sliderস্থানিয়

বোয়ালমারীতে অতর্কিত হামলায় বাড়ি-ঘর ভাংচুর, লুটপাট, আহত-১৫, আটক-২

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি : বোয়ালমারীতে অতর্কিত হামলায় একপক্ষের বাড়ি-ঘর ভাংচুর, লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে হামলা ও লুটপাট প্রতিহত করার সময় তিন গ্রামের আহত হয়েছে কমপক্ষে ১৫জন। হামলায় ১৮টি বসতঘর ও ৫টি দোকান ঘর ভাংচুর করা হয়। 

আজ সোমবার সকাল ৭ থেকে ১০টা পর্যন্ত এ হামলা, ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফরিদপুর সহকারী পুলিশ (মধুখালী সার্কেল) সুপার মো. আজম খান। 

পুলিশ, সরেজমিন ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ নভেম্বর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের পরমেশ্বরদী পশ্চিম পাড়া গ্রামের রাকিব শেখের ছেলে রাজ (৭) ও হারুন শেখের ছেলে রহমত (১০) নদীতে গোসল করা নিয়ে দুইজনের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনা মীমাংসার জন্য গত ২২ নভেম্বর রাতে স্থানীয়ভাবে শালিশ বৈঠক হয়। ওই শালিশে সন্তুষ্ট না হয়ে হারুন শেখ পাশের সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের মুশফিক বিল্লাহ (জিহাদ) ও টুলু মিয়ার ৪০০-৫০০ লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র রাম দা ও ঢাল-সড়কি নিয়ে পরমেশ্বরদী গ্রামের বাসিন্দা (ইউপি চেয়ারম্যান মান্নান মোল্লার সমর্থক) রাকিব শেখসহ ১৫-২০টি বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট চালাতে থাকে। এ খবর পরমেশ্বরদী, দূর্গাপুর ও তেলজুড়ী গ্রামে মাইকে ঘোষণা দিলে হামলা প্রতিহত করার সময় পরমেশ্বরদী, দূর্গাপুর ও তেলজুড়ি গ্রামের কমপক্ষে ১৫ জন আহত হয়। আহতদের বোয়ালমারী উপজেলা ও ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রসহ দুইজনকে আটক করে। 

হামলায় আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের অভিযোগ, পাশের সালথা উপজেলার খারদিয়া গ্রামের মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ ও টুলু মিয়ার লোকজনকে সাথে নিয়ে এ হামলা চালানো হয়েছে। তাদের দুই গ্রামের ১৮টি বসতঘর ও বাজারের ৫টি দোকান ভাঙচুর করে লুট করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় খারদিয়া গ্রামের মুশফিক বিল্লাহ জিহাদের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে (01715250459) একাধিকবার চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ক্ষতিগ্রস্ত আজাদ শেখ জানান, সকালে ঘুমিয়ে রয়েছি, হঠাৎ ভাংচুরের শব্দ শুনে ঘুম ভেঙে যায়। ঘুম থেকে উঠতে উঠতেই দেখি পরমেশ্বরদী গ্রামের ফয়সাল, মাসুদ ও মকসেদের খারদিয়া গ্রামের ৫-৬শ লোকজন ঢাল সড়কি দিয়ে হামলা চালাচ্ছে। আমি দৌড়ে পালিয়ে যায়। তারা আমার ঘর থেকে এনজিও লোন নেওয়া নগদ টাকাসহ দেড় ভরি স্বর্ণ নিয়ে যায়। তারা আমার গোয়াল থেকে দুইটি গাভী নিয়ে গেছে বাচুরসহ। 

আহতদের বিষয়টি নিশ্চিত করে বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাজমুল আলম জানান, মারামারির ঘটনায় পরমেশ্বরদী, তেলজুড়ি ও দূর্গাপুর গ্রামের ১৩জন ভর্তি হয়। এর মধ্যে ৫জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন। 

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী ফরিদপুর সহকারী পুলিশ (মধুখালী সার্কেল) সুপার মো.আজম খান সোমবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে জানান,খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কথা বলেছি। বাড়িঘর কোপানো হয়েছে। তবে লুটপাটের বিষয়টি কেউ বলেনি। আমার আগেই ওসি ও সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন সাহেব পৌচ্ছেছে। তিনি বলেন,পাশের সালথার খারদিয়া গ্রামের লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে দুইজনকে আটক করা হয়েছে। কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এ ঘটনায়। বিষয়টি নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button