প্রবাসশিরোনাম

ব্রাজিলে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত : বড়লেখার মুত্তাকিনের স্বপ্ন ভেঙে চুরমার

ভাগ্য বদলের আশায় ব্রাজিলে গিয়েছিলেন মৌলভীবাজারের মুত্তাকিন। কিন্তু সন্ত্রাসীদের একটি বুলেট তছনছ করে দিয়েছে মুত্তাকিন ও তার পরিবারের স্বপ্ন। গত শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে ব্রাজিলের সাও পাওলো শহরে সন্ত্রাসীদের গুলিতে মারা যান মুত্তাকিন আহমদ রায়হান। নিহত রায়হান উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের চর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে। রায়হানের মৃত্যুতে তার পরিবার ও এলাকায় শোক নেমেছে।
পারিবারিক ও ব্রাজিলপ্রবাসী সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে কয়েক বছর আগে ব্রাজিলে পাড়ি জমান রায়হান। সেখানে তিনি ট্যাক্সি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রতিদিনের মতো রায়হান শুক্রবার সন্ধ্যায় ট্যাক্সি নিয়ে বের হন।
রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে সাও পাওলো শহরে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে হত্যা করে।
এদিকে রায়হানকে হত্যার দৃশ্য সেখানকার একটি সিসি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। ওই ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। এক মিনিট ৪৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, রায়হানের সাদা রঙের ট্যাক্সি রাস্তার পাশে দাঁড় করানো। এরপর ওই গাড়ি থেকে এক তরুণী নেমে আসেন। হঠাৎ তিন দুর্বৃত্ত ওই গাড়ির কাছে যায়। কিছুক্ষণ পর তারা গাড়িতে থাকা রায়হানকে গুলি করে দৌড়ে পালায়। তবে ঠিক কী কারণে রায়হান খুন হয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো তথ্য জানা যায়নি।
স্থানীয় প্রবাসীদের একটি সূত্র জানিয়েছে, টাকা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা রায়হানকে গুলি করে হত্যা করেছে। এদিকে খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। একই সঙ্গে হত্যা রহস্য উদঘাটনের জন্য মাঠে নেমেছে পুলিশ।
ব্রাজিল প্রবাসী কামরুল ইসলামসহ অনেকেই মুঠোফোনে জানান, রায়হান খুব ভালো ছেলে ছিল। মাঝেমধ্যে তার সঙ্গে দেখা হতো। কয়েক বছর আগে সে ব্রাজিলে এসেছে। এখানে ট্যাক্সি চালিয়ে টাকা উপার্জন করতো। গত শুক্রবার রাতে ট্যাক্সি নিয়ে বেরিয়েছিল। হঠাৎ শুনেছি সে দুর্বৃত্তদের গুলিতে খুন হয়েছে। আমরা সেখানকার একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেছি। দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে দৌড়ে পালাচ্ছে। তবে কী কারণে তাকে হত্যা করলো ঠিক বলতে পারছি না। পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে। তার লাশের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন স্বজনরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button