Uncategorized

বগুড়ায় বিষাক্ত মদপানে দুইদিনে ১২ জনের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি, বগুড়া : বগুড়ায় গত দু‘দিনে বিষাক্ত মদ বা রেকটিফাইড স্পিরিট পানে ১২ জন মারা গেছে। এরমধ্যে বগুড়া সদরেরে একই পরিবারের ৩ জনসহ ১০ এবং শাহজাহানপুরের ২ জন
মঙ্গলবার রাতে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শহরের পুরান বগুড়া দক্ষিণ পাড়ার মৃত রামপদ রবিদাসের ছেলে রামনাথ রবিদাস (৫৫) মারা যায়। এর আগে সোমবার মৃত রামনাথের ভাই প্রেমনাথ রবিদাস (৬০) ও তার ছেলে সুমন রবিদাস (৩৮) মারা যান। এ নিয়ে একই পরিবারের তিনজন মারা গেছেন।
মৃত অপর সাতজন হলেন শহরের পুরান বগুড়ার লোকমান প্রামাণিকের ছেলে রমজান আলী মিস্ত্রী (৪৫) কাটনারপাড়ার আবুল কাশেমের ছেলে সাবু কুলি (৫৫) মৃত ওছিমুদ্দিনের ছেলে মোজাহার বাবুর্চি (৬৫) ফুলবাড়ী সরকার পাড়ার আব্দুল জলিল (৬০) ও তার ছেলে পলাশ (৩৫) ভবের বাজারের তবিবর রহমানের ছেলে আলমগীর হোসেন (৪৫) ও কাহালু পৌর এলাকার আবুল কালাম (৬০)।
শাজাহানপুরে বিষাক্ত মদপানে মেহেদী হাসান (২৫) ও আবদুল আহাদ (৩০) নামে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। মেহেদী উপজেলার দুরুলিয়া গ্রামের গোলজার প্রামাণিকের ছেলে। তিনি পেশায় একজন সিএনজি টেকনিশিয়ান ও আহাদ উপজেলার কাটাবাড়িয়া গ্রামের আফতাব হোসেনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ভূমি সার্ভেয়ার। মঙ্গলবার তারা মারা যান।
স্থানীয়রা সূত্রে জানা যায়, গত রোববার রাতে উপজেলার রহিমাবাদ বি-ব্লক এলাকার বাসস্ট্যান্ডে রায়হান হোমিও হল নামের একটি দোকান থেকে মেহেদী অ্যালকোহল কিনে তা পান করেন। এরপর অসুস্থ হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মেহেদীর মৃত্যু হয়। একই দোকান থেকে আবদুল আহাদ অ্যালকোহল কিনে পান করেন এবং রাতে ঘরে থাকেন। এরপর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার পর বাড়িতেই রাখা হয়। কিন্তু মঙ্গলবার ভোরে শয়ন ঘর থেকে আহাদ বের না হওয়ায় দরজা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে তাকে বিছানায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
শাজাহানপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, দু’জনকেই ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত চলছে। রিপোর্ট পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত দু’দিনে এ নিয়ে বিষাক্ত মদপানে বগুড়া সদরে ১০ জনসহ মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ দিকে শহরের ফুলবাড়ী এলাকার পারুল হোমিও ল্যাবরেটরি ও পুরান বগুড়ার হোমিও চিকিৎসক শাহীনুর রহমানের চেম্বার সোমবার বন্ধ করে সংশ্লিষ্টরা গা ঢাকা দিয়েছে। এ দুটি স্থান থেকে আরএস কিনে পান করেছিল।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ূন কবির জানান, মৃত রঞ্জু মিয়ার ভাই মনোয়ার হোসেন মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় পারুল, পুনম, খান নামের তিনটিসহ কয়েকটি হোমিও হলের নামে মামলা দিয়েছেন। অভিযুক্ত হোমিও ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
এ ব্যাপারে বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা বিপিএম (বার) জানান, বগুড়ায় বিষাক্ত মদপানে এখন পর্যন্ত চারজন মারা গেছে। অন্য যাদের নাম এসেছে তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button