ভুট্টা চাষ পদ্ধতি, সার প্রয়োগ, আগাছা দমন পদ্ধতি

নাসির উদ্দিন, হরিরামপুর প্রতিনিধি :
১.পরিচিতি-
ধান ও গমের তুলনায় ভুট্টার পুষ্টিমান বেশি। এতে প্রায় ১১% আমিষ জাতীয় উপাদান রয়েছে। হলদে রংয়ের ভুট্টা দানায় প্রতি ১০০ গ্রামে প্রায় ৯০ মিলিগ্রাম ক্যারোটিন বা ভিটামিন এ থাকে। ভুট্টার দানা মানুষের খাদ্য হিসেবে এবং ভূট্টার গাছ ও সবুজ পাতা উন্নত মানের গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য হিসেবেও এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। শুধু পশু, মুরগির খামার ও মাছের চাহিদা মিটানোর জন্যই বছরে প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার টন ভুট্টা দানা প্রয়োজন। বাংলাদেশে ভুট্টার আবাদ দ্রুত বাড়ছে।
২.ব্যবহার-
ভুট্টার দানা মানুষের খাদ্য হিসেবে এবং ভুট্টার গাছ ও সবুজ পাতা উন্নত মানের গোখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য হিসেবেও এর যথেষ্ট গুরূত্ব রয়েছ। শুধু পশু, মুরগির খামার ও মাছের চাহিদা মিটানোর জন্যই বছরে প্রায় ২ লক্ষ ৭০ হাজার টন ভুট্টা দানা প্রয়োজন। বাংলাদেশে ভুট্টার জমি দ্রুত বাড়ছে।
৩.মাটি –
লবনাক্ত মাটি ছাড়া প্রায় সব মাটি ভুট্টা চাষের জন্যে উপযুক্ত।তবে দোয়াস ,বেলে দোয়াস ,এঁটেল দোয়াস মাটিতে ভুট্টা ভালো জন্মে। জল জমে না এমন মাটিতে চাষের জন্যে উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়।
৪.ভুট্টা চাষের সময় –
সঠিক সময়ে বীজ রোপন করা (পহেলা নভেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বীজ রোপন করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়)
৫.বীজের নাম –
চ্যাম্পিয়ন-(৩৩৩-৫৫৫ একর প্রতি ফলন: ১১০-১৩০ মন)
যুবরাজ -(একর প্রতি ফলন: ১১০-১৩০ মন)
রকেট-৫৫ (একর প্রতি ফলন: ১১০-১৩০ মন)
দূর্জয়-৫৫৭৭ (একর প্রতি ফলন: ১০০-১২০ মন)
সুপর সাইন ২৭৯৬ -(একর প্রতি ফলন: ১১০-১৩০ মন)
আরো অনেক বীজ আছে।
৬.জমি প্রস্তুতি –
মাটির প্রকৃতি অনুযায়ী চাষের সংখ্যা নির্ভর করে। জমিতে ৪-৫বার লাঙ্গল ও মই দিয়ে জমির মাটি বেশ ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। রোপনের আগে জমি সমতল ও জন নিকাশের ব্যবস্থা করতে হবে। ভুট্টা রোপনের জন্যে মাটির খোদাই ভালো হওয়া উচিত। এর জন্যে ভালো মাটি উর্বর করতে হবে।
৭. বীজ রোপন – অতিরিক্ত ছোট দানা বা ভঙ্গা বীজ রোপন না করা।
৮.বীজ রোপনের দুরুত্ব –
উত্তর দক্ষিণ দিকে সারি দিতে হবে, (সারি থেকে সারি ৬০ সে:মি: বীজ থেকে বীজের দুরত্ব ২৫ সে: মি: গভীরতা ২-৩ সে:মি:)
৯.পোকা মাকড় ব্যবস্থাপনা-
ভুট্টার চারা অবস্থায় কাটুই পোকার আক্রমণ হলে কীটনাশক দিতে হবে।
১০.আগাছা দমন ব্যবস্থা –
ভুট্টা চাষে আগাছা একটি প্রধান সমস্যা ,আগাছার কারণে প্রাক খরিফ ও খরিফ মরসুমে প্রায় ৩৫ শতাংশ ফসল নষ্ট হয়। এই সময় ভুট্টা ও আগাছার মধ্যে বেড়ে ওঠার প্রতিযোগিতা চলে ফলে খাদ্য সংকট তৈরী হয় জমিতে। আগাছা দমন এর জন্য, মিমপেক্স এগ্রো ( কপটার) , সিনজেনটা ( ক্যালারিস) ইত্যাদি।
ঔষধ পানির সাথে মিশিয়ে স্প্রে করে আগাছা ভালো ভাবে ভিজিয়ে দিতে হবে।
১১. সার প্রয়োগ –
বীজ রোপনের আগে দিন একর প্রতি ইউরিয়া -২০ কেজি ,ডিএপি ১০০ কেজি , পটাশ ২৫ কেজি ,জিঙ্ক -২০ কেজি একর প্রতি দিয়ে মাটির সাথে মিশিয়ে চাষ দিয়ে রাখতে হবে। ভুট্টা গাছ দুই ফুট বা ১মাস বয়স হলে একর প্রতি ইউরিয়া ২০০ কেজি দিয়ে সেচ প্রয়োগ করতে হবে।
১২.সেচ প্রয়োগ –
বেলে দোআঁশ মাটিতে ২/৩ বার সেচ দিতে হবে,
দোআঁশ মাটিতে ১/২ বার সেচ দিতে হবে।
১৩.ভুট্টা সংগ্রহ ও মাড়াই –
মােচা চকচকে খড়ের রং ধারণ করলে এবং পাতা কিছুটা হলদে হলে, দানার জন্য ভুট্টা সংগ্রহের উপযুক্ত হয়। গাছের মােচা ৭৫-৮০% পরিপক্ব হলে ফসল সংগ্রহ করা যাবে। মােচা সংগ্রহের পর শক্তিচালিত মাড়াই যন্ত্র দ্বারা দানা ছাড়িয়ে বাছাই-ঝাড়াই করে সংব্রক্ষণ করতে হবে।
একই জমিতে বার বার ভূট্টা আবাদ করা যাবে না।
একই জাতের ভূট্রা প্রতি বছর আবাদ না করে নতুন জাত নির্বাচন করা।
ভুট্টা চাষে কম সময়েই সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। অন্যান্য খাদ্যশস্যের চেয়ে কম পরিচর্যা ও কম সেচ খরচে ভালো ফলন হয় এবং দামও ভালো পাওয়া যায় বলে ভুট্টা চাষে কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন। ফলে ধারাবাহিকভাবে উৎপাদন বাড়ছে।



