বদরগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাৎ অভিযোগের তদন্ত শুরু

রংপুর প্রতিনিধি : রংপুরের বদরগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মাজেদ আলী খানের বিরুদ্ধে ৪৬ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৯ টাকা আত্মসাৎসহ এক প্রভাষকের সনদপত্র জালিয়াতির অভিযোগে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের(মাউশি) নির্দেশে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে।
গতকাল রোববার দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত টানা ৭ ঘন্টা ধরে তদন্ত করেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। তদন্তকালে শিক্ষক-কর্মচারি, একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, অভ্যন্তরীন অডিট কমিটির সদস্য, ভুক্তভোগি প্রভাষক শামীম আল মামুন ও প্রভাষক নিরঞ্জন রায়ের সাক্ষাতকার নেয়া হয়। প্রথম দিনের তদন্ত শেষে তদন্ত কমিটির প্রধান ও রংপুর বেগম রোকেয়া কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর চিন্ময় বাড়ৈ সাংবাদিকদের বলেন, সবেমাত্র তদন্ত শুরু হলো তদন্ত শেষে বিস্তারিত জাানানো হবে। এর বেশি বলতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। পরবর্তী তদন্ত কার্যক্রম কবে শুরু হবে সে বিষয়েও তিনি কোন কথা বলতে রাজি হননি।
উল্লেখ্য- কলেজ একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চারজন কলেজ শিক্ষককে অভ্যন্তরীন অডিট সম্পন্ন করতে দায়িত্ব দেয়া হয়। এরা হলেন- ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুনীল চন্দ্র সরকার, প্রভাষক আব্দুল্লাহ আল মামুন, পরিসংখ্যান বিভাগের প্রভাষক মেনহাজুল ইসলাম এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক দেবাশীষ চক্রবর্তী। অডিট কমিটির সদস্যরা
২০১০ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০১৯ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত মোট ১০ বছরের অডিট সম্পন্ন করেন। মোট আয় ব্যয়ের নয়টি খাত চিহ্নিত করে অডিট সম্পন্ন করেন সদস্যরা। আর এতেই অধ্যক্ষের ৪৬ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৯ টাকার ঘাপলা ধরা পড়ে অডিট কমিটির কাছে। তবে ২০১২ সালে গঠিত বাংলা অনার্স এবং হিসাব বিজ্ঞান অনার্স শাখার অডিট সম্পন্ন হয়নি। কারণ
হিসেবে অডিট কমিটির সদস্যরা উল্লেখ করেছেন- বাংলা বিভাগের প্রধান মকবুল হোসেন খান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান মোস্তফা কামালের অসহযোগিতা এবং অনীহার কারণে ওই অডিট সম্পন্ন হয়নি। শুধুমাত্র উচ্চ মাধ্যমিক ও পাস কোর্সভুক্ত তহবিলের হিসাব-নিকাশ এতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অডিট কমিটির সদস্যরা প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন- বাংলা ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের দু’ প্রধান ও অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের বেতন ও অন্যান্য ফি কলেজের অফিস সহকারী বা ক্যাশিয়ারকে বাদ দিয়ে নিজেরা রশিদমূলে বা রশিদবিহীন আদায় করেছেন।
এদিকে বাংলা বিভাগের প্রভাষক শামীম আল মামুন তার সনদপত্র জালিয়াতি করেছেন অধ্যক্ষ- এমন অভিযোগ এনে রংপুরের সিনিয়র জুডিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। এছাড়া প্রভাষক নিরঞ্জন রায়ের বিরুদ্ধে সনদপত্র জালিয়াতির অভিযোগে বদরগঞ্জ থানায় মামলা করেছেন অধ্যক্ষ মাজেদ আলী খান নিজেই।
এসব বিষয় আমলে নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ সাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর(মাউশি) তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠণ করে।
কমিটির সদস্যরা হলেন- রংপুর বেগম রোকেয়া কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর চিন্ময় বাড়ৈ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর অঞ্চলের উপপরিচালক উমর ফারুক এবং সহকারী পরিচালক আনোয়ার পারভেজ।




