slider

ভুয়া তথ্যে চাকরি নেয়া মমিনুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

মেহেদী হাসান আকন্দ: নিজের তথ্য গোপন করে ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে চাকরি গ্রহণ এবং ভুয়া তথ্য ব্যবহার করে বদলীর অভিযোগে শিক্ষক মমিনুলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মাধ্যমে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হয়।
প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি চাকরি নেয়ায় মমিনুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রাথমিক শিক্ষা, ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপ-পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন মেদনী ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের পুত্র এ কে এম শামীম।
অভিযুক্ত শিক্ষক মোঃ মমিনুল ইসলাম বারহাট্টা উপজেলার সাহতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত। মমিনুল ইসলাম নেত্রকোণার সদর উপজেলার মেদনী ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মৃত সামছুদ্দিন খান ও মোছাঃ আজিদা বেগমের পুত্র। তিনি নিজের নাম-ঠিকানা গোপন করে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার ৩ নাম্বার ওয়ার্ডের কেশবপুর গ্রামের ২ নাম্বার হোল্ডিং ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে ভুয়া নাগরিক সনদপত্র ও ভুয়া জন্ম নিবন্ধন তৈরি করে সুনামগঞ্জ জেলার জেলাকোঠায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি গ্রহণ করেন।
জগন্নাথপুর উপজেলার কেশবপুর ঠিকানা ব্যবহার করে ২০০৯ সালের মে মাসের ৪ তারিখে সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার কবিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম যোগদান করেন। ভুয়া তথ্য প্রদান করে ২০১৫ সালের মার্চের ২৯ তারিখে নেত্রকোণা জেলার বারহাট্টা উপজেলার মল্লিকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলীজনীত যোগদান করেন। বদলীর কারণ হিসাবে তিনি স্ত্রীর কর্মস্থল উল্লেখ করে স্ত্রীর কর্মস্থলের একটি ভুয়া প্রত্যয়নপত্র ব্যবহার করেছেন। ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরের ৮ তারিখে পারি মাল্টিপারপাস এর ব্যবস্থাপক স্বাক্ষরিত স্ত্রীর প্রত্যয়নপত্রে ব্যবস্থাপকের নাম, ফোন নাম্বার কিম্বা অফিসের কোন ঠিকানা উল্লেখ করা হয়নি। ২০১১ সালের প্রত্যয়নে তিনি বদলী হয়েছেন ২০১৫ সালে। আবার ২০১৮ সালের এপ্রিলের ৪ তারিখে সাহতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বদলীজনীত যোগদান করে অদ্যাবধি কর্মরত আছেন।
নেত্রকোণা সদর উপজেলার মেদনী ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে মমিনুলের চাচাতো ভাই আলমগীর ও মামা তারা মিয়া মমিনুল নিশ্চিন্তপুর গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা। ২০০৯ সালে মমিনুল সুনামগঞ্জ জেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি নিয়ে পরবর্তীতে ২০১৫ সালে নেত্রকোণায় বদলী হয়ে এসেছে। মমিনুলের স্ত্রী নাজমা আক্তারের বাবার বাড়ি ও একই গ্রামে। নাজমা আক্তার তার আরেক বোনের মেয়ে বলে জানান তারা মিয়া। নাজমা আক্তার কোনো চাকরি করেনা।
নেত্রকোণা সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন নিশ্চিত করে বলেন, নেত্রকোণায় পারি মাল্টিপারপাস নামে কোনো প্রতিষ্ঠান নাই।
মমিনুল ইসলামের চাকরিতে ব্যবহৃত সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার ৩ নাম্বার ওয়ার্ডের ২ নাম্বার হোল্ডিংসের মালিক হান্নান কোরেশি এবং ৩ নাম্বার হোল্ডিংসের মালিক ফজর আলী কেউই মমিনুলকে চিনেন না।
বিষয়টি অবগত করলে তারা বলেন, আমাদের ঠিকানা ব্যবহার করে প্রতারনার মাধ্যমে জাল নাগরিক সনদপত্র ও ভুয়া জন্ম নিবন্ধন তৈরি করেছে। এছাড়াও সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরসভার ৩ নাম্বার ওয়ার্ডের কমিশনার আলাল উদ্দিন এবং সাবেক কমিশনার তাজবুর রহমান কেউই মমিনুলকে চিনেন না।
প্রাথমিক শিক্ষা, ময়মনসিংহ বিভাগীয় উপ-পরিচালক রকিব উদ্দিন বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়োগের ক্ষেত্রে মিথ্যা তথ্য প্রদান করলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button