বিবিধশিরোনাম

ভ্রাতৃত্ব মানে না সীমানা

ইউরোপের রোগীরা সেবা পাচ্ছে জার্মানিতে
২৪ মার্চ, রাত ১টা। করোনার লকডাউনে সুনসান নীরবতা চারদিকে। এরই মধ্যে জার্মানির পূর্বাঞ্চলের শহর লাইপজিগের বিমানবন্দরে অবতরণ করল ইতালি বিমানবাহিনীর একটি উড়োজাহাজ। ইতালির উত্তরাঞ্চলের শহর লামবার্ডি থেকে কভিড-১৯ আক্রান্ত গুরুতর অবস্থার দুই রোগীকে নিয়ে আসা হয়েছে তাতে। বিমান অবতরণের পরপরই ভয়ানক শ্বাসকষ্টে ভোগা ওই দুই রোগীকে দ্রুত নিয়ে নেওয়া হলো লাইপজিগের একটি হাসপাতালে। সেখানেই উন্নত চিকিৎসা হবে তাদের।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইনডিপেন্ডেন্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চের ২৪ তারিখের পর থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে এমন ৫০ জন কভিড-১৯ রোগী ইতালি থেকে আনা হয়েছে জার্মানির এই শহরে। একই সময় শহরটিতে ফ্রান্স থেকেও আনা হয়েছে গুরুতর অবস্থার ৬৩ রোগীকে। রোগী আসছে নেদারল্যান্ডস থেকেও।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ইতালি আর স্পেনের পরই সবচেয়ে বেশি রোগীর দেশ জার্মানির এই উদারতা অনন্য নজির হয়ে থাকবে। এই সময়ে যখন সব দেশই তার সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে সেখানে জার্মানি সহায়তার হাত বাড়িয়ে মানবতার জয়গানকে করেছে আরও সুরেলা।
করোনাযুদ্ধে অন্য সব দেশের চেয়ে জার্মানির সব পদক্ষেপই একটু ভিন্নতর। দেশটি বিপুলসংখ্যক মানুষকে এনেছে করোনা পরীক্ষার আওতায়। তাই সেখানে রোগী অনেক বেশি। তবে মৃত্যুর হার অনেক কম। তবে দিনের পর দিন লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।
এ অবস্থায় অন্যান্য ইউরোপিয়ান দেশের মতো কঠোর কারফিউ জারি করে জনজীবন বিপর্যস্ত করার পথে হাঁটেনি জার্মানি। দেশটির সরকার আস্থা রেখেছে জনগণের সচেতনতা ও সুশৃঙ্খল জীবনযাত্রার ওপর। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও বিজ্ঞানের গবেষণাগার আর বেসরকারি কোম্পানিগুলো এখনো খোলা আছে। গণপরিবহনও স্বাভাবিকই। তবে কফিশপে ভিড় নেই, যাত্রী নেই বাসে। শহরের ঐতিহাসিক ট্যুরিস্ট স্পটগুলো ফাঁকা। সরকারের তরফে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হয়েছে ‘একসঙ্গে দুজনের বেশি বাইরে বেরোনো যাবে না।’ নির্দেশ লঙ্ঘন করলে মোটা অঙ্কের জরিমানারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
প্রতিদিনই যতটা সম্ভব টেস্ট করে সংক্রমিতদের আইসোলেট করা হচ্ছে। ইমিউনিটি সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে। বেসিক ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। মাস্ক উৎপাদন দ্রুত বাড়ানোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। অটোমবিল কোম্পানিগুলোকে ভেন্টিলেটর বানাতে উৎসাহিত করছে। এরই মধ্যে সরকার থেকে বহু আর্থিক অনুদানও ঘোষণা করা হয়েছে। জার্মানি ৬০০ বিলিয়ন ইউরো ভর্তুকি দেবে দেশের সব ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং কোম্পানিকে। ক্ষুদ্র ব্যবসায় দ্রুত সহায়তার জন্য মোট ৫০ বিলিয়ন ইউরো দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে আলাদাভাবে।
করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দেশের অর্থনীতিকে রক্ষা করতে ৭৫০ বিলিয়ন ইউরোর সহায়তা প্যাকেজ অনুমোদন করেছে জার্মানির সরকার। বিশাল অঙ্কের স্বাস্থ্য প্যাকেজও ঘোষণা করা হয়েছে হাসপাতালগুলোর জন্য।
সুত্র : দেশ রূপান্তর

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button