
মোহাম্মদ আলী, মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি: মানিকগঞ্জে চলছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ক্লাসের নামে (প্রাইভেট) বানিজ্য, কর্তৃপক্ষের নেই কোন কার্যকরী পদক্ষেপ। শিক্ষা মন্ত্রনালয় কর্তৃক স্বারক নং-শিম/শা:১১/৩-৯/২০১১/৪০১ এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২ শিরোনাম :এ নীতিমালা” শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২ নামে অভিহিত”।
এ নীতিমালার অনুচ্ছেদ (-০১-ছ) উল্লেখ আছে,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম চলাকালীন শিক্ষকদের নির্ধারিত ক্লাসের বাহিরে বা এর পূর্বে অথবা পরে শিক্ষক কর্তৃক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে/বাহিরে কোন স্থানে পাঠদান করাকে কোচিং বোঝাবে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরেজমিনে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা গেছে,শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের সরকারী এ নীতিমালা অমান্য করেই জমজমাট (কোচিং-প্রাইভেট) বানিজ্য প্রতিনিয়ত চালিয়ে যাচ্ছে এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক কিছু শিক্ষকবৃন্দ।
এ নীতিমালার অনুচ্ছেদ-(০১-জ)উল্লেখ আছে,প্রাইভেট টিউশনি বলতে শিক্ষকের নিজ গৃহে কিংবা শিক্ষার্থীর গৃহে পাঠদান বোঝাবে।
অথচ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা গেছে, এই নীতিমালা অমান্য করেই নিজ প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের বাহিরে চলছে (কোচিং-প্রাইভেট) বানিজ্য।
অনুচ্ছেদ-০২ উল্লেখ আছে,শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম চলাকালীন শ্রেণি সময়ের মধ্যে কোন শিক্ষক কোচিং বা প্রাইভেট পড়াতে পারবে না। তবে, (ক)শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতিক্রমে অতিরিক্ত ক্লাসের ব্যবস্থা গৃহন করতে পারবে।
(খ)এ ক্ষেত্রে প্রতি বিষয়ে মেট্রোপলিটন শহরে মাসিক সর্বোচ্চ ৩০০/-(তিনশত) টাকা, জেলা শহরে ২০০ /(দুইশত) টাকা এবং উপজেলা বা স্থানীয় পর্যায়ে ১৫০ (একশত পঞ্চাশ) টাকা রশিদের মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ক্লাস পরিচালনার জন্য আগ্রহী শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে ফি আকারে গ্রহন করা যাবে সর্বোচ্চ ১.২০০/(এক হাজার দুইশত) টাকার অধিক হবে না। একটি বিষয়ে মাসে সর্বনিম্ন ১২ (বার) টি ক্লাস অনুষ্ঠিত হতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে প্রতিটি ক্লাসে সর্বোচ্চ ৪০ (চল্লিশ) জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহন করতে পারবে।
অথচ এই নীতিমালা অমান্য করেও অতিরিক্ত ক্লাসের নামে জন প্রতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে বিষয় ভিত্তিক সাবজেক্ট প্রতি সর্বনিম্ন ৩০০ টাকা দুটি সাবজেক্ট (৫০০) টাকা। উপজেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানতে পারা গেছ,নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু শিক্ষার্থী আমাদেরকে জানায়, আমরা বোর্ড পরীক্ষার্থী ও টেস্ট পরীক্ষার পর থেকে আমাদের প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ক্লাসবাবদ জন প্রতি ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে প্রতি সাবজেক্ট প্রতি ৩০০ টাকা নেওয়া হয়েছে যা শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও তারা বিভিন্ন কৌশলে টাকা আত্মসাৎ করছে এবং টেস্ট পরীক্ষায় অকৃতকার্য হলে কৃতকার্য পরীক্ষার্থী হওয়ার জন্য বিকল্প পরীক্ষার নামে বোর্ড পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করার জন্য অনেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের সাবজেক্ট প্রতি ৩০০০-৫০০০ টাকা নিয়েছে আদিকাল থেকেই এরকম স্টেম চালু হয়ে আসছে। আমরা শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছি। বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির কাছে জানিয়ে ও হয়নি কোন সুরাহা এবং প্রতিষ্ঠান প্রধানও নেয়নি কোন কার্যকরী পদক্ষেপ।
বিষয়টি নিশ্চিতকরণের জন্য এর আগেও হরিরামপুর উপজেলার বিভিন্ন মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকদের সাথে এ বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার কথা বলে জানতে পারা যায়,প্রতিষ্ঠান প্রধান সাংবাদিকদের জানান,অতিরিক্ত ক্লাসবাবদ আমরা সীমিত টাকা নেই, আর বোর্ড পরীক্ষায় অংশ গ্রহন শিক্ষার্থীদের ব্যাপারের বিষটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাপার তবে এরকম গুরতর অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন অনেক প্রতিষ্ঠানের প্রধান।(কোচিং-প্রাইভেট)বাণিজ্যর ব্যাপারে আমরা সর্বদা তৎপর আছি, কোন অভিভাবক কর্তৃক লিখিত অভিযোগ পেলে শিক্ষকের ব্যাপারে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নিবো বলে আশ্বাস দেন।
নীতিমালা অনুচ্ছেদ(১৪)উল্লেখ আছে,এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত কোন শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকলে তার এমপিও স্থগিত,বাতিল ভাতাদি স্থগিত,বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত, বেতন একধাপ অবনমিতকরণ,সাময়িক বরখাস্ত, চুড়ান্ত বরখাস্ত ইত্যাদি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষের গ্রহন করবেন।
(খ) এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমপিও বিহীন কোন শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকলে তার প্রতিষ্ঠান প্রদত্ত বেতন ভাতাদি স্থগিত, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত, বেতন একধাপ অবনমিতকরণ,সাময়িক বরখাস্ত, চুড়ান্ত বরখাস্ত ইত্যাদি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
(ঘ)কোচিং বাণিজ্যের সাথে জড়িত শিক্ষক এর বিরুদ্ধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন না করলে সরকার পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া সহ সংশিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি,স্বীকৃতি, অধিভুক্ত বাতিল করতে পারবে।
এছাড়াও নীতিমালার অনুচ্ছেদ( ১৪-ঙ) উল্লেখ আছে, সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন শিক্ষক কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খল ও আপীল) বিধি মালা ১৯৮৫ এর অধীনে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নিগার সুলতানা চৌধুরী জানান, এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ কেউ দেয়নি, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ভিত্তিতে তদন্তপূর্ব ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে ।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কোহিনূর আক্তার মুঠোফোন সাংবাদিকদের জানায়, আমি এ বিষয়ে অবজ্ঞত ছিলান না, লিখিত কোন অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।



