আইন আদালতশিরোনাম

বার কাউন্সিল পরীক্ষার হলে হলে তাণ্ডব, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের একটি অংশ হলে হলে তাণ্ডব চালিয়েছে। এ সময় তারা শিক্ষার্থীদের খাতাপত্র টেনে ছিঁড়ে ফেলে এবং তাদেরকে পরীক্ষার হল থেকে বের করে দেয়। তাণ্ডবের কারণে অধিকাংশ কেন্দ্রে পরীক্ষা পণ্ড হয়ে গেছে।
এ কারণে বিপদে পড়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, এসব কেন্দ্রের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে ফের পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, রাজধানীর নয়টি কেন্দ্রে আজ শনিবার সকাল ৯টা থেকে আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্তির জন্য বার কাউন্সিলের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়। এতে ১৩ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিটের মধ্যে ‘প্রশ্ন কঠিন হয়েছে’ এমন দাবি তুলে এবং অনবরত স্লোগান দিয়ে পরীক্ষা বর্জন শুরু করে দুটি কেন্দ্রের শিক্ষার্থীরা। কেন্দ্র দুটি হলো মোহাম্মদপুর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজ।
এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরীক্ষার্থী জান্নাতুল পলি এনটিভি অনলাইনকে বলেন, সকাল ৯টায় পরীক্ষার হলে বসি। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর খাতাপত্রে আমরা লেখার প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। এ সময় পুরো কেন্দ্রে হৈ চৈ শুরু হয়ে যায়।
‘প্রশ্ন অনেক কঠিন ও জটিল করা হয়েছে। তবু লেখার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু কিছু শিক্ষার্থী ক্ষুব্ধ হয়ে কেন্দ্রের মধ্যে আন্দোলন করে ভাঙচুর শুরু করে এবং শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা অংশগ্রহণে বাধা দেয়।’
জান্নাতুল পলি আরো বলেন, ‘পরিস্থিতি ভাল না দেখে পরে খাতাপত্র জমা দিয়ে চলে আসি। কিছু শিক্ষার্থী লিখতে চাইলেও পরীক্ষার হলরুমে তাদের বসতে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় পরীক্ষা না দিতে পেরে অনেক পরীক্ষার্থী কান্নায় ভেঙে পড়ে।’
পরীক্ষার নির্ধারিত সময় ছিল চার ঘণ্টা- সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত। মোহাম্মদপুর সরকারি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ১১টা পর্যন্ত ভাঙচুর ও তাণ্ডব চলে। এ কারণে পরীক্ষার প্রথম দুই ঘণ্টা কোনো পরীক্ষার্থী কিছুই লিখতে পারেনি। পরবর্তীতে ১১টার দিকে হল সুপার এবং জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেন। তখন শিক্ষার্থীদেরকেও কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরীক্ষার্থীরা কেন্দ্র এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
একই অবস্থা হয় মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজ, মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ ও বিসিএসআইআর হাইস্কুলে। কিছু শিক্ষার্থী অন্য কেন্দ্র থেকে ওসব প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পরীক্ষা বন্ধ করে দেয়। পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজারের ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজেও একই ঘটনা ঘটে বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছে।
মোহাম্মদপুর মহিলা কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী সাদেকুর রহমান এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘দেড় ঘণ্টা পরীক্ষা দেওয়ার পর হঠাৎ হৈ চৈ শুনি, মিছিল নিয়ে একদল এসে আমাদের খাতা ছিঁড়ে ফেলে। শুনেছি, অনেক কেন্দ্রে পরীক্ষা হয়েছে। এখন আমাদের কী হবে? আমরা তো প্রস্তুতি নিয়েই পরীক্ষায় বসেছিলাম।’
ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজের পরীক্ষার্থী আশিকুর রহমান এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘পরীক্ষার হলে বসার দুই মিনিটের মধ্যে কিছু শিক্ষার্থী আন্দোলন শুরু করে। পরীক্ষা বর্জনের ঘোষণা দিয়ে অনেক শিক্ষার্থী হল থেকে বের হয়ে যায়। এক ঘণ্টা পর খাতা কেড়ে নেওয়াসহ ঝামেলা শুরু হয়। একপর্যায়ে এক ঘণ্টা পর র‍্যাবের সহায়তায় হলে আটকেপড়া পরীক্ষার্থীদের নিয়ে আবার পরীক্ষা শুরু হয়।’
বিসিএসআইআর হাইস্কুলের পরীক্ষার্থী সজিব এনটিভি অনলাইনকে বলেন, ‘বার কাউন্সিলের লিখিত পরীক্ষায় সাতটি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। আমি পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর লিখেছি, এমন সময় বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটের দিকে বাইরে থেকে কিছু লোক হলে প্রবেশ করে জোর করে খাতা নিয়ে যায়। আমি না দিতে চাইলে তারা অকথ্যভাষায় গালাগাল করে।’
তবে এ ব্যাপারে চেষ্টা করেও পরীক্ষা বর্জনকারীদের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। যদিও তাদের মধ্যে অনেককে বলতে শোনা গেছে, এবারের প্রশ্ন অত্যন্ত কঠিন হয়েছে। বার কাউন্সিলের ইতিহাসে কখনো এ ধরনের প্রশ্ন হয়নি। এ কারণে সরাসরি ভাইভা নিয়ে নির্বাচিতদের গেজেট প্রকাশের দাবির কথা বলেন তারা।
এ বিষয়ে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন এনটিভি অনলাইনকে বলেন, আমরা সব কেন্দ্রের হল সুপারদের থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পর সার্বিক সিদ্ধান্ত নিব। তবে যারা পরীক্ষা দিয়েছেন, তারা তো দিয়েছেন। আর যারা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীদের কারণে পরীক্ষা দিতে পারেননি, বিষয়টি প্রমাণ করতে পারলে তাদের বিশেষ ব্যবস্থায় পরীক্ষা গ্রহণের কথা বিবেচনা করা হবে।’
সুত্র : এনটিভি

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button