাজের চোখে পড়েনি। সাংবাদিকদেরকে কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে রাষ্ট্রের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি নির্দেশনা দিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। দেখবেন, সাংবাদিকরা চোখে আঙ্গুল দিয়ে রাষ্টের চোরগুন্ডাদের ধরিয়ে দেবে নিমিষেই। কারা দেশের টাকা লুটপাট করে বেগম পাড়াসহ সুইস ব্যাংকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার ও জমা করেছে ঐ ডাকাতের খবরও আপনি পেয়ে যাবেন, সঙ্গে জাতিও জানতে পারবে।
এদিকে জনগনের সাথে বক্তব্যের নামে আশকারা-মশকারা ঠাট্টা-তামাশা করা কিছু মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীকে বাদ দিয়ে নতুনত্ব আনা যেতে পারে রাষ্টের স্বার্থে, জনগনের স্বার্থে ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন রক্ষার্থে।
সর্বপরি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর হাতে গড়া সোনার বাংলায় সাড়ে ষোল কোটি উর্ধে মানুষের এই দেশে সকলে মিলেমিশে থাকুক অনাবিল সুখে-শান্তিতে। অপ-রাজনীতি থাকুক-শেকলবন্ধী। ভোটের সময় ভোট দেবে এমন পরিবেশ তৈরী হোক-এ প্রত্যাশা কিন্তু সকলেরই। হানাহানি, রক্তক্ষয়ী-প্রাণহানীর মত অপ-রাজনীতি মুক্ত হোক আমাদের স্বাধীন বাংলায়…
লেখকঃ মোঃ মাহবুব আলম চৌধুরী জীবন
সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী, সংগঠক।




