অপরাধশিরোনাম

বুড়িগঙ্গা তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে এমপি আসলামুলের বাঁধা

বুড়িগঙ্গার তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) উচ্ছেদ অভিযানে বাধা দিতে বুড়িগঙ্গার তীরে হাজির হন ঢাকা-১৪ আসনের ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য আসলামুল হক।
বুধবার (৪ মার্চ ) বিআইডব্লিউটিএ’র উচ্ছেদ অভিযানের খবর পেয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দলবল নিয়ে সেখানে হাজির হন তিনি। তার সঙ্গে ওইসময় ছিল অন্তত ৭০ থেকে ৮০ জন লোক।
বছিলা সেতুর পশ্চিম পাশে বুড়িগঙ্গার তীরে নিজে এসে চলমান উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করার নির্দেশ দেন আসলামুল হক। তার এই বাধা উপেক্ষা করেই অভিযান চালাচ্ছে বিআইডব্লিউটিএ।
উচ্ছেদে বাধা দিয়ে আসলামুল হক এমপি বলেন, আমি আইনে যাব। আমি কি এভাবে ছেড়ে দেব নাকি? অন্যায়ভাবে স্থাপনা ভাঙ্গা হচ্ছে? আবার সীমানার বাইরে থাকা বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রেটিকে নদীর জায়গা আখ্যা দিয়ে সেখানে উচ্ছেদ পরিচালনা করা হচ্ছে দাবি করেন তিনি।
অভিযান পরিচালনাকারী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাবিবুর রহমান হাকীম বলেন, নিয়ম মেনেই অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হচ্ছে। বিআইডব্লিউটিএ সূত্র জানায়, এখনো সাড়ে তিন একর জমি সরকারি দলের এমপি আসলামের দখলে রয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটির উত্তর-পশ্চিমে ২৫০ ফুট ও দক্ষিণ-পশ্চিমে এক হাজার ফুট জায়গাসহ মোট পাঁচ একর জায়গা উদ্ধারে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে বাধা দেয়ার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই ব্যক্তির নাম মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি মাইশা গ্রুপের সমন্বয়ক। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন সরকারি দলের এমপি আসলামুল হক। তিনি উচ্ছেদ অভিযান ঠেকাতে বিআইডব্লিউটিএ›র কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। এসময় তিনি তার স্থাপনা বৈধ বলে দাবি করেন।
এমপি আসলামের দাবি, আদলত এবং নদী কমিশন যে যৌথ জরিপ করেছে তাতে তার স্থাপনা অবৈধ হওয়ার কোনো প্রমাণ নেই।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আসলামুল হক যখন ঘটনাস্থলে আসেন তখন তার সঙ্গে অন্তত ৭০ থেকে ৮০ জন লোক সেখানে আসেন। তখন তাদের ধাওয়া দিয়ে এই এলাকা থেকে বের করে দেওয়া হয়। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএ দুটি এক্সকাভেটর দিয়ে আসলামুল হকের ভরাট করা জায়গায় অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করছে।
পূর্বপশ্চিম

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button