বেলারুশে ভোটচুরি: টানা বিক্ষোভ অব্যাহত, আটক ৩০০ নারী

নির্বাচনে অনিয়ম ও ভোটচুরির বিরুদ্ধে বেলারুশে চলমান বিক্ষোভ টানা ছয় সপ্তাহ পার করল। শনিবারও হাজার হাজার মানুষ প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কোর পদত্যাগের দাবিতে নেমে আসে রাস্তায়।
বিবিসি জানায়, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী আরও কঠোর হয় এদিন। আটক করা হয় কয়েকশ নারী বিক্ষোভকারীকে।
রাজধানী মিনস্কে নারী বিক্ষোভকারীদের জমায়েতে হামলে পড়ে নিরাপত্তা বাহিনী। এ সময় বিক্ষোভকারীরা চিৎকার করে, ‘একমাত্র কাপুরুষেরাই নারীদের পেটাতে পারে।’
আটককৃতদের মধ্যে রয়েছেন বিক্ষোভে আইকনে পরিণত হওয়া ৭৩ বছর বয়সী নারী নিনা বাহিনস্কায়াও। তবে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়।
শনিবারের বিক্ষোভে যোগ দেয় দুই হাজারের মতো নারী। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের বাধা দেয় এবং একজন একজন করে তুলে নিয়ে যায়।
দেশটির মানবাধিকার গ্রুপ ভিয়াসনা জানায়, তিনশ’রও বেশি নারীকে এদিন আটক করেছে পুলিশ। তবে কর্তৃপক্ষ আটককৃতদের কোনো সংখ্যা জানায়নি।
৯ আগস্ট নির্বাচনে অভাবনীয় ব্যবধানে জিতে ফের ক্ষমতায় আসেন লুকাশেঙ্কো। তবে তার বিরুদ্ধে ভোটচুরি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে বিক্ষোভ শুরু করে বেলারুশের মানুষ।
সোভিয়েত আমলের পর এমন বড় বিক্ষোভ দেখল দেশটি। লক্ষাধিক মানুষের একাধিক সমাবেশে কেঁপে উঠে মিনস্ক। নিরাপত্তা বাহিনী শক্তি প্রয়োগ ও নির্বিচারে গ্রেপ্তার চালালেও বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে বেলারুশবাসী।
১৯৯২ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বেলারুশ। এর মাত্র দুই বছর পর দেশটির ক্ষমতায় আসেন লুকাশেঙ্কো। এর পর থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৬ বছর ধরে দেশের ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রেখেছেন তিনি। তাকে বলা হয় ইউরোপের শেষ স্বৈরাচার।
ভোটচুরির অভিযোগে টানা বিক্ষোভে ভিত নড়ে উঠলেও ক্ষমতায় অটল লুকাশেঙ্কো। রাশিয়ার সরাসরি সমর্থনে বিক্ষোভ দমনেও সচেষ্ট তিনি। দেশ রূপান্তর




