বরেন্দ্র ভূমিতে খরা তাপ ও বজ্রপাত সহনীয় দৃষ্টিনন্দন তালসড়ক

জনি আহমেদ, নিয়ামতপুর(নওগাঁ)প্রতিনিধিঃ বরেন্দ্র অঞ্চলে চৌত্র ও বৈশাখ মাস যেন রুক্ষ হয়ে উঠে প্রকৃতি। এরই মধ্যে রুক্ষ ভূমিতে প্রশান্তি ও শোভা বর্ধনকারী হয়ে উঠেছে তালগাছগুলো। খরা তাপ ও বজ্রপাত সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নওগাঁ জেলার নিয়ামতপুরের বিভিন্ন সড়কে লাগানো হয়েছে তালগাছ।
স্থানীয় এরকম একটি সড়ক তালসড়ক হিসেবেই পরিচিতি পেয়েছে মানুষের মাঝে। তালগাছ শুধু যে উচ্চতায় সব গাছকে ছাড়িয়ে যায়, বিষয়টি এমন নয়। এছাড়াও বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গেও তালগাছ জড়িয়ে আছে ওতপ্রোত ভাবে। আশি দশকে তালগাছের পাতা দিয়ে তালপাখার বাতাস না হলে মন জুড়াত না। বর্তমানে এসবের ব্যবহার কমেছে। কিন্তু আজও তালের পিঠা, গুড়ের পায়েস কিংবা তালের রুটি না খেলে বাঙালির মন জুড়ায় না।
আর বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে তালগাছের তো বিকল্প নেই। তাই এখনো বিভিন্ন সড়কের পাশে, বাড়ির পাশে, জমির ধারে লাগানো হচ্ছে তালগাছ। সবুজ মাঠের বুক চিরে নিয়ামতপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে হাজীনগর ইউনিয়নের অবস্থিত ছোট্ট একটি গ্রাম ঘুঘুডাঙ্গা। মজুমদার মোড় থেকে ঘুঘুডাঙ্গা গ্রাম পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তার দুই ধারে প্রায় ৬০০ তালগাছ দাঁড়িয়ে আছে। বৃক্ষপ্রেমী ও ভ্রমণ পিয়াসীরা আসেন ঘুঘুডাঙ্গা তালসড়কে।
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ) ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরেন্দ্র অঞ্চলে তালগাছ সহ অন্যান্য বড় বড় গাছ হারিয়ে যাওয়ায় বজ্রপাত বেড়ে গিয়েছে। বজ্রপাত বেড়ে যাওয়ায় কৃষকেরা মাঠে-খাটে কাজ করতে গিয়ে মারাও যাচ্ছে। উপজেলার হাজিনগর ইউনিয়নের ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামের ফারুক বলেন, গত কয়েক বছর থেকে এ সড়কটি তালতলি হিসেবে পরিচিত পেয়েছে। দূর-দুরান্ত থেকে মানুষ প্রতিদিনই দেখতে আসছে। তালতলিতে অস্থায়ীভাবে কয়েকটি দোকান হওয়ায় বেশ কয়েকজনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বৃক্ষপ্রেমী মোস্তাকিন হোসেন বলেন, ফেসবুক ও ইন্টারনেটে এ জায়গাটির কথা শুনেছি। তবে কখনো আসা হয়নি।
সময় করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছুটে আসা। জায়গাটি অনেক সুন্দর। হাজিনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক বলেন, রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় তাল গাছের ছায়ায় এক অন্যরকম প্রশান্তি অনুভব করি। সড়কের দুই পাশে দেখা মিলবে সবুজের ফসলের ক্ষেত। এটি একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছে অন্যদিকে এ জায়গাটি পর্যটকদের কাছে এখন বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হয়েছে।
উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ বলেন, গ্রামে এখন তেমন তালগাছ দেখা যায় না। এখানে একসাথে অসংখ্য তালগাছ এবং নির্মল পরিবেশ দেখে সত্যি মুগ্ধ হয়। তালগাছ শুধু সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য নয়, এখন প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।




