
ভারতে বেড়াতে আসা বিদেশি নারীদের স্কার্টের মতো পোশাক না পরার ‘পরামর্শ’ দিয়েছেন দেশটির পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রী মহেশ শর্মা। একই সঙ্গে তিনি রাতে বিদেশি নারীদের একা রাস্তায় বের না হওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন।
মহেশ শর্মার এমন ‘পরামর্শ’ অবশ্য খুশি মনে গৃহিত হয়নি। উল্টো তার পরামর্শ নিয়ে চলছে জোর বিতর্ক। মহেশ শর্মার এমন কথা পরোক্ষভাবে এটা প্রমাণ করে দিচ্ছে, ভারত প্রকৃতপক্ষে বিদেশি নারীদের জন্য নিরাপদ নয়। গত কয়েক বছরে ভারতে বেড়াতে বেশ কয়েকজন বিদেশি নারী শ্লীলতাহানীর শিকার হয়েছেন।
মহেশ শর্মা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন যে, ‘বিদেশিরা ভারতে এলে বিমাবন্দরে তাদের হাতে কী করা যাবে আর কী করা যাবে না, এ সংক্রান্ত একটি তালিকা ধরিয়ে দেয়া হবে। তাতে বলে দেয়া হবে যে, তারা যখন কোনো ছোট জায়গায় যাবেন, তখন যাতে স্কার্টের মতো ছোট পোশাক না পরেন এবং রাতে একা না বের হন।’
Women had greater freedom to wear clothes of their choice in Vedic times than they have in Modi times
https://t.co/8nKdRAhXIC — Arvind Kejriwal (@ArvindKejriwal) August 29, 2016
মন্ত্রীকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো, ভারতে বেড়াতে আসা বিদেশি নারীদের নিরাপত্তা কিভাবে নিশ্চিত করা হবে, তা নিয়ে। জবাবে তিনি এই উত্তর দেন। যা ভারতে প্রবল বিতর্ক তৈরি করেছে।
এ সময় তিনি এটাও বলেন যে, বেড়াতে আসা বিদেশিদের জন্য আলাদা পোশাক-বিধান তৈরি করার কোনো ইচ্ছে সরকারের নেই। এরপর তিনি বলেন, ‘ভারত একটি সংস্কৃতিমনা দেশ। এখানে বহু মন্দির আছে। সেখানে ঢোকার কিছু বিধানও আছে। সেগুলো মাথায় রাখাও প্রয়োজন।’
নিজের বক্তব্যের পক্ষে যুক্তিও দিয়েছেন মহেশ শর্মা। কিন্তু তার যুক্তিতে খুব একটা কান দিচ্ছেন না সমালোচকরা। মহেশ বলেন, ‘আমি নিজে দুজন কন্যার পিতা। সুতরাং পোশাক পরিচ্ছদে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা আমার কাজ নয়। তারপরও সাবধান হওয়া তো দোষের কিছু না।’
এ দিকে মন্ত্রীর এই কথার কড়া সমালোচনা করেছেন আম আদমী পার্টির প্রধান ও দিল্লির স্থানীয় সরকার প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল। তিনি বলেন, ‘বৈদিক যুগেও ভারতে নারীদের পোশাক পরার স্বাধীনতা ছিলো। কিন্তু মোদির যুগে সেটা আর নেই।’




