খেলা

ভারতকে বৃষ্টি আইনে হারালো বাংলাদেশ যুবারা

বিশ্বকাপে আশাজাগানিয়া পারফরম্যান্সের পরে বাংলাদেশ জাতীয় দল নিয়ে সবার প্রত্যাশা ছিলো আকাশ চূড়ায়। সেই জাতীয় দল মাশরাফি ও সাকিব ছাড়া শ্রীলঙ্কার সিংহরা টাইগারদের কে বিড়াল বানিয়ে তুলোধুনো করে ছেড়েছে। সেইদিক দিয়ে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কান্ডারিরা ছড়ি ঘুরাচ্ছেন সদ্য বিশ্বকাপ শেষ হওয়া দেশ ইংল্যান্ডে।
ইংল্যান্ডে অনূর্ধ্ব-১৯ ত্রিদেশীয় সিরিজে ভারতের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর জয় পেয়েছেন বাংলাদেশের যুবারা। শেষ ওভারে নাটকীয়তা এবং অধিনায়ক আকবর আলির দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ডিএল মেথডে প্রতিবেশী যুবাদের ২ রানে হারান তারা।
৩৬ বলে হারা না মানা ৪৯ রানের ম্যাচ উইনিং ইনিংস খেলেন আকবর। এ জয়ে ৫ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠে এলো বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে এর আগের দেখায় পরাজয় বরণ করেন টাইগার যুবারা। তাদের বিপক্ষে আরেকটি ম্যাচ বৃষ্টির কারণে বাতিল হয়ে যায়।
বৃষ্টির কারণে ম্যাচের দৈর্ঘ্য কমে আসে ৩৬ ওভারে। টসে জিতে আগে ভারতকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক আকবর। ব্যাটিংয়ের শুরুটা দেখেশুনে করে ‘ছোট’ টিম ইন্ডিয়া। দলীয় ৩৩ রানে প্রতিপক্ষ শিবিরে প্রথম আঘাত হানেন পেসার শরিফুল ইসলাম। ওপেনার ইয়াশ জেসওয়ালের উইকেট তুলে নেন তিনি।
দ্বিতীয় উইকেটে প্রগনেশ ও অপর ওপেনার কামরান ইকবাল মিলে দলের হাল ধরেন। ৪৪ রান করে শামিম হোসেনের বলে ফেরেন কামরান। পরে ভারতের ইনিংস লম্বা করার জন্য লড়তে থাকেন অধিনায়ক ধ্রুব জুরেল ও প্রগনেশ।
দুজনই তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি। ৯৭ রানের জুটি গড়ার পর ইনিংসের ৩১তম ওভারে প্রগনেশকে সাজঘরে ফেরান শাহিন আলম। খানিক পর ব্যক্তিগত ৭০ রান করে ফেরেন অধিনায়ক ধ্রুব। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৩৬ ওভারে ৫ উইকেটে ২২১ রান সংগ্রহ করেন মেন ইন ব্লুদের ছোটরা।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় বাংলাদেশ। সাজঘরে ফেরেন ওপেনার তানজিদ হাসান। এর পর নামে বৃষ্টি। এতে কিছুক্ষণ খেলা বন্ধ থাকে। পরে শুরু হলে ওভার কমে আসে। জয়ের জন্য বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ২১৮ রান।
সেই লক্ষ্যে পারভেজ হোসেন ইমন ও মাহমুদুল হাসান জয় মিলে দলের স্কোরবোর্ডে রান যোগ করেন। ২০ রান করে কার্তিক তিয়াগির বলে আউট হন জয়। চার নম্বরে নামা তৌহিদ হৃদয়কে নিয়ে দলকে ১০০-এর ওপর নিয়ে যান ইমন। তিনি তুলে নেন হাফসেঞ্চুরি।
কিন্তু ৪৫ বলে ৫১ রান করার পর রবি বিশ্নইর বলে ফিরে যান ইমন। খানিক বাদে ৩০ রানে বিদায় নেন হৃদয়। একটু পরই শাহাদাত হোসেনের উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে বসে বাংলাদেশ।
এমতাবস্থায় শামিম হোসেনকে নিয়ে লড়াই শুরু করেন অধিনায়ক আকবর। সেই যাত্রায় শক্ত সমর্থন জোগাতে পারেননি শামিম। ২২ রান করে মিশ্রর বলে বিদায় নেন তিনি। এ সময় শেষ ৩৬ বলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৫১ রান, হাতে ছিল ৪ উইকেট।
এ প্রেক্ষাপটে মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরীকে নিয়ে সংগ্রাম শুরু করেন আকবর আলি। ১৬ রান করে মৃত্যুঞ্জয় বিদায় নিলে শুরু হয় আকবরের একার যুদ্ধ। শেষ ৬ বলে জিততে সমীকরণ দাঁড়ায় ৭ রান। ৪৩ রানে ক্রিজে ছিলেন আকবর। শেষ পর্যন্ত স্নায়ুচাপ ধরে রেখে দারুণ ব্যাটিং করে ৩ বল বাকি থাকতে বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে নোঙর করান তিনি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button