আন্তর্জাতিক সংবাদশিরোনাম

বেত্রাঘাতে সাজার বিধান তুলে দিচ্ছে সৌদি

বেত্রাঘাতে সাজার বিধান তুলে দিতে যাচ্ছে সৌদি আরব। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দেশটির সুপ্রিম কোর্টে এ সংক্রান্ত একটি নথি দেখার কথা জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। উপসাগরীয় দেশটির এ সর্বোচ্চ আদালত বেত্রাঘাতের বদলে অপরাধীকে কারাদণ্ড কিংবা জরিমানার সাজা দিতে বলেছে।
সৌদি বাদশা সালমান ও তার ছেলে মোহাম্মদের আনা মানবাধিকার সংস্কার কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই এ সিদ্ধান্ত, জানিয়েছে তারা।
বাদশাহ সালমানের ছেলে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ সৌদি আরবের দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে নারীদের গাড়ি চালানো, মাঠে গিয়ে খেলা দেখা, অভিভাবকের অনুমোদন ছাড়া পাসপোর্ট প্রাপ্তি ও বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা তুলে দিয়েছেন। তার হাত ধরে সাড়ে তিন দশক পর দেশটির সিনেমা হলগুলোও সচল করা হয়েছে।
তবে এত কিছুর পরও ভিন্নমতাবলম্বীদের দমন-পীড়ন আর তুরস্কের সৌদি কনসুলেটে সাংবাদিক জামাল খাশুগজিকে হত্যার ঘটনা সালমানের ভাবমূর্তিতে কালি লাগিয়ে দিয়েছে, বলছে বিবিসি। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, সৌদি আরবে মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করা হয়। শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেই তার জায়গা হয় কারাগারে।
দেশটিতে অপরাধীদের বেত্রাঘাতের সাজা দেওয়ার ঘটনাও নিয়মিতই দেখা যায়। সাইবার ক্রাইম ও ইসলাম অবমাননার শাস্তি হিসেবে ২০১৫ সালে সৌদি আরব ব্লগার রাইফ বাদাউয়িকে প্রকাশ্যে বেত্রাঘাতের সাজা দিলে তা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে স্থান পায়। বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা এবং বেত্রাঘাতে রাইফের মৃতপ্রায় হয়ে পড়ার খবর জানাজানি হলে ওই সাজা রহিত করা হয়।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভাবমূর্তি ঠিক করতে সৌদি আরব বেত্রাঘাতের সাজা তুলে নেওয়ার কথা ভাবলেও ভিন্নমতাবলম্বী এবং নারী অধিকারের জন্য আন্দোলনকারীদের ওপর রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও নির্যাতন কমেনি। শুক্রবারও দেশটির কারাগারে খ্যাতনামা এক মানবাধিকার কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হলেও সহকর্মীরা বলছেন, ওই মানবাধিকার কর্মীর স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা নিয়ে উদাসীন ছিল কর্তৃপক্ষ। পূর্বপশ্চিম।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button