ভুয়া প্রকল্পের নামে সরকার কোটি টাকা লুট করছে : রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ক্ষমতাসীনরা সারাদেশে ‘ভুয়া’ সংগঠন তৈরি করে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাৎ করছে। রোববার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, চলতি জুনে সারাদেশে জেলা-উপজেলায় ভুয়া প্রকল্পের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা লুটপাটের মহোৎসবের খবর গণমাধ্যমে এখন প্রধান শিরোণাম। মসজিদ-মন্দিরের নামে ভুয়া কমিটি তৈরি করে অথবা নামসর্বস্ব ধর্মীয় ও সামাজিক ক্লাব সংগঠন দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দ নিজেদের পকেটে ঢুকাচ্ছে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা। ব্যাংক-বীমা-সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান গিলে ফেলে এখন তারা মসজিদে মন্দিরের টাকাও আত্মসাতে মেতে উঠেছে। লুটপাটের মাধ্যমে বিদেশে টাকার পাচার করে পুরো দেশটাকে ধবংস করেও ক্ষমতাসীনদের ক্ষুধা মিটছে না। পত্রিকায় প্রকাশিত খবরের উদ্ধৃতি দিয়ে রিজভী বলেন, মৌলভীবাজারে কুলাউড়া উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মোট ৬৭ কোটি ৬৫ হাজার ৪ শত ৫৮ টাকা বরাদ্ধ হয়। এর মধ্যে বরমচাল ইউনিয়নের ৮টি প্রকল্পে মোট ৫ লাখ ৪৭ হাজার টাকা বরাদ্ধ হয়। লালমনিরহাটে চলতি অর্থ বছর শেষে টিআর-কাবিখা প্রকল্পে ১০ কোটি টাকা লোপাট করেছে। নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। সংবাদ সম্মেলনের দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তৈমুর আলম খন্দকার, সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব, আজিজুল বারী হেলাল, আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল আউয়াল খান, শহীদুল ইসলাম বাবুল, আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। নতুন অর্থবছরের বাজেটকে গরীব মারার বাজেট অভিহিত করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ঋণের বোঝা নিয়ে নতুন অর্থবছর শুরু হয়েছে। আজকে যে শিশুটি জন্মগ্রহণ করবে তার মাথায়ও ঋণের বোঝা পড়বে ৪৬ হাজার ১শত ৭৭ টাকা। বছরে বছরে এই ঋণের বোঝা শুধু বাড়ছেই। বিশাল ঘাটতির এই বাজেট পুরোটাই ঋণ নির্ভর। ক্ষমতাসীনরা লুটপাটের মাধ্যমে অবৈধভাবে অর্জিত লাখ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাঁচার করে ঋনের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে সাধারণ মানুষের ওপর। আজকের যে শিশুটি জন্মগ্রহর করেছে, তাকেও ঋণের বোঝা বইতে হচ্ছে। বাজেট পাসের সমাপনীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘দেশ অগ্রগতির দিকে যাচ্ছে’ এহেন বক্তব্যের সমালোচনা করেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, প্রকৃত পক্ষে সরকার দেশকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের গুলশানে বাসায় গোয়েন্দা পুলিশের ঘিরে রাখার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে রিজভী বলেন, এটা মুক্ত চিন্তা ও বাক স্বাধীনতার ওপর চরম আঘাত। মাহমুদুর রহমানকে কথা বলা ও তার লেখাকে নানাভাবে আটকানোর জন্য সরকার রাষ্ট্রশক্তির দমনযন্ত্র প্রয়োগ অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া সম্প্রতি নোয়াখালীতে দলের ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শাহজাহানের আয়োজিত ঈদ শুভেচ্ছা বিনিয়ময় অনুষ্ঠানে স্থানীয় ক্ষমতাসীনদের হামলার ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান রিজভী।




