
ইত্তেফাক গোলটেবিল বৈঠক ‘মহানায়কের গল্প শুনি’তে নির্মলেন্দু গুণ
‘সমবেত সকলের মতো/ আমিও গোলাপ ফুল খুব ভালোবাসি/ রেসকোর্স পার হয়ে যেতে সে সব গোলাপের একটি গোলাপ/ গতকাল আমাকে বলেছে/ আমি যেন কবিতায় শেখ মুজিবের কথা বলি/ আমি তাঁর কথা বলতে এসেছি..।’ ৭৫’র ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের এক বছর পর ১৯৭৬ সালে বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত এক সাহিত্য সম্মেলনে কবি নির্মলেন্দু গুণ বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে গভীর আবেগময় লেখার ভাষা ছিল এটি।
আজো বললেন সেই গল্প, বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক কেমন ছিল, চোখে দেখা বঙ্গবন্ধুর জীবন-রাজনৈতিক দর্শন আর ঐতিহাসিক দিনগুলোর গল্প তরুণদের শোনালেন সেই কবি।
বৃহস্পতিবার ৪০ কাওরান বাজার, দৈনিক ইত্তেফাক কার্যালয়ে আয়োজিত জাতীয় শোকদিবস উপলক্ষে ‘মহানায়কের গল্প শুনি’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্য ও আলোচনায় এসব কথা বলেন কবি নির্মলেন্দু গুণ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেশবরেণ্য কবি নির্মলেন্দু গুণ, আলোচক হিসেবে ছিলেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন দৈনিক ইত্তেফাকের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আশিস সৈকত। আলোচ্য বিষয় ছিল: ব্যক্তি বঙ্গবন্ধু ও একজন রাজনৈতিক কবি, ধানমন্ডি-৩২’এর ইতিহাস, পাঠ্যসূচিতে বঙ্গবন্ধুকে যতটা জানি, বঙ্গবন্ধুর তরুণবেলা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ প্রদর্শন করা হয়। ইত্তেফাকের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক আশিস সৈকত বলেন, বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তরুণদের কাছে তৎকালীন ঐতিহাসিক ধারণা দিতে কবি নির্মলেন্দু গুণ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তাঁর জানাশোনা, অভিজ্ঞতা অনেক। শোকের মাসে সেজনই এই বৈঠকের আয়োজন।

এমন উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্মৃতিচারণা করে নির্মলেন্দু গুণ বলেন, বঙ্গবন্ধু জেলখানায় তখন তিনি বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠেননি। তখন থেকেই তাঁকে বঙ্গবন্ধু বলতে স্বস্তি পেতাম, বলতামও।
তৎকালীন গণমাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের স্বাধিকার আন্দোলন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং দৈনিক ইত্তেফাকের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন ছিল সে বিষয়ে কবি বলেন, বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক চিন্তা-ভাবনা মানিক মিয়ার সঙ্গে আলোচনা করতেন, সাম্প্রতিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই কথা হতো।’
আলোচনায় অংশ নেয়া ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আনিকা বুশরা ও আমীর মুরাদ তালুকদার, ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাকিয়া হক ও মানসী সাহা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ ত্বোহা ও শরিফুল ইসলাম শুভ, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের মোশারফ হোসেন ও প্রিয়াংকা চৌধুরী।
ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মুঈদ হাসান তড়িৎ। স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের হাসান ভূইয়া ও আমির হামজা, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মেহেদী হাসান রাব্বী ও স্বর্নালী আক্তার, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির রুপম কুমার সাহা, অনন্যা ও রুবায়েত রোজধানী।
ইত্তেফাক




